উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি    |    
প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
উখিয়া-টেকনাফ : শিক্ষাঙ্গনে অশনি সংকেত
চাকরির জন্য এনজিও’র পেছনে ছুটছেন শিক্ষার্থীরা
রোহিঙ্গাদের খাদ্য ও মানবিক সেবা দেয়ার জন্য প্রায় শতাধিক এনজিও উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে কাজ করছে। কাজ পরিচালনার জন্য এনজিওগুলে স্থানীয় শিক্ষিত বেকার যুব-তরুণীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিচ্ছে। আর চাকরির জন্য উখিয়া-টেকনাফের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা পড়–য়া শিক্ষার্থীরা এনজিওদের পেছনে ছুটছেন।
জানা গেছে, উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালী, ময়নারঘোনা, জামতলি, শফিউল্লাহ কাটা ও তাজনিমারখোলা রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে জানা যায়, ব্র্যাক, মুক্তি, এমএসএফ হল্যান্ড, এসিএফ, অক্সফার্ম, কারিতাস, ইফসা, হেলপ, পাল্স, কোস্টট্রাস্ট, টায়, টিকে, ইসলামিক রিলিভ, ফয়েজজুল্লাহ ফাউন্ডেশন, রেড ক্রিসেন্ট, ইউনিসেফ, ইউএনএইচসিআর, ডাব্লিউ এফপি, আইওএম, হেন্ডিক্যাপ, ফ্রেন্ডশিপ, কনসান ওয়ার্ল্ড ওয়াইট, হেলপিস, কোডেক, শেড, পিএইচসি, সিজেডএম, ঘরণী, নোঙ্র, ইসলামিক মিশন, গণস্বাস্থ্য, হোপ ফাউন্ডেশন, জাগরণী ফাউন্ডেশন, সেইভ দ্য সিলড্রেনসহ প্রায় শতাধিক এনজিও রোহিঙ্গাদের বিভিন্নভাবে মানবিক সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
এসব এনজিওতে চাকরি নেয়ার জন্য স্থানীয় স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীরা মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী চাকরি নিয়ে ক্যাম্পে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে। আর এর প্রভাব পড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের দাবি বর্তমানে তাদের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী উপস্থিতির হার আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। শিক্ষার্থীরা শিক্ষাকালীন বেতন ভাতার নামে নগদ হাতে পাওয়ার আশায় চাকরির পেছনে ছুটছেন। এতে তারা শিক্ষাজীবন থেকে ছিটকে পড়তে পারে।
শুক্রবার কুতুপালং ক্যাম্প ঘুরে কয়েকজন চাকরিজীবী শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, সাময়িক চুক্তিভিত্তিক চাকরি করে কিছু টাকা পেলে ক্ষতি কী? লেখাপড়ার তো কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। উখিয়া টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী শাহ আলম জানান, সে মাত্র এসএসসি পাস করে এইচএসসিতে ভর্তি হয়েছে। চাকরির কারণে টেস্ট পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি। একই কলেজের এইচএসসি প্রথমবর্ষের ছাত্র শরফুদ্দিন জানান, চাকরি পেয়ে প্রতি মাসের শেষে বেতন পেলে খুব ভালো লাগে। পড়ালেখার দিকে আর মন এগোয় না। ব্র্যাকে কর্মরত উখিয়া মহিলা কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী খালেদা বেগমের বাবা মীর আহমদ জানান, তার মেয়েটা পড়ালেখায় খুবই মেধাবী ছিল। ইচ্ছা ছিল তাকে ডাক্তারি পড়াব। কিন্তু চাকরির প্রলোভনে পড়ে সব শেষ হয়ে গেল। চাকরি শেষে বাড়িতে এসে বইখাতা মেলতে চায় না। ভোরে উঠে চাকরিতে যাওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
এভাবে একাধিক শিক্ষার্থীর অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে হতাশার কথা জানা গেছে। অনেকেই বলেছেন চুক্তিভিত্তিক এসব চাকরি চলে গেলে ছেলেমেয়েদের নিয়ন্ত্রণে রাখা অভিভাবকদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়বে।
২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এনজিওদের মাসিক সমন্বয় সভায় উখিয়া বঙ্গমাতা মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, ‘চলমান এইচএসসি টেস্ট পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের অধিকাংশই অংশগ্রহণ করেনি। খবর নিয়ে জেনেছি অনুপস্থিত শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন এনজিও সংস্থায় চাকরি নিয়েছে।’ তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ‘এনজিওদের কারণে উখিয়ার শিক্ষাঙ্গনে অশনি সংকেত দেখা দিয়েছে। তারা শিক্ষার পরিবেশ যেভাবে পাল্টে দিয়েছে, তাতে করে ছেলেমেয়েদের আগের অবস্থায় ফিরে আনা কঠিন হয়ে পড়বে।’
জানতে চাইলে ব্র্যাকের প্রোগ্রাম ম্যানেজার আলী আজম বলেন, চাকরির সাক্ষাৎকার নেয়ার সময় কোনো প্রার্থী ছাত্রছাত্রী বলে স্বীকার করেনি। সবাই বেকার দেখিয়ে অনুনয়, বিনয় করে চাকরি নিয়েছে।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত