ইয়াসিন রহমান    |    
প্রকাশ : ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
বছরজুড়ে বেসামাল নিত্যপণ্যের দাম
অসাধু চক্রকে আইনের আওতায় আনার দাবি * নতুন বছরে দাম কমানোর তাগিদ
সরকারি হিসাবেই বছরজুড়ে বেসামাল ছিল নিত্যপণ্যের দাম। চলতি বছরের শুরু থেকেই কোনো না কোনো পণ্যের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছে চাল ও পেঁয়াজ। বছরের ব্যবধানে মোটা চালের দাম বেড়েছে ২৩ শতাংশ। আর পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ২২৭ শতাংশ। বেড়েছে ভোজ্যতেল ও মাছ-মাংসের দামও। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজার দরের তালিকা পর্যালোচনা করে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান যুগান্তরকে বলেন, বেশকিছু পণ্যের দাম গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। বেশি মুনাফার আশায় অসাধু চক্র বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে এসব পণ্যের দাম বাড়িয়েছে। বিশেষ করে চাল ও পেঁয়াজে কারসাজি হয়েছে বেশি। এতে দামও বেড়েছে। যা এখনও কমছে না। আর দাম বাড়ার কারণে দরিদ্র মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের উচিত নতুন বছরের শুরু থেকে বাজার মনিটরিং বাড়িয়ে খাদ্যপণ্যের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনা। আর অসাধু ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা।
সোমবার টিসিবির মূল্য তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মোটা চালের মূল্য দেয়া আছে ৪৪-৪৬ টাকা। গত বছর এ সময় তা ছিল ৩৫-৩৮ টাকা। বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ২৩ শতাংশ। পেঁয়াজের মূল্য ৬০-১২০ টাকা। গত বছর তা ছিল ২০-৩৫ টাকা। বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ২২৭ শতাংশ। সাদা খোলা আটার দাম ছিল ২৫-২৮ টাকা। যা এখন ২৮-৩০ টাকা। বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৯ শতাংশ। প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ছিল ৯৮-১০২ টাকা। যা বর্তমানে মূল্য দেয়া আছে ১০৪-১০৯ টাকা। বছরের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ৬ শতাংশ। মাংসের মধ্যে গত বছর এ সময় গরুর মাংসের দাম ছিল ৪২০-৪৪০ টাকা। যার বর্তমান মূল্য দেয়া আছে ৪৮০-৫০০ টাকা। সে ক্ষেত্রে বছরের ব্যবধানে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ১৪ শতাংশ। খাসির মাংসের দাম ছিল ৫৫০-৬০০ টাকা। যার বর্তমান মূল্য দেয়া আছে ৭০০-৭৫০ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ২৬ শতাংশ।
রাজধানীর খুচরা বাজারের নিত্যপণ্যের দাম পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে চালের দাম বাড়তে শুরু করে। আর কোরবানির ঈদের পর সেপ্টেম্বরে পুরোপুরি অস্থির ছিল চালের বাজার। সে সময় মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা চাল বিক্রি হয়েছে ৫২-৫৪ টাকা। যদিও কয়েক দফা আমদানির পর বর্তমানে দাম কিছুটা কমেছে। তবে এখনও তা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আসেনি। সোমবার মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা বিক্রি হয়েছে ৪৫-৪৬ টাকা। মিনিকেট ৬০-৬২ টাকা। নাজিরশাইল ৬৫-৭০ টাকা।
এখনও অস্থির পেঁয়াজের বাজার। চলতি বছরের আগস্টে দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল ৪০-৪২ টাকা। আর আমদানি করা পেঁয়াজের দাম ৩০-৩৫ টাকা। চার মাসের ব্যবধানে ডিসেম্বরে তা তিন গুণ বেড়েছে। এ সময়ে দেশি পেঁয়াজ ১৪০-১৫০ টাকা হয়েছে এবং আমদানি করা পেঁয়াজ ৮৫ টাকায় বিক্রি হয়। যা এখন একটু কমলেও উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে।
কারওয়ান বাজারের খুচরা বিক্রেতা সোনাই আলী যুগান্তরকে বলেন, বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহের কোনো ঘাটতি না থাকলেও দফায় দফায় দাম বাড়ানো হয়েছে। কখনও আমদানি মূল্য বৃদ্ধি, কখনও দেখানো হয় ডলারের দাম বাড়ার অজুহাত। কখনও আবার দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ কম। এসব কারসাজি করে পেঁয়াজের দাম বাড়ানো হয়। যা এখনও কমেনি।
এ সম্পর্কে ক্যাবের সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন যুগান্তরকে বলেন, এটা ব্যবসায়ীদের কারসাজি। সরকারের যথাযথ মনিটরিং না থাকায় এমনটি হচ্ছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা কিছুদিন পরপরই বিভিন্ন অজুহাতে পণ্যের দাম বাড়িয়ে অতিরিক্ত মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে নানা অজুহাতে পেঁয়াজের দাম বাড়ানো হয়েছে। তাই অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে অতি মুনাফা করতে না পারে, সে জন্য প্রশাসনের আইনগত ব্যবস্থা নেয়া উচিত।’
রাজধানীর নয়াবাজারের তুহিন স্টোরের মালিক মো. এখলাস যুগান্তরকে বলেন, বোতলজাত এক লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকা এবং ৫ লিটার ৪৯০-৫০০ টাকা। মুসরের ডাল বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা। মুগডাল ১৪০ টাকা। খেসারি ৬০-৭০ টাকা। এদিকে মাংসের দামে নাভিশ্বাস উঠছে ভোক্তাদের। ইচ্ছে থাকলেও সাধ্য না থাকায় অনেক নিন্মবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারে মাংস জুটছে না। রাজধানীর বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৪৮০-৫১০ টাকা। খাসির মাংস ৮০০ টাকা।
একই বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা বেসরকারি কর্মকর্তা মো. হাকিম যুগান্তরকে বলেন, বর্তমানে নিত্যপণ্যের দাম এত বেশি যে জীবন চালাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় প্রায় সব কটি খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। কিভাবে দাম কমানো যায় সরকারকেই তা বের করতে হবে।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত