হক ফারুক আহমেদ    |    
প্রকাশ : ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসঙ্গীত উৎসব শুরু হচ্ছে আজ
সঙ্গীতের দেশ কাল পাত্র নেই। সবই সাতটি স্বরের খেলা। তবে ভৌগোলিক অবস্থান প্রকৃতিগতভাবেই সঙ্গীতে নানা ধারার সৃষ্টি
করেছে সারা বিশ্বে। তার মধ্যে উপমহাদেশের সঙ্গীতেরও নিজস্ব রূপের সৃষ্টি হয়েছে। যার এক আদি ও অকৃত্রিম ধারা উপমহাদেশীয় শাস্ত্রীয় বা উচ্চাঙ্গসঙ্গীত। শিল্পীদের কণ্ঠ ও যন্ত্রসঙ্গীতে রাগ-রাগিণীর খেলায় অনন্য এই সঙ্গীতের উৎসবের সবচেয়ে বড় আসরের দাবিদার এখন বাংলাদেশ। আজ থেকে আবার শুরু হতে যাচ্ছে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ঘোরলাগা সুরে হারিয়ে যাওয়ার পাঁচটি রাত ‘বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসঙ্গীত উৎসব ২০১৭’। সরোদ, সেতার, সুরবাহার, বীণা, সারেঙ্গী, বাঁশি, বেহালা, সন্তুর, তবলা, তানপুরা, এস্রাজ, পাখোয়াজের সুরে কখনোবা শিল্পীর কণ্ঠ মাধুর্যে ধ্রুপদ, ধামার, খেয়াল, টপ্পা, দাদরা, ঠুমরি এমনি সব রাগাশ্রয়ী সঙ্গীতে পরিশুদ্ধ হবে সঙ্গীতপ্রেমীদরে প্রাণ-মন। আরও থাকছে ভরতনাট্যম, কত্থক আর মণিপুরি নৃত্যের পরিবেশনা। এবারের উৎসবে প্রথমবারের মতো কাজাখস্থান থেকে ৫৮ সদস্যের আসতানা সিম্ফনি ফিলহারমনিক অর্কেস্ট্রা ওয়েস্টার্ন ক্লাসিক্যাল মিউজিক পরিবেশন করবে। তবে গেল পাঁচবারের থেকে এবার একটাই আলাদা দিক; এবারের আয়োজন আর্মি স্টেডিয়ামে না হয়ে হচ্ছে ঢাকার ধানমণ্ডির আবাহনী মাঠে।আজ সন্ধ্যা ৭টায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে এবারের উচ্চাঙ্গসঙ্গীত উৎসব। উৎসবের উদ্বোধন করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও আবাহনী লিমিটেডের সভাপতি সালমান এফ রহমান, স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রীংলা ও স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী। এবারের আয়োজনটি উৎসর্গ করা হয়েছে শিক্ষাবিদ এমিরেটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানকে। বেঙ্গল ফাউন্ডেশন আয়োজিত এবারের উৎসবের নিবেদক স্কয়ার গ্রুপ এবং সমর্থন করছে ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড। আজকে কাজাখস্থানের আসতানা সিম্ফনি ফিলহারমোনিক অর্কেস্ট্রার ওয়েস্টার্ন ক্লাসিক্যাল সঙ্গীতে সুরে শুরু হবে উৎসব। এতে নেতৃত্ব দেবেন ড. এল সুব্রহ্মণ্যন। সরোদ পরিবেশন করেবেন রাজরূপা চৌধুরী, খেয়াল পরিবেশন করবেন বিদুষী পদ্মা তালওয়ালকর, সেতার বাজিয়ে শোনাবেন ফিরোজ খান ও খেয়াল পরিবেশন করবেন বেঙ্গল পরম্পরা সঙ্গীতালয়ের শিক্ষার্থী সুপ্রিয়া দাস। প্রথম রাতের পরিবেশনা শেষ হবে রাকেশ চৌরাসিয়ার বাঁশি ও পূর্বায়ন চ্যাটার্জির সেতারের যুগলবন্দিতে।
উৎসবের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ আগামীকাল বুধবার কত্থক নৃত্য পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে দিনের পরিবেশনা। পরিবেশন করবে অদিতি মঙ্গলদাস ড্যান্স কোম্পানির শিল্পীরা। সমবেতভাবে তবলা বাদনে অংশ নেবেন বেঙ্গল পরম্পরা সঙ্গীতালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এরপর সন্তুর বাজিয়ে শোনাবেন পণ্ডিত শিবকুমার শর্মা, খেয়াল পরিবেশন করবেন পণ্ডিত উল্লাস কশলকর, সেতারে সুর তুলবেন ওস্তাদ শাহিদ পারভেজ খান এবং ধ্রুপদ পরিবেশন করবেন বেঙ্গল পরম্পরা সঙ্গীতালয়ের শিক্ষার্থী অভিজিত কুণ্ড। দ্বিতীয় রাতের পরিবেশনা শেষ হবে পণ্ডিত রনু মজুমদার বাঁশি এবং পণ্ডিত দেবজ্যোতি বোসের সরোদে যুগলবন্দি বাদনে।
উৎসবের তৃতীয় দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবারের আয়োজনের শুরুতেই রয়েছে বেঙ্গল পরম্পরা সঙ্গীতালয়ের শিক্ষার্থীদের সেতার-বাদন। ঘাটম ও কঞ্জিরা বাজিয়ে শোনাবেন বিদ্বান ভিক্ষু বিনায়ক রাম ও সেলভাগণেশ বিনায়ক রাম। খেয়াল পরিবেশন করবেন সরকারি সঙ্গীত কলেজের শিক্ষার্থীরা। সরোদ পরিবেশন করবেন আবির হোসেন, বাঁশি বাজিয়ে শোনাবেন গাজী আবদুল হাকিম, ধ্রুপদ পরিবেশন করবেন পণ্ডিত উদয় ভাওয়ালকর এবং বেহালায় সুর তুলবেন বিদুষী কালা রামনাথ। পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তীর খেয়াল পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে তৃতীয় রাতের পরিবেশনা।
উৎসবের চতুর্থ দিন অর্থাৎ শুক্রবারের আয়োজনের শুরুতেই রয়েছে শাস্ত্রীয় নৃত্য পরিবেশনা। মণিপুরি, ভরতনাট্যম ও কত্থক নৃত্য পরিবেশন করবেন সুইটি দাস, অমিত চৌধুরী, ¯œাতা শাহরিন, সুদেষ্ণা স্বয়মপ্রভা, মেহরাজ হক এবং জুয়াইরিয়াহ মৌলি। সরোদ বাজিয়ে শোনাবেন বেঙ্গল পরম্পরা সঙ্গীতালয়ের শিক্ষার্থীরা। খেয়াল পরিবেশন করবেন ওস্তাদ রাশিদ খান, সরোদ বাজাবেন পণ্ডিত তেজেন্দ্রনারায়ণ মজুমদার, বেহালা বাজিয়ে শোনাবেন ড. মাইশুর মঞ্জুনাথ, খেয়াল পরিবেশন করবেন পণ্ডিত যশরাজ ও চেলোতো সঙ্গীত পরিবেশন করবেন সাসকিয়া রাও দ্য-হাস। সবশেষে রয়েছে পণ্ডিত বুদ্ধাদিত্য মুখার্জির সেতার পরিবেশনা।
উৎসবের পঞ্চম ও শেষ দিন শনিবারের আয়োজনের শুরুতেই রয়েছে বিদুষী সুজাতা মহাপাত্রের ওড়িশি নৃত্যের পরিবেশনা। মোহন বীণা পরিবেশন করবেন পণ্ডিত বিশ্বমোহন ভট্ট, খেয়াল পরিবেশন করবেন ব্রজেশ্বর মুখার্জি, যৌথভাবে সেতার বাদনে অংশ নেবেন পণ্ডিত কুশল দাস ও কল্যাণজিত দাস, সেতার বাজিয়ে শোনাবেন পণ্ডিত কৈবল্যকুমার। অন্যান্যবারের মতো এাবরও পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়ার বাঁশিবাদনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে উৎসব।
এই উৎসবে তারাই অংশ নিতে পারবেন যারা অনলাইন নিবন্ধন করে পাস সংগ্রহ করেছেন। উৎসবস্থলে প্রবেশের জন্য সঙ্গে যেকোনো প্রকার শনাক্তকরণ পরিচয়পত্র রাখতে হবে। মাঠে কোনো প্রকার ব্যাগ নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না। তবে নারীরা ৮ ইঞ্চি বাই ৬ ইঞ্চি সাইজের ছোট ব্যাগ নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন। রাত ১২টার পর সবরকম প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। মাঠে একাধিকবার প্রবেশ ও প্রস্থান করা যাবে না, বারো বছরের কম বয়সী শিশুদের সঙ্গে আনা যাবে না। থাকছে না মাঠে গাড়ি পার্কিংয়ের কোনো ব্যবস্থা। আয়োজক সূত্রে আরও জানা যায়, এবার শ্রোতাদের আনা-নেয়ার জন্য কেনো পরিবহন ব্যবস্থা থাকছে না।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত