আবদুর রফিক    |    
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
দুর্নীতিবাজদের সবাই ঘৃণা করে
সরকারি যে কোনো বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা যদি সৎ হন, তাহলে এর প্রভাব অধীনস্থ সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে পড়ে। পক্ষান্তরে বিভাগীয় প্রধান যদি অসৎ হন, তাহলে ওই বিভাগের পরিচ্ছন্ন কর্মী ময়লা-আবর্জনাও ঠিকভাবে পরিষ্কার হয় না। অর্থাৎ পরিচ্ছন্ন কর্মীও ভাবে, আমি একজন অসৎ কর্মকর্তার অধীনে দায়িত্ব পালন করছি।
একজন মানুষ ইচ্ছা করলেই সৎ থাকতে পারেন এবং অধীনস্থদেরও সৎ পথে পরিচালিত করতে পারেন। সৃষ্টি করতে পারেন নতুন ইতিহাস। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন মহামানবের আসনে।
প্রকৃতপক্ষে ছোট-বড় সব শ্রেণীর দুর্নীতিবাজ একটা পর্যায়ে ভুলে যায়, সে একজন সমাজবিরোধী দুর্নীতিবাজ। অন্যের দুর্নীতি সম্বন্ধে বাজে মন্তব্য করে এবং ঘৃণা প্রকাশ করে। অফিসের বড় বড় অনেক কর্মকর্তা ঘুষ গ্রহণ করেন। তবে একজনের গ্রহণ প্রক্রিয়া অন্যজনের চেয়ে ভিন্নতর হয়ে থাকে। এ গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়েও সমালোচনা হয়। অনেক অফিসার নিজ হাতে ঘুষের টাকা গ্রহণ করেন না। অফিস সহকারী অথবা পিয়নের মাধ্যমে এ কাজটি করে থাকেন। অসৎ পথে উপার্জিত অর্থ জায়েজ করার জন্য সেই অফিস সহকারী কিংবা পিয়নকেও ভাগ দেয়া হয়। ঘুষখোর অফিসার বুঝতেই পারেন না, এ প্রক্রিয়ায় অফিস সহকারী বা পিয়নকেও দুর্নীতিবাজে পরিণত করছেন। ফলে একপর্যায়ে তারাও বড় দুর্নীতিবাজ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত টাকায় বাড়ি-গাড়ি বা অন্য কোনো সম্পদের মালিক হলে আশপাশের লোকজন তা সবার কাছে বলে বেড়ায়। এ সবই বাস্তব চিত্র। এতে বোঝা যায়, মানুষ দুর্নীতি ও দুর্নীতিবাজদের ঘৃণা করে। কোনো দুর্নীতিবাজ সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো তথ্য দিতে পারে তার ব্যক্তিগত গাড়ির ড্রাইভার। সাহেবের স্ত্রী কাকে নিয়ে কোনদিন কোন মার্কেটে গেছে, কী কী জিনিস কিনেছে, কোন বারে গিয়ে কী খেয়েছে, সবই জানে ড্রাইভার। সাহেবের মেয়ে কোনদিন কোন বয়ফ্রেন্ড নিয়ে কোথায় ‘ইটিং’ করেছে, সাহেবের ছেলে বন্ধুদের নিয়ে মাদক সেবনের পর কত টাকা বিল পরিশোধ করেছে- এগুলো নিয়ে বন্ধু মহলে ড্রাইভারদের আলোচনা চলে।
দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ সব অপকর্ম বাস্তবায়নে সহায়ক। স্বামী বা পিতার অর্থ আছে, কাউকে তা ব্যয় করার পথ শয়তান নিজেই বাতলে দেয়। এ ক্ষেত্রে ভালো-মন্দ বিচার করার জ্ঞান তারা হারিয়ে ফেলে। সমাজের লোক এদের ঘৃণার চোখে দেখে। সবচেয়ে বড় কথা, যারা এভাবে টাকার পিছনে ছুটছে- তারা মোটেই সুখে নেই। কী এক অজানা ভয় ও পীড়া সর্বদা তাদের দহন করে। সব সময় তারা অস্বস্তিতে ভোগে। একটা সময়ে স্ত্রীর কাছ থেকে দাসসুলভ আচরণ, ছেলেমেয়ের কাছ থেকে পশুর ন্যায় হিংস্র আচরণ তাদের জীবন অতিষ্ঠ করে তোলে। পরিবারের কারও স্বার্থে আঘাত এলেই ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। এমনকি স্বামী স্ত্রীকে কিংবা স্ত্রী স্বামীকে খুন করতে কসুর করে না। অথবা সন্তান বাবা-মাকে খুন করে। বস্তত অসৎ পথে উপার্জিত অর্থই মানুষের কুকর্মের পথ প্রশস্ত করে থাকে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মার্কেট, কাঁটাবন, ঢাকা




আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত