যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
৩০ ডিসেম্বর পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহ শুরু
পরিবহনের অভাবে প্রসূতিকে হাসপাতালে নেয়া সম্ভব হয় না
প্রয়োজনীয় পরিবহন সুবিধা না থাকায় প্রসূতিদের সময়মতো হাসপাতাল বা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেয়া সম্ভব হয় না। ফলে ক্ষেত্র বিশেষে নিরাপদ মাতৃত্ব ও সুস্থ নবজাতকের জন্ম বাধাগ্রস্ত হয়। বুধবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক। ‘পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহ-২০১৭ উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ৩০ ডিসেম্বর থেকে দেশব্যাপী পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহ শুরু হচ্ছে। ৪ জানুয়ারি এ প্রচার সপ্তাহ শেষ হবে। সেবা সপ্তাহের এবারের প্রতিপাদ্য ‘পরিকল্পিত পরিবার গড়ি, মাতৃমৃত্যু রোধ করি’।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাতৃমৃত্যু হার কমিয়ে পরিকল্পিত পরিবার গড়তে হলে প্রথমে বাল্যবিবাহ কমাতে হবে। আমাদের চেষ্টা থাকবে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা। বাংলাদেশে গত এক দশকে মাতৃমৃত্যুর হার ৪০ শতাংশ কমেছে। এ হার কমানোর ক্ষেত্রে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচির অবদান প্রায় ২৫ শতাংশ। বর্তমানে দক্ষ সেবাদানকারীর সহায়তার প্রায় ৫০ শতাংশ প্রসব হচ্ছে। অথচ ২০১০ সালে এ হার ছিল মাত্র ২৭ শতাংশ।’ তিনি বলেন, ২০২২ সালের মধ্যে মাতৃমৃত্যুর হার ১০৫-এ (প্রতি লাখ জীবিত জন্ম) কমিয়ে আনার লক্ষ্যে চতুর্থ স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেক্টর কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে ২০৩০ সালের মধ্যে মাতৃমৃত্যুর হার ৭০ শতাংশে কমিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। পরিবার পরিকল্পনার উপকরণ গ্রহণের হার ৬২ শতাংশ থেকে ৭০ শতাংশের উপরে নিয়ে যেতে হবে জানিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গর্ভবতী মায়েদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে। এখনও প্রায় ১৮ শতাংশ মা অপুষ্টিতে ভোগেন। ফলে কৃশকায়, খর্বাকায় শিশুর জন্ম হয়। যানবাহনের জন্য অনেক মা হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিকে আসতে পারেন না, এজন্য মাতৃমৃত্যু হার বৃদ্ধি পায়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জনগণকে প্রত্যাশা অনুযায়ী সেবা দেয়া, সেবা নিতে উদ্বুদ্ধ করা এবং প্রতিটি কর্মীকে সেবা দিতে উৎসাহিত হওয়ার জন্য পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতর প্রতি বছর সেবা ও প্রচার সপ্তাহ উদযাপন করে। দেশব্যাপী সেবা ও প্রচার সপ্তাহ উদযাপনের অংশ হিসেবে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে অ্যাডভোকেসি ও প্রেস ব্রিফিং এবং উপজেলা পর্যায়ে অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেবা ও প্রচার সপ্তাহের প্রতিপাদ্যের ওপর মাঠপর্যায়ে কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের যৌথ স্বাক্ষরে একটি নির্দেশনামূলক চিঠি পাঠানো হয়েছে। যেখানে স্বাস্থ্য বিভাগের মাঠ কর্মীরা পরিবার পরিকল্পনার মাঠ কর্মীদের সঙ্গে একযোগে দায়িত্ব পালন করে থাকবেন। সেবা সপ্তাহে প্রতিদিন মাঠপর্যায়ে প্রতিটি সেবা কেন্দ্রে পরিবার পরিকল্পনার বিশেষ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে গর্ভবতী মায়েদের চেকআপ ও প্রসব সেবা দেয়া হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।
এক প্রশ্নের উত্তরে পরিবার-পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. কাজী মোস্তফা সরোয়ার বলেন, সরকারের সার্কুলার আছে- ‘দেশের প্রতিটি উপজেলায় শুধু প্রসূতি মায়েদের জন্য একটি করে অ্যাম্বুলেন্স থাকবে। যেটি প্রয়োজন অনুযায়ী সব সময় বিনামূল্যে গর্ভবতী মায়েদের পরিবহন করবে। সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত