মুনযির আকলাম    |    
প্রকাশ : ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
রাতারগুলকে সংরক্ষণ করুন
দেশের একমাত্র মিঠাপানির জলাবন বা সোয়াম্প ফরেস্ট (swamp forest) এবং বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য, মিশ্র চিরসবুজ বন ও বিচিত্র জীববৈচিত্র্যের কারণে পৃথিবীর মধ্যে অন্যতম রাতারগুল। সারা পৃথিবীতে স্বাদুপানির জলাবন আছে মাত্র ২২টি। ভারতীয় উপমহাদেশে আছে দুটি। একটি শ্রীলংকায়, আরেকটি বাংলাদেশের রাতারগুল। অনিন্দ্যসুন্দর বিশাল এ বনের তুলনা চলে একমাত্র আমাজনের সঙ্গে। আমাজনের মতোই এখানকার গাছগাছালির বেশির ভাগ অংশ বছরে চার থেকে সাত মাস পানির নিচে থাকে। রেইন ফরেস্ট নামে পরিচিত হলেও বিশ্বের স্বাদুপানির সবচেয়ে বড় সোয়াম্প ফরেস্ট কিন্তু এটিই!
প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্টের আয়তন ৩ হাজার ৩২৫ দশমিক ৬১ একর। এর মধ্যে ৫০৪ একর বন ১৯৭৩ সালে বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য ঘোষণা করে বনবিভাগের অধীনে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। দেশের একমাত্র স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এই জলাবন সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নে অবস্থিত। বনের দক্ষিণ দিকে রয়েছে দুটি হাওর- শিমুল বিল হাওর ও নেওয়া বিল হাওর। উত্তরে মেঘালয় থেকে নেমে আসা সে নদী, বিভিন্ন প্রাণী এবং প্রকৃতির অসাধারণ সৌন্দর্যকে বছরের পর বছর লালন করে চলেছে বিশ্বের বিরল এই বনটি।
বিশাল এ বনে জলসহিষ্ণু প্রায় ৭৩ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। রাতারগুল জলমগ্ন বলে এই বনে সাপের আবাস বেশি, আছে জোঁকও। বনে সাপের মধ্যে নির্বিষ গুইসাপ, জলঢোঁড়া ছাড়াও রয়েছে গোখরাসহ বিষাক্ত অনেক প্রজাতি। বর্ষায় বনের ভেতর পানি ঢুকলে এসব সাপ গাছের ওপর উঠে পড়ে। বনের ভেতর দাঁপিয়ে বেড়ায় মেছোবাঘ, কাঠবিড়ালি, বানর, ভোঁদড়, বনবিড়াল, বেজি, শিয়ালসহ নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণী। টেংরা, খলিশা, রিঠা, পাবদা, মায়া, আইড়, কালবাউস, রুইসহ আরও অনেক জাতের মাছ পাওয়া যায় এখানে। পাখির মধ্যে আছে সাদাবক, কানিবক, মাছরাঙা, টিয়া, বুলবুলি, পানকৌঁড়ি, ঢুপি, ঘুঘু, চিল ও বাজ। শীতে মাঝেমধ্যে আসে বিশালাকার সব শকুন। আর লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে ঘাঁটি গাড়ে বালিহাঁসসহ হরেক জাতের দেশি ও অতিথি পাখি। শুকনো মৌসুমে ডিঙ্গি নিয়ে ভেতরে গেলে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি উড়ে সরে গিয়ে আপনাকে পথ করে দেবে। এ দৃশ্য আসলেই দুর্লভ! গাছের মধ্যে এখানে করচ-ই বেশি। হিজলে ফল ধরে আছে শ’য়ে শ’য়ে। বটও চোখে পড়বে মাঝে মধ্যে। আছে পিঠালি, অর্জুন, ছাতিম, গুটিজাম। আর বনের দক্ষিণে মুর্তা (পাটি) গাছের প্রাধান্য।
কাল পরিক্রমায় সৌন্দর্য হারাতে বসেছে রাতারগুল। পরিবেশবিদদের মতে, বনটি সংরক্ষণ করে প্রাকৃতিক জাদুঘর ঘোষণা ও রক্ষণাবেক্ষণ করলে টিকে থাকবে মিঠাপানি জলাবনের ঐতিহ্য, তৈরি হবে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা।
ব্যবসায়ী, কোরপাই, বুড়িচং, কুমিল্লা
mooû[email protected]



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত