যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
আদাবরে গৃহকর্মী খুন
কাজে ভুল করার অপবাদে ঘাড় মটকে হত্যা
আদালতে আসামির স্বীকারোক্তি
ছয় মাস ধরে আল-আমিন (১৩) কাজ করতেন আদাবরের শেখেরটেক এলাকার একটি বাসায়। কাজে ভুল করার অপবাদ দিয়ে এই ছয় মাস ধরে চলেছে তার ওপর নির্মম নির্যাতন। শরীরে গরম খুন্তির ছ্যাঁকাও দেয়া হয়েছে। পরিবারের অভাব-অনটনের কারণে নির্যাতন সহ্য করে কাজ করে যায় আল-আমিন। তারপরও শেষ রক্ষা হল না তার। রোববার তার ওপর নির্মম নির্যাতন চালায় গৃহকর্তা শেখ জোবায়ের আলম, তার স্ত্রী আঞ্জুয়ারা পারভীন ও তাদের স্বজনরা। শুধু নির্যাতন করে তারা ক্ষান্ত হয়নি। আল-আমিনের ঘাড়ও মটকে দেন তারা। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। রোববার রাতে পুলিশ আল-আমিনের লাশ উদ্ধার করে। গ্রেফতার করা হয় গৃহকর্তা শেখ জোবায়ের আলম, তার স্ত্রী গৃহকর্ত্রী আঞ্জুয়ারা পারভীন, জোবায়েরের শাশুড়ি সাইয়্যেদা রহমান ও শ্যালক সাকিব আহমেদকে।
সোমবার জোবায়েরের শ্যালক সাকিব আহমেদ হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় আল-আমিনের চাচা হারুন অর রশীদ রোববার রাতে চারজনকে আসামি করে আদাবর থানায় হত্যা মামলা করেন। আদাবর থানার অপারেশন অফিসার পরিদর্শক সুজিত কুমার সাহা যুগান্তরকে বলেন, আল-আমিনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ছয় মাস ধরেই তার ওপর নির্মম নির্যাতন চালান জোবায়ের ও তার পরিবারের লোকজন। জোবায়ের একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।
পুলিশ জানায়, ভুল করার অপবাদ দিয়ে প্রথমে আল-আমিনকে পেটানো হয়। ঘাড় ভেঙে দেয়ার কারণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে আল-আমিনের লাশের ময়নাতদন্ত শেষে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায়। আদাবরের শেখেরটেক ৪ নম্বর রোডের ২৩/২৫ নম্বর হোল্ডিংয়ের তৃতীয় তলায় জোবায়েরের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করত সে। হত্যার পর তার লাশ ঘরের মেঝেতে ফেলে রাখা হয়েছিল।
আদাবর থানা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, হত্যার পর আল-আমিনের স্বজনদের অসুস্থতার কথা বলে ঢাকায় ডেকে আনেন গৃহকর্তা। স্বজনরা ঢাকায় এসে দেখতে পান আল-আমিন মারা গেছে। পরে তারা আদাবর থানায় অভিযোগ করে। খবর পেয়ে আল-আমিনের লাশ উদ্ধার করা হয়।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত