চট্টগ্রাম ব্যুরো    |    
প্রকাশ : ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
চট্টগ্রামে চার নারী ধর্ষণ
আংশিক ব্যর্থতা স্বীকার করল পুলিশ
চট্টগ্রামে ডাকাতি ও চার নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা নেয়া এবং তদন্তে ‘আংশিক’ ব্যর্থতা ছিল বলে স্বীকার করেছে পুলিশ। দুর্বৃত্তরা ডাকাতি নয়, ধর্ষণের উদ্দেশ্যেই ওই বাড়িতে হানা দিয়েছিল বলে পুলিশের ধারণা। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সন্দেহজনকভাবে ৩ জনকে গ্রেফতার করা হলেও তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্পর্শকাতর এ ঘটনার পর প্রাথমিক পর্যায়ে পুলিশের কিছুটা গাফিলতি থাকলেও এখন এ নিয়ে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। জড়িতদের শিগগিরই শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
১২ ডিসেম্বর গভীর রাতে কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের এক বাড়িতে ডাকাতির সময় প্রবাসী তিন ভাইয়ের স্ত্রী ও তাদের এক বোনকে ধর্ষণ করে দুর্বত্তরা। ধর্ষিতাদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীও ছিলেন। ধর্ষণের শিকার নারীরা ঘটনার পরদিন মামলা করতে কর্ণফুলী থানায় গেলে পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করে। পরে ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর হস্তক্ষেপে পাঁচ দিন পর মামলা নেয় পুলিশ। একই সঙ্গে এক পরিবারের চার নারীকে ধর্ষণের ঘটনার খবর প্রকাশ হয়ে পড়লে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে। কর্ণফুলী থানার ওসিকে প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করে কয়েকটি সংগঠন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার দুপুরে কর্ণফুলী থানায় পুলিশের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে ঘটনা তদন্তে পুলিশের গাফিলতি নিয়ে সাংবাদিকদের একের পর এক প্রশ্নবানে জর্জরিত হন পুলিশ কর্মকর্তারা।
এক প্রশ্নের জবাবে উপপুলিশ কমিশনার (বন্দর জোন) হারুনুর রশিদ হাজারী বলেন, ‘অস্বীকার করার উপায় নেই, ঘটনার পর আমাদের যে ভূমিকা, তাতে মামলা নেয়া এবং আসামি গ্রেফতারে আংশিক ব্যর্থতা ছিল। যদিও ঘটনাস্থলের অবস্থান নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি ছিল, তারপরও এ ধরনের একটি স্পর্শকাতর ঘটনায় মামলা নিতে এত বিলম্ব করা ঠিক হয়নি। এক্ষেত্রে আমাদের আরও গুরুত্ব দেয়ার দরকার ছিল।’
কর্ণফুলী থানার ওসি সৈয়দুল মোস্তফার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে পুলিশের এই কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিষয়টি আমি পুলিশ কমিশনারকে জানিয়েছি। তিনি এটা দেখবেন। তবে এখন তো বসে থাকা যাবে না। যিনি ওসির দায়িত্বে আছেন, তাকেই তদন্ত চালিয়ে নিতে হবে। তা না হলে তদন্ত ব্যাহত হতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা তদন্ত জোরদার করেছি। আশা করছি, জড়িতদের শিগগিরই শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে সক্ষম হব।’ এদিকে মামলার তদন্ত সম্পর্কে উপকমিশনার হারুনুর রশিদ হাজারী যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা তদন্তের খুব কাছাকাছি চলে এসেছি। এখন পর্যন্ত মনে হচ্ছে, ধর্ষণে জড়িতরা ডাকাতি নয়, ধর্ষণের উদ্দেশ্যেই ওই বাড়িতে গিয়েছিল। ধর্ষণ শেষে সুযোগ বুঝে তারা কিছু জিনিসপত্র নিয়ে গেছে। বাড়ির অবস্থান ও বিভিন্ন কক্ষ সম্পর্কে ধর্ষকদের আগে থেকেই ধারণা ছিল। তবে এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কারো নাম উল্লেখ করা হয়নি। তাই যে চার নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, তারা আমাদের ধর্ষকদের যে শারীরিক বর্ণনা দিয়েছেন, তার ওপর ভিত্তি করে সন্দেহজনকভাবে ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আবু নামক এক ব্যক্তি জড়িত থাকার বিষয়ে প্রাথমিক কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তাকে শনাক্ত করতে টিআই প্যারেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২৮ ডিসেম্বর এ প্যারেড অনুষ্ঠিত হবে। ওই প্যারেডে তাকে ভিকটিমদের সামনে হাজির করা হবে। যদি ভিকটিমরা তাকে শনাক্ত করেন, তাহলে নেয়া হবে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা।’



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত