মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম    |    
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
অশনি সংকেত
দেশে ভাসমান বা গৃহহীন মানুষের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। অথচ এ বিষয়ে আমাদের পপুলেশন পলিসিতে নেই কোনো সঠিক পরিসংখ্যান কিংবা পরিকল্পনা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাব অনুযায়ী বস্তি শুমারি ও ভাসমান লোক গণনা ২০১৪ শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে ২২ লাখ ৩২ হাজার মানুষ বস্তিতে বাস করে। বিবিএসের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী শুধু রাজধানী ঢাকায় ভাসমান মানুষের সংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি। এদের মধ্যে ফুটপাত, লঞ্চ-বাস টার্মিনালে আশ্রয় নিয়েছে অন্তত ২০ হাজার মানুষ। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ক্রমাগত প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধি, গ্রামে কর্মসংস্থানের অভাব, সামাজিক অস্থিরতা, বিকলাঙ্গ ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের প্রতি সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রভৃতি কারণে আমাদের শহরগুলোয় বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় ভাসমান মানুষের সংখ্যা বাড়ছে ভয়াবহ হারে।
স্বপ্নময় শহরে সবাই কিছু স্বপ্ন নিয়ে আসে। কারও স্বপ্ন অধিক অর্থ উপার্জন, কারও স্বপ্ন উচ্চতর শিক্ষা, কারও স্বপ্ন শৈল্পিক জীবনের সন্ধান। ভাসমান মানুষগুলো শহরে আসে ছোট দুটো স্বপ্ন নিয়ে। দু’বেলা দু’মুঠো ভাত বা কর্মসংস্থান এবং খুব সাধারণ নিরাপদ একটা আশ্রয়। গ্রামে এসব মানুষের বাস্তুভিটা নেই, নেই জীবিকা অর্জনের ন্যূনতম উপায়। বাধ্য হয়েই এরা ভাগ্যান্বেষণে শহরে আসে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস এখানেও এদের পিছু ছাড়ে না। শহরে এসব মানুষের আশ্রয় হয় ফুটপাত, ফুটওভার ব্রিজ, বাসস্টেশন, রেলস্টেশন, রাস্তার আইল্যান্ড ইত্যাদি স্থানে। সাম্প্রতিক কিছু কিছু ভাসমান মানুষ আশ্রয় নিয়েছে সিলেট ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাহাড়ের পাদদেশে। এসব পাহাড় প্রায় প্রতিবছরই ধসে পড়ছে এবং অসংখ্য ভাসমান মানুষ হতাহত হচ্ছে।
শহরের ফুটপাতে যারা আশ্রয় নেয়, রোদ-বৃষ্টি তাদের নিত্যসঙ্গী। বৃষ্টি ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে রাতে এরা ঘুমাতে পারে না। উনুনে আগুনও জ্বালাতে পারে না। সেই সঙ্গে আছে চাঁদাবাজ, পুলিশ ও নেশাখোরদের অত্যাচার, আছে উচ্ছেদ অভিযানের ভয়। বস্তিগুলোর পরিবেশ চরম অমানবিক ও অস্বাস্থ্যকর। সুপেয় পানি, পুষ্টিকর খাদ্য, নিরাপদ বিদ্যুৎ, স্যানিটেশন, শিক্ষা প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ সেবা থেকে বঞ্চিত বস্তিবাসী। অবশ্য অধুনা বস্তি শব্দটি নেতিবাচক অর্থে অর্থাৎ সমাজের অতিদরিদ্র মানুষের ঘনবসতিপূর্ণ আবাসস্থল বোঝাতেই ব্যবহৃত হয়। শহরে এসব ভাসমান মানুষ যেসব কাজে নিয়োজিত হয়, তা থেকে ন্যূনতম জীবিকা নির্বাহ সম্ভব হয় না।
শিশু, বৃদ্ধ, পঙ্গু এবং তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের ভিক্ষাবৃত্তিই একমাত্র অবলম্বন। বিশ্বস্ততার অভাবে কাজ না পেয়ে অনেকেই বেছে নেয় চুরি, সন্ত্রাস ও মাদক ব্যবসা। আমরা যখন আয়েশ করে খেতে বসি, এরা তখন সাহায্যের আশায় হাত বাড়ায়। হোটেল, পার্ক, যানবাহন সর্বত্র এদের পদচারণা। বিবেকবান মানুষদের স্বস্তিতে খেতে বসাও দায়। আমরা যখন বিনোদনের জন্য পার্কে যাই, তখন এদের দেখে বিরক্ত হই। আমরা যখন শিল্পের পথে, শিক্ষার পথে এগিয়ে যাই, তখন রাস্তায় দেখি- এদের প্রায় উলঙ্গ নোংরা দেহ। কখনও দেখি, ফুলের মতো কোনো শিশু গাড়ি চাপা পড়ে আছে ব্যস্ত রাজপথে। বিদ্যমান সমাজ ব্যবস্থায় কে নেবে এসব শিশুর দায়-দায়িত্ব?
রাষ্ট্রের কর্তব্য হচ্ছে, ভাসমান মানুষের জন্য আবাসস্থল নির্মাণ। বিভিন্ন কর্মমুখী শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে এদের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনা, রাষ্ট্রের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অংশীদার করা। আশার কথা, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। বাংলাদেশে একজনও গৃহহীন মানুষ থাকবে না বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তবে দীর্ঘদিনের অবহেলায় সমস্যাটি ইতিমধ্যে জটিল রূপ ধারণ করেছে। এক্ষেত্রে সুশীল সমাজ, রাজনীতিক, সমাজবিজ্ঞানী, পরিবেশবিদ, পরিসংখ্যানবিদসহ অন্যান্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও সহযোগিতা অনস্বীকার্য।
বাজিতপুর রাজ্জাকুন্নেছা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, কিশোরগঞ্জ




আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত