রাজীব পাল    |    
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
আগস্ট এলেই...
আগস্ট এলেই বাঙালি হৃদয়ে নেমে আসে শোকের আঁধার। বুকের ভেতর বয়ে যায় বেদনার স্রোত। ১৯৭৫ সালের এ মাসেই সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। মরণজয়ী এ নেতার নির্দেশেই বাঙালি ঝাঁপিয়ে পড়েছিল দেশ স্বাধীন করতে, ছিনিয়ে এনেছিল স্বাধীনতা। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ’৫৮-র সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ’৬৬-র ৬ দফা আন্দোলন, ’৬৯-র গণঅভ্যুত্থান এবং ’৭০-র নির্বাচনসহ দেশের গণমানুষের আশা-আকাক্সক্ষা পূরণে প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে জাতিকে নেতৃত্ব দেন তিনি। এজন্য তাকে বহুবার কারাবরণসহ নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে।
যার নেতৃত্বে আমরা পেলাম স্বাধীনতা। এ স্বাধীন ভূমিতেই জাতির জনককে খুন হতে হল। এর চেয়ে লজ্জা ও বেদনার অর কী হতে পারে! তাই আগস্ট মানেই শোকে বিহ্বল বাঙালির কান্নাভেজা অধ্যায়। আগস্ট এলেই শ্রদ্ধায় নত হয় বাঙালির মাথা। বঙ্গবন্ধু ভালোবাসতেন বাংলার মাটি ও বাঙালিকে। মাটি ও মানুষের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত নিবিড়।
বাংলাদেশের পটভূমিতে বঙ্গবন্ধু ব্যক্তি নন, একটি নাম নন; তিনি বাংলাদেশের সমষ্টি। বঙ্গবন্ধু অমর একটি নাম। তার মৃত্যু নেই। বিপদে-আপদে, সংগ্রামে-আন্দোলনে তিনি আমাদের আজও সাহস জোগান ও শক্তি জোগান। জাতির পিতার সারা জীবনের স্বপ্ন ছিল ‘সোনার বাংলা’ গড়ার। আমাদের দায়িত্ব হবে, বঙ্গবন্ধুর অসম্পূর্ণ কাজগুলো সম্পূর্ণ করে বাংলাদেশকে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করা। তাহলেই তার আত্মা শান্তি পাবে এবং আমরা তার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করতে পারব।
ঘাতকচক্র বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেও তার স্বপ্ন ও আদর্শের মৃত্যু ঘটাতে পারেনি। বাঙালির অন্তরে আজ লালিত হচ্ছে তার ত্যাগ-তিতিক্ষার সংগ্রামী আদর্শ। বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে দীর্ঘদিন পর জাতির জনক হত্যার বিচার হয়েছে। সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে হত্যার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে। দায়মুক্ত হয়েছে বাঙালি। তবে ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত কিছু খুনি এখনও বিদেশে পালিয়ে আছে। তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসির রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত জাতি পূর্ণ দায়মুক্ত হবে না।
আগস্টের শোকাবহ ঘটনা আমাদের দুর্ভাগ্য, জাতির লজ্জা। বঙ্গবন্ধু মানুষকে বিশ্বাস করতেন। মৃত্যুকে ভয় করেননি কোনোদিন। ষড়যন্ত্র ও কুটিলতাকে ঘৃণা করতেন বলেই দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না।
টঙ্গিবাড়ি, মুন্সীগঞ্জ



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত