তাজওয়ার তাসিন    |    
প্রকাশ : ২৬ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
বেআইনিভাবে পাহাড় কাটা রোধ করুন
চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে পাহাড় ধসের ঘটনায় অন্তত ১৫০ জনের মৃত্যুর পর আবারও একই কারণে মানুষ মারা গেছে। নির্বিচারে পাহাড় কেটে বসতি স্থাপন এবং বন-জঙ্গল ও গাছ উজাড়ের কারণেই চট্ট্রগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। পাহাড়ের গায়ে জন্মানো বন-জঙ্গল ও গাছপালা এর অভ্যন্তরীণ বন্ধন মজবুত রাখে। দেখা যাচ্ছে, বসতিসহ অন্যান্য প্রয়োজনে অব্যাহতভাবে পাহাড় কাটা হচ্ছে। এতে পাহাড় ধসের পথ সুগম হচ্ছে; পরিণতিতে প্রায় প্রতিবছরই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ। দুঃখজনক হল, স্থানীয় সাধারণ মানুষ ছাড়াও প্রভাবশালী মহল ও সরকারি বিভিন্ন সংস্থার বিরুদ্ধে পাহাড় কাটার অভিযোগ রয়েছে। অথচ এ ব্যাপারে কঠোর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, এমন নজির নেই। ফলে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য জেলাগুলোয় অবাধে পাহাড় কাটা, অবৈধ স্থাপনা ও বসতি নির্মাণ বন্ধ হয়নি। ইতিপূর্বে দেখা গেছে, একটানা বর্ষণের আলামত স্পষ্ট হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের সতর্ক করার পাশপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হতো। এবার তারা এ কাজটি সঠিকভাবে করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। ব্যাপক প্রাণহানি ও হতাহতের ঘটনায় প্রশাসন তাদের দায় এড়াতে পারে কি? ভারি বর্ষণ ও ভূমিধসের পূর্বাভাস পাওয়ার পর প্রশাসন যথাযথ পদক্ষেপ নিলে বিপুল প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির অনেকটাই এড়ানো যেত, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
২০০৭ সালে ভয়াবহ পাহাড় ধসের পর একসঙ্গে ১২৭ জনের মৃত্যুর পরও দেখা যাচ্ছে, মর্মান্তিক এ ঘটনা থেকে মানুষ কোনো শিক্ষা নেয়নি। এর প্রমাণ, ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা না কমে বরং দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়া। এ ব্যাপারে সরকারেরও তেমন মাথাব্যথা আছে বলে মনে হয় না। ‘মৃত্যুকূপে’ বসবাসকারীদের সেখান থেকে সরিয়ে অন্য কোথাও পুনর্বাসন করা যায় কিনা, ভেবে দেখা জরুরি। উদ্বেগের বিষয় হল, বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাহাড় ও পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে এখনও বসবাস করছে লক্ষাধিক মানুষ। পাহাড় কাটা সম্পূর্ণ বেআইনি হলেও প্রভাবশালীসহ অন্যরা প্রশাসনের নাকের ডগায় পাহাড় কাটা অব্যাহত রেখেছে। এতে পরিবেশ বিপর্যয়সহ বিভিন্ন প্রকার ক্ষয়ক্ষতির আশংকা তৈরি হলেও প্রশাসন কেন যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা দরকার। ২০০৭ সালের মর্মান্তিক পাহাড় ধসের ঘটনায় এবং ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি পাহাড় ধসের ২৮টি কারণ নির্ধারণ করে ৩৬ দফা সুপারিশ প্রণয়ন করেছিল, যা আজও তা বাস্তবায়িত হয়নি। একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে- প্রকৃতি তার নিজস্ব নিয়মে চলে। পরিবেশ রক্ষায় আমরা যদি আন্তরিক না হই, তাহলে আমাদের জীবন ও সম্পদ দিয়ে সে দায় শোধ করতে হবে। শিক্ষার্থী, ঢাকা



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত