জয়নুল আবেদীন স্বপন    |    
প্রকাশ : ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
খালের নাম আম্বুরিয়া
ছোট্ট একটি খাল। নাম আম্বুরিয়া। ভাওয়ালের উঁচু ভূমি (স্থানীয় নাম টিলা) থেকে সৃষ্ট ঝরনা থেকে প্রথমে নালা ও পরে বৃষ্টির পানির প্রবল স্রোত আম্বুরিয়া খালের জন্ম দিয়েছে বলে ধারণা করা হয়। ছোট এ খাল পূর্বদিকে ভাওয়ালের শালবন থেকে উৎপন্ন হয়ে প্রায় ৪ কিলোমিটার আঁকাবাঁকা পথে পশ্চিমে শালদহ নদীতে মিশেছে। এ খাল গাজীপুর জেলার রাথুরা মৌজায় ভেরামতলী ও পিরুজালী গ্রামের সীমানা নির্ধারণ করেছে। খালের উত্তরে শ্রীপুর উপজেলার ভেরামতলী গ্রাম ও দক্ষিণে গাজীপুর সদরের পিরুজালী গ্রাম। খালটি যেখানে শালদহ নদীতে মিশেছে, সেখানে এসে সংযুক্ত হয়েছে গাজীপুরের তিনটি উপজেলা শ্রীপুর, কালিয়াকৈর ও গাজীপুর সদর। এ তিন উপজেলা একসঙ্গে মিশে তেমাথার সৃষ্টি করেছে। আকর্ষণীয় এ স্থানটি পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ঘন গজারি বনের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া খালটির রূপ-সৌন্দর্য দেখে বিমোহিত হতে হয়। আম্বুরিয়া খালঘেঁষেই ভেরামতলী গ্রাম। এ গ্রামেই আমার জন্ম হয়েছে। ছেলেবেলায় আম্বুরিয়া খালে সাঁতার কেটে, মাছ ধরে সময় কেটেছে আমার। এ খালটি এক সময় এলাকাবাসীর জীবন-জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। বর্তমানে মাটি ভরাট ও দখলের শিকার হয়ে আম্বুরিয়া অনেকটা মরা খালে পরিণত হয়েছে। একতরফা বাঁধ নির্মাণের কারণে খালটি নাব্যতা হারিয়েছে। আগে আম্বুরিয়া খালে শত শত ঝরনা ছিল। এখন স্বচ্ছ পানির ঝরনা চোখেই পড়ে না। শুষ্ক মৌসুমে খালের পানি একেবারেই শুকিয়ে যায়। পারাপারের জন্য খালটির ওপর তিন স্থানে বাঁশের সাঁকো ও এক স্থানে ছোট ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। ভুল নকশায় সাত বছর আগে নির্মিত ব্রিজটি নিচু হওয়ায় সব ধরনের নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ব্রিজটি পুনর্নির্মাণের জন্য লেখালেখি করেও কোনো লাভ হয়নি।
ব্রিজ নির্মাণের আগে এ খাল দিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে অনেক মানুষ নৌকাযোগে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতেন। শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ স্থির থাকলেও বর্ষার সময় খালটি কানায় কানায় ভরে যায়। দু’পাশে গজারি বন থাকায় জলরাশিতে পূর্ণ আম্বুরিয়া তখন নতুন রূপ ধারণ করে। তাকে অসম্ভব সুন্দর ও মনোরম দেখায়। বলার অপেক্ষা রাখে না, খালে পানি থাকলে সেচের মাধ্যমে কৃষকরা বোরো আবাদ করতে পারবে। মাছ শিকারও সহজ হবে। তবে খালটি মাটিতে ভরে যাওয়ায় এসবই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আম্বুরিয়ার প্রকৃত রূপ ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেয়া জরুরি। সঠিক সীমানা নির্ধারণের পর যথাযথভাবে খনন কাজ সম্পন্ন হলে কৃষক সেচ সুবিধা পাবে। জেলেরা পাবে মাছ শিকারে সুযোগ। আর আম্বুরিয়াও ফিরে পাবে তার রূপ-যৌবন ও স্বকীয়তা।
ভেরামতলী, গাজীপুর



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত