সোলায়মান মোহাম্মদ    |    
প্রকাশ : ২৬ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
ভালো মানুষ হওয়ার পাশাপাশি ভালো ফলাফলও দরকার

একযোগে দেশের ১০টি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। সম্মিলিত পাসের হার ৬৮.৯১ শতাংশ। পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল মোট ১১ লাখ ৬৩ হাজার ৩৭০ জন। পাস করেছে ৮ লাখ ১ হাজার ৭১১ জন শিক্ষার্থী। গত বছর ১০ বোর্ডে মোট পাসের হার ছিল ৭৪.৭০ শতাংশ। গত বছরের চেয়ে এ বছর পাসের হার কমেছে ৫.৭৯ শতাংশ। এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৭ হাজার ৯৬৯ জন। গত বছর পেয়েছিল ৫৮ হাজার ২৭৬ জন। দেখা যাচ্ছে, এ বছর জিপিএ-৫ কম পেয়েছে ২০ হাজার ৩০৭ শিক্ষার্থী।

এইচএসসি পরীক্ষার ফল বিপর্যয়ের বিষয়টি এখন সর্বত্রই আলোচিত। যেখানে দেশ এগিয়ে চলেছে, সেখানে পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল পিছিয়ে কেন- এ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা চলছে; যে যার মতো মন্তব্য করছে। কেউ মন্তব্য করছে, আমরা কি তাহলে শিক্ষাক্ষেত্রে পিছিয়ে যাচ্ছি? অনেকে আবার সৃজনশীল পদ্ধতিকে দায়ী করছেন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের গাফিলতির অভিযোগও উঠেছে। আবার সমালোচনার ঠিক উল্টোদিকে অনেকের অবস্থান। তাদের মতে, পরীক্ষায় আশানুরূপ ফলাফল সবসময় নাও পাওয়া যেতে পারে। জিপিএ-৫ অর্জন কমে যাওয়ার বিষয়টিকে তারা যেভাবে মূল্যায়ন করছেন তা হল- জিপিএ-৫ অর্জনই মূলকথা নয়, শিক্ষার্থীদের মৌলিক জ্ঞান অর্জনের বিষয়টিই মুখ্য। দেশের অনেক বুদ্ধিজীবী থেকে শুরু করে সরকারের উচ্চপর্যায়ের অনেককেই বলতে দেখা গেছে- ফলাফলের চেয়ে বড় বিষয় হল মানুষের মতো মানুষ হওয়া; সঠিক জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়া ইত্যাদি।

প্রশ্ন হল, কোনো পরীক্ষার ফলাফলে কী পরিমাণ বিপর্যয় বা শতকরা কত ভাগ ছাত্রছাত্রী ফেল করলে তা স্বাভাবিক বলে মেনে নেয়া যাবে? এই যে বলা হচ্ছে, জিপিএ বা পয়েন্ট মূল বিষয় নয়, শিক্ষার্থীরা মানুষের মতো মানুষ হল কিনা, সেটাই দেখার বিষয়- এ ব্যাপারে সহমত পোষণ করছি, কিন্তু দয়া করে বলবেন কি, কতটা ‘ভালো মানুষ’ হলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় জিপিএ কম পাওয়া ছাত্রছাত্রীরা ভর্তির সুযোগ পাবে? কতটা ‘ভালো মানুষ’ হলে লেখাপড়া শেষ করে ভালো কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার সুযোগ পাবে? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মানবিক বিভাগ থেকে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সর্বনিন্ম যোগ্যতা হল, এসএসসি ও এইচএসসি মিলিয়ে জিপিএ-৭ এবং বিজ্ঞানে ৮। এ রকম অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য রয়েছে নির্ধারিত পয়েন্ট। আমার পরিচিত কয়েকজন শিক্ষার্থী সৎ, আদর্শবান ও খুবই ভদ্র, অর্থাৎ এককথায় ভালো মানুষ। কিন্তু মানবিক বিভাগ থেকে পাস করা এসব শিক্ষার্থীর জিপিএ-৭ ও বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের জিপিএ-৮ নেই। তাদের কি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ দেয়া হবে? আমার কয়েকজন বন্ধু রয়েছে, যারা ৩য় বিভাগ পেয়ে বিএ পাস করেছে। বিশ্বাস করুন, তাদের সবাই খুবই ভালো মানুষ। তাদের খুব ইচ্ছা, পুলিশের এসআই ও ব্যাংক কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার। কিন্তু বাস্তবতা হল, ৩য় বিভাগপ্রাপ্ত হওয়ায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্তের কারণে তারা আবেদন করার যোগ্যতাই রাখে না। যদি পরীক্ষার ফলাফল ভালো করার চেয়ে ভালো মানুষ হওয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়, যেটা অনেকেই বলছেন; তাহলে জিপিএ কম পাওয়ার কারণে কেন ভর্তি পরীক্ষা বা চাকরির আবেদন করার ক্ষেত্রে এমন বৈষম্য থাকবে? যুক্তির কথা হল, ভালো মানুষ হওয়া যেমন জরুরি, তেমনি ভালো ফলাফলও বাঞ্ছনীয়। আমরা পিছাতে রাজি নই। গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছরের ফলাফল খারাপ, এ সত্য মেনে নিতে হবে। এর যথোপযুক্ত কারণ অনুসন্ধান করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করাটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, এইচএসসির রেজাল্ট একজন শিক্ষার্থীর জীবনের ভালোমন্দ অনেক কিছুর নির্ণায়ক। এইচএসসির ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই একজন শিক্ষার্থীকে পরবর্তী শিক্ষাজীবনের কথা ভাবতে হয়। কাজেই ভালো, সৎ, আদর্শবান ও নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষ হওয়া যেমন দরকার, তেমনি ছাত্রজীবনে ভালো ফলাফল করাও জরুরি।

সংবাদকর্মী, গাজীপুর, ঢাকা


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত