মো. আলতাফ হোসেন খান    |    
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
আবহমান বাংলার খেজুর রস

বৃষ্টির নূপুর পায়ে আসে বর্ষা। ফোঁটা ফোঁটা শিশিরে সিক্ত হয়ে আসে শীত। আর রকমারি ফুলের বাহার নিয়ে হাজির হয় বসন্ত। বসন্তের সঙ্গে যেমন রয়েছে ফুলের সম্পর্ক, বৃষ্টির সঙ্গে বর্ষার; একইভাবে শিশিরের সঙ্গে রয়েছে শীতের গভীর সম্পর্ক। তবে বাংলার শীতের সঙ্গে আরও একটি বিষয়ের সম্পর্ক রয়েছে। এটি হল খেজুরের রস। সময় বদলায়, মানুষ বদলায়, ভূপ্রকৃতিও বদলে যায়, কিন্তু গ্রামবাংলার শীতের শিশিরের সঙ্গে খেজুর রসের সম্পর্ক অনন্তকাল ধরে বহমান।

সাধারণত একেকটি খেজুর গাছ রসের উপযুক্ত হতে পাঁচ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত সময় লাগে। রস পাওয়া যায় প্রায় ২৫ বছর পর্যন্ত। প্রত্যেক বছর কার্তিক (অক্টোবর-নভেম্বর) মাস থেকে গাছকে রসের জন্য প্রস্তুত করতে শুরু করেন গাছিরা। ফাল্গুন মাস (ফেব্র“য়ারি-মার্চ) পর্যন্ত চলে রস সংগ্রহ। একবার গাছ কাটার পর এক থেকে তিনদিন পর্যন্ত রস পাওয়া সম্ভব। খেজুরের রসের ফিরনি, রকমারি পিঠা-পুলি, পায়েস, পাটালি গুড়, লালী ও দানাগুড় অনেকেরই প্রিয়। রস নামার পর থেকেই গ্রামে গ্রামে চলে এগুলো খাওয়ার ধুম। খেজুর রসের ফিরনির স্বাদ যিনি একবার পেয়েছেন, তার পক্ষে তা ভোলা অসম্ভব।

এক সময় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের ঈশ্বরদী, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা ও জীবননগর, ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর, খালিশপুর ও কালিগঞ্জ এবং যশোরের বিভিন্ন এলাকা খেজুর রস ও গুড়ের জন্য বিখ্যাত ছিল। খেজুর রস হতে উৎপাদিত গুড় দেশে ও দেশের বাইরেও রফতানি হতো।

গ্রামবাংলার ঐতিহ্য দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খেজুর রস ও গুড় আজ বিলুপ্তির পথে। কারণ ১ কেজি গুড় বানাতে শ্রম ও জ্বালানিসহ গাছিদের খরচ হয় ৩০/৪০ টাকা। আর প্রতি কেজি গুড় বর্তমান বাজারে বিক্রি হয় ৪৫ টাকায়। এ কারণে গাছিরা গুড় বানাতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এছাড়া আগের মতো খেজুর গাছও আর নেই। প্রতিদিন ইটভাটায় জ্বালানির কাজে নিধন হচ্ছে এলাকার শত শত খেজুর গাছ। ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তারপরও গাছিরা ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

জিনিয়াস স্টুডেন্ট ফোরাম, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত