মোহাম্মদ আবু নোমান    |    
প্রকাশ : ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
বিদ্যালয়ে চলন্ত সিঁড়ি স্থাপনের যৌক্তিকতা কতটুকু?
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চলন্ত সিঁড়ি (এস্কেলেটর) স্থাপনের প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এ প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ১১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ১৬৩টি বিদ্যালয়ে এস্কেলেটর স্থাপন করার প্রস্তাব দিয়েছে মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতর। একনেকে প্রকল্পটি পাস হতেও দেরি হয়নি।
দফতরি আর একজন শিক্ষককে নিয়ে পুরো বিদ্যালয় সামাল দেয়া; বেশির ভাগ বিদ্যালয়ে পলেস্তারা খসে পড়া; চেয়ার, টেবিল, বেঞ্চ বেশিরভাগই ভাঙা; সুরকি ওঠা ব্লাকবোর্ড; পর্যাপ্ত ডাস্টার, চক নেই। এছাড়া দেশে অসংখ্য বিদ্যালয় আছে, যেখানে টিউবওয়েল নেই, বাথরুম নেই; থাকলেও বদনা নেই। চরাঞ্চল বা পার্বত্য অঞ্চলের অবস্থা তো আরও খারাপ। জরাজীর্ণ ঘরের সঙ্গে বেড়া ভাঙা থাকায় যেখানে দেশের শত শত স্কুল বর্ষাকালে গোয়ালঘরে রূপান্তরিত হয়, সেখানে আমরা ১ হাজার ১১৬ কোটি টাকা খরচ করে চলন্ত সিঁড়ির কথা ভাবি! বলা হয়, গরিবের ঘোড়া রোগ। সংশ্লিষ্টদের অবস্থা হল, লুঙ্গির সঙ্গে ‘টাই’ পরে ভদ্রলোক সাজার চেষ্টা!
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মনিটরিং বিভাগের (এনএসএ) সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলায় শতকরা ৭১ ও গণিতে ৬৮ ভাগ শিশুই তার যেটুকু পারার কথা, তা পারে না। তাহলে ৭০ শতাংশ শিশুকে প্রায় কোনো কিছু না শিখিয়ে চলন্ত সিঁড়িতে ওঠানামার বন্দোবস্ত করে দিলেই কি তারা বাংলা ও গণিতে যোগ্যতা অর্জন করে ফেলবে? নাকি দুনিয়াকে ‘উন্নয়ন’ দেখাতে উন্নয়নের চলন্ত সিস্টেম? ১ হাজার ১১৬ কোটি টাকার চলন্ত সিঁড়ি প্রকল্প চলমান দুর্নীতির অনন্য দৃষ্টান্ত, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
শিক্ষকের ১০০ ভাগ বেতন বাড়ানোর সুফল হল, শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা শেখানোর দায়িত্ব তারা অভিভাবকদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে নোট, গাইড, স্কুল ডায়েরি, ড্রেস ও কোচিং ব্যবসার পাশাপাশি প্রশ্নপত্র ফাঁস করে হলেও ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষায় পাস দায়িত্ব নিয়েছেন শিক্ষকরা। যেখানে স্কুলগুলোয় পড়াশোনাই হয় না, সেখানে চলন্ত সিঁড়ি স্থাপনের নামে রাষ্ট্রের হাজার কোটি টাকা লুটের নেপথ্যে থাকা বণিকদের মুখোশ উন্মোচিত করা জরুরি। আচ্ছা, নতুন পে-স্কেলধারী আরামপ্রিয় শিক্ষকদের কষ্ট লাঘবের জন্য কি চলন্ত সিঁড়ি স্থাপনের চিন্তা মাথায় এসেছে? নাকি প্রশ্ন ফাঁসের কল্যাণে মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়া ডাক্তারের মতো, যারা গজ-ব্যান্ডেজ-কাঁচি ইত্যাদি রোগীর পেটে রেখেই পেট সেলাই করে দিচ্ছে, এরকম মেধাহীন জাতির সৈনিকরা এসব চলন্ত সিঁড়ি ব্যবহার করে উপরে উঠবে!
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের বোঝা উচিত- ছাত্রছাত্রীদের দরকার যোগ্য ও আদর্শ শিক্ষকমণ্ডলী। দরকার বিদ্যালয়ের পরিবেশ সুন্দর, সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক রাখা। এজন্য যা যা করা দরকার, তাই করা উচিত। জ্ঞানার্জন ও মেধা বিকাশের প্রচেষ্টা বাদ দিয়ে অলস ও শৌখিন ভাব ধরে জাতির উন্নতি হবে না।
কদমতলী, ঢাকা
[email protected]



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত