মো. মঈনুদ্দিন চৌধুরী    |    
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
বেসরকারি কলেজে উচ্চতর পদে নিয়োগদানে জাতীয় শিক্ষানীতির বাস্তবায়ন চাই
জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এ শিক্ষা প্রশাসনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে, যেমন-
১. সমন্বিত শিক্ষা আইন প্রণয়ন
২. স্থায়ী জাতীয় শিক্ষা কমিশন গঠন
৩. শিক্ষানীতির আওতাধীন এমপিওভুক্ত সব ধারার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য শিক্ষক নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, বদলি ও পদোন্নতি।
আমরা জানি, সমন্বিত শিক্ষা আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রথম দফা সর্বসাধারণের মতামত যাচাইয়ের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনলাইনে দেয়া হয়। এ সংক্রান্ত আলোচনা শেষে একটি খসড়া তৈরি করে এখন আবার সর্বসাধারণের মতামতের জন্য দ্বিতীয় দফা অনলাইনে দেয়া হলেও শিক্ষা কমিশনের বিষয়টি ঝুলে রয়েছে।
অন্যদিকে শিক্ষানীতির আওতাধীন ও এমপিওভুক্ত সব ধারার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য শিক্ষক নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, বদলি ও পদোন্নতি সংক্রান্ত ধারার কিছু অংশ বাস্তবায়ন শুরু হলেও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে ধীরগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। যেমন- উক্ত ধারায় বলা হয়েছে, ‘বেসরকারি শিক্ষক নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে দ্রুত এবং যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক নির্বাচন করে এলাকাভিত্তিক ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগদানের ব্যবস্থা করা হবে।
বাস্তবে আমরা দেখতে পাচ্ছি, তার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে শুধু বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যারা নতুন চাকরিতে প্রবেশ করবে, তাদের ক্ষেত্রেই শুধু এই বিধিবিধান প্রযোজ্য হবে। যেমন- বেসরকারি কলেজে প্রভাষক নিয়োগে এই বিধিবিধান প্রযোজ্য হলেও অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ নিয়োগের ক্ষেত্রে কী বিধিবিধান প্রযোজ্য হবে, তা জাতীয় শিক্ষানীতিতে উল্লেখ করা হয়নি। তবে সম্প্রতি সরকার এক প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ নিয়োগের ক্ষেত্রে পূর্বের নিয়ম (গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগ) বহাল থাকবে বলে উল্লেখ করেছে।
জাতীয় শিক্ষানীতিতে উচ্চতর পদ বলতে সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদকেই বুঝানো হয়েছে। জাতীয় শিক্ষানীতিতে বলা হয়েছে, ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সুনির্দিষ্ট যোগ্যতার নিরিখে (উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন, মৌলিক গবেষণা কর্ম, শিক্ষাদান পদ্ধতি উন্নয়ন ইত্যাদি) প্রতিযোগিতামূলকভাবে উচ্চতর নিয়োগ দান করা হবে; যেমন- প্রভাষক হতে সহকারী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক হতে সহযোগী অধ্যাপক এবং সহযোগী অধ্যাপক হতে অধ্যাপক পদে। বেসরকারি নিয়োগ সংক্রান্ত বিধিমালার আওতায় এ ব্যবস্থাপনা পরিচালিত হবে। বৃহত্তর পরিসরে শিক্ষকদের মৌলিক সুবিধাদি নিশ্চিত করে অন্যান্য সুবিধাদি অর্জিত যোগ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত করা হবে। এ ধারার অপর অংশে বলা হয়েছে, ‘সকল পর্যায়ের সকল ধারার সকল স্তরের এমপিওভুক্ত শিক্ষকগণের চাকরি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় বদলিযোগ্য হবে। সরকারি প্রয়োজনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকগণকে সমধারার সমস্তরের প্রতিষ্ঠানে সমপর্যায়ের পদে বদলি করা হবে।’
বাস্তবে আমরা দেখতে পাচ্ছি, এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষত ডিগ্রি কলেজে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ নিয়োগ গভর্নিং বডির মাধ্যমেই হচ্ছে এবং অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম, দুর্নীতি তথা নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমেই তা সম্পন্ন করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন, মৌলিক গবেষণা কর্ম, শিক্ষাদান পদ্ধতি, উন্নয়ন ইত্যাদিকে অগ্রাধিকার প্রদান কিংবা বিবেচনায় আনা হচ্ছে না।
অন্যদিকে অন্যান্য উচ্চতর পদ যেমন সহকারী অধ্যাপকের ক্ষেত্রে অনুপাত প্রথা বিদ্যমান, যা শিক্ষানীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। জনবল কাঠামোয় সহযোগী অধ্যাপক পদ সৃষ্টির কথা বলা হলেও তা এখনও বাস্তবায়ন করা হয়নি, বরং অভিশপ্ত অনুপাত প্রথা জুড়ে দেয়া হয়েছে। অধ্যাপক পদের কথা তো কল্পনাই করা যায় না।
শিক্ষকদের বদলির কথা বলা হলেও তার প্রতিফলন আমরা এখনও দেখতে পাচ্ছি না। এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা এক কর্মস্থল থেকে অন্য কর্মস্থলে বদলির মাধ্যমে নিজেদের জীবনে বৈচিত্র্য আনতে চান। কাজেই বিধিমোতাবেক বাড়িভাড়াসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য বদলি প্রথা খুবই জরুরি।
আমরা আশা করব, সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য জাতীয় শিক্ষানীতিতে শিক্ষা প্রশাসনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য অর্জনের জন্য যেসব কৌশল প্রণয়ন করা হয়েছে, তার পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন ঘটবে এবং সব ধারার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার ভিত্তিতে সমতা নিশ্চিত করা হবে ও বৈষম্যমুক্ত করা হবে। আমরা আরও আশা করব, যে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও জনবল কাঠামোয় উল্লিখিত বিধান ও জাতীয় শিক্ষানীতির চুলচেরা বিশ্লেষণ করে নীতিনির্ধারকরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। তাহলেই ভুলের মাত্রা কম হবে।
সহকারী অধ্যাপক, ব্যবস্থাপনা বিভাগ
শংকুচাইল ডিগ্রি কলেজ, বুড়িচং, কুমিল্লা



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত