খুলনা ব্যুরো    |    
প্রকাশ : ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
ওজোপাডিকোর শৃঙ্খলা ফেরাতে সিবিএ নেতাকে চাকরিচ্যুত

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রতিষ্ঠান ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) লিমিটেডের সিবিএ নেতা শেখ আলমগীরের চাকরি নবায়ন না হওয়ায় হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তার বিরুদ্ধে কর্মকর্তাদের গালিগালাজ করা, কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা, চাকরি ফেলে আত্মীয়স্বজনের নামে ঠিকাদারি ব্যবসা পরিচালনা করা, জোরপূর্বক কোম্পানির কক্ষ এবং গাড়ি দখল করে ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণে তার ওপর কোম্পানি কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরেই নাখোশ ছিল। সর্বশেষ কোম্পানির চাকরিবিধি অনুযায়ী তার চাকরিসীমা নবায়ন করেনি কর্তৃপক্ষ। ওজোপাডিকো সূত্রে জানা গেছে, ওজোপাডিকো সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক শেখ আলমগীর শ্রমিকদের ওপর নির্যাতনের পাশাপাশি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কোম্পানির কর্মচারী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও খারাপ ব্যবহার শুরু করেন। ২২ সেপ্টেম্বর কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ উপস্থিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত মিটিংয়ে ঢুকে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এ কারণে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শেখ আলমগীরের কাছে লিখিত কৈফিয়ত তলব করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কোম্পানির পক্ষ থেকে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করলে আলমগীর তাদের পক্ষ নিতেন। শেখ আলমগীর সিবিএ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ছুটি না নিয়েই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকাসহ সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। সামান্য বাবুর্চি হিসেবে যোগদানের পর সিবিএ নেতা হয়েছেন। তার স্ত্রী ফাতেমা বেগমের নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নিয়েছেন। ছেলের নামে এর নাম দিয়েছেন ‘আকাশ এন্টারপ্রাইজ’। ওই লাইসেন্সের বিপরীতে ওজোপাডিকো থেকে লাখ লাখ টাকার কাজ বাগিয়ে নেন তিনি। আবার কাজ সম্পূর্ণ শেষ না করেও বিল পরিশোধের জন্য কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ প্রয়োগের ঘটনাও ঘটেছে। সূত্রমতে, সিবিএ নেতা আলমগীর তার চাকরি নবায়নের জন্য আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতার দারস্থ হচ্ছেন।

আওয়ামী লীগ সমর্থিত ওজোপাডিকোর অপর সংগঠন শ্রমিক কর্মচারী লীগের (রেজিঃ-বি২১৩৫)’ সভাপতি শেখ মকলুকার রহমান যুগান্তরকে জানান, সিবিএ সাধারণ সম্পাদক শেখ আলমগীর শ্রম আইন নীতি সম্পূর্ণভাবে লঙ্ঘন করে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের স্বার্থের দিক বিবেচনা না করে নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত। আলমগীর সিবিএ নেতা হওয়ার পর কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক ব্যবহার, শ্রমিকদের ব্যক্তিগত কাজে লাগানো এবং বদলি বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েন। এসব কারণে কর্তৃপক্ষ ওজোপাডিকোকে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে তার চাকরির চুক্তি নবায়ন করেনি। এ সিদ্ধান্ত কর্তৃপক্ষের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

ওজোপাডিকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শফিক উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, আলমগীরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ ছিলেন সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সহকর্মীদের সঙ্গে প্রায়ই খারাপ ব্যবহার করতেন। সিবিএ নেতা হওয়ার পর কোম্পানির একটি গাড়ি ও রুম অন্যায়ভাবে দখল, প্রকৌশলীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার, কোম্পানির সিস্টেম লসে যারা জড়িত তাদের সহযোগিতা করেছেন। এতে কোম্পানি ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হচ্ছে। তবে সিবিএ নেতা হওয়ার পরও চাকরি নবায়ন না করায় ওপর মহলের কোনো চাপ নেই।

সিবিএ নেতা আলমগীর তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ থাকত তাহলে চাকরিবিধি অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিত, কারণ দর্শানোর নোটিশ বা তদন্ত কমিটি গঠন হতো। কিন্তু এগুলোর কোনোটাই হয়নি। অথচ আমার চাকরি নবায়ন করা হয়নি, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত