• বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০
মিজান চৌধুরী    |    
প্রকাশ : ০৭ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
মুনাফা নেই শুধু ধানে কৃষকের রক্তক্ষরণ

সব ধরনের খরচের পর কৃষকের এক মণ ধান উৎপাদনে এ বছর ব্যয় হচ্ছে ৭শ’ টাকা। কিন্তু এই ধান মৌসুমের শুরুতে সাড়ে চারশ’ টাকায় বিক্রি করেছেন কৃষকরা। তবে বর্তমানে ৬শ’ টাকা দরে বেচাকেনা হচ্ছে। ওই হিসাবে ধান উৎপাদন করে কৃষক লোকসান গুনছে। তারা উৎপাদনের খরচ তুলতে পারেনি। সরকারও বিষয়টি স্বীকার করছে।

পাশাপাশি সরকার ধান কেনার ঘোষণা দিলেও অধিকাংশ কৃষক বিক্রি করতে পারছেন না। কারণ সরকার ধান কেনার ক্ষেত্রে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত মসচারাইজড (শুকনো) গ্রহণ করছে। কিন্তু অনেক কৃষকের ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত রয়েছে। যে কারণে সরকার ৯শ’ টাকা দরে ধান কেনার ঘোষণা দেয়া হলেও অধিকাংশ কৃষকরা বিক্রি করতে পারছেন না।

এ প্রসঙ্গে সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ও বর্তমান অর্থ মন্ত্রণালয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, এ বছর কৃষকরা ধান চাষ করে লোকসান গুনছে। কারণ বিক্রি করতে গিয়ে তারা উপযুক্ত মূল্য পায়নি। অনেক কৃষক সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে পারছেন না। তিনি আরও বলেন, কৃষকরা লোকসান গুনলেও নীরবে সহ্য করে নিচ্ছেন। তিনি বলেন, ধানের মূল্যের ব্যাপারে আমি বিশেষভাবে খোঁজ নিয়েছি। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে কৃষকরা এ বছর চরম লোকসানে আছেন। জানা গেছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকার কারণে এ বছর ধান উৎপাদন ভালো হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় বোরো ধানের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু ধানের বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্য দর পাওয়া পায়নি। বিশেষ করে ধানের এ দরপতনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রান্তিক চাষীরা। কেউ কেউ পেশা পরিবর্তনেরও কথা ভাবছেন। এরই মধ্যে অনেকে ধান চাষ বাদ দিয়ে অধিক লাভজনক ফসল চাষের দিকে ঝুঁকছে।

তবে এ দরপতনের পেছনে কেউ কেউ সরকারের ক্রয়নীতিকে দায়ী করছেন। ধান সংগ্রহের ক্ষেত্রে সঠিক মনিটরিং ও নিয়ন্ত্রণ না থাকায় এমনটা হচ্ছে। ফলে কৃষক তার ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না, কিন্তু এক শ্রেণীর দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীরা সুবিধা নিচ্ছেন। কৃষকদের আরও অভিযোগ, এবারের বোরো মৌসুমের দরপতন অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এক শ্রেণীর দালালরা বাজারে দরপতন ঘটিয়ে কৃষকদের গোলা শূন্য করে পরে তারা বেশি দামে বিক্রি করবেন। কুড়িগ্রামের বেলগাছা ইউনিয়নের কৃষক মির্জা মো. নিজাম উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, এ বছরের শুরুতে ধান বিক্রি করা হয়েছে সাড়ে চারশ’ টাকা মণ। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে মোটা ধান ৬শ’ টাকা ও চিকন চালের ধান ৭শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এই কৃষকের মতে, শুরুতে সঠিক মূল্য না পাওয়ায় তাকে লোকসান গুনতে হয়েছে। বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের কৃষক আমিনুল ১৭ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছেন। ফলনও হয়েছে বাম্পার। কিন্তু তার মন ভালো নেই। কারণ ধানের দাম কম, বাজার মন্দা। শুধু আমিনুল নন, তার মতো এলাকার অনেক কৃষকের মাথায় হাত পড়েছে উৎপাদিত ধানের চিন্তায়। এরকম লোকসান হতে থাকলে ধান চাষ করা কমিয়ে দিতে বাধ্য হবেন বলেও জানান তিনি। কৃষকের হিসাবে প্রতি বিঘা জমিতে ধান চাষ করতে খরচ হয় সাড়ে ১২ হাজার টাকা। আর বিঘাপ্রতি ধান উৎপাদন হয় ২০ থেকে ২২ মণ। উৎপাদন থেকে শুরু করে ধান কাটা, মাড়াই সব মিলিয়ে যে খরচ হয়েছে বিক্রি করতে গিয়ে সে খরচও উঠছে না। ধানের এমন দরে হতাশ কৃষকরা।

জানা গেছে, এ বছরও সরকারিভাবে গত ৫ মে থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশ থেকে ১৩ লাখ টন ধান-চাল সংগ্রহের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ধান ৭ লাখ এবং চাল ৬ লাখ টন। কৃষকদের কাছ থেকে ২৩ টাকা দরে ধান কেনার ঘোষণাও দিয়েছে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

তবে অনেক জেলায় সরকার নির্ধারিত দামে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানের সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র উত্তরাঞ্চলে এ অভিযোগ বেশি। কৃষকরা জানান, সরকার ধান কেনার সময় ১৪ শতাংশের বেশি মসচারাইজড নিচ্ছে না। ফলে অনেক কৃষক চাইলেও ধান বিক্রি করতে পারছেন না সরকারর কাছে। তবে মধ্যস্বত্বভোগী এক শ্রেণীর লোক কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনে তা সরকারকে দিচ্ছেন।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকার নির্ধারিত দামে ধান বিক্রি করতে সরাসরি গুদামে গেলে সংশ্লিষ্টরা কৃষকের কাছ থেকে ক্রয় করতে অনীহা প্রকাশ করছেন। এজন্য বাধ্য হয়ে কম দামে অন্যত্র বিক্রি করতে হচ্ছে। কৃষকদের দাবি, সরকার ঘোষিত দামে ধান ক্রয়ের ক্ষেত্রে অনিয়মগুলো যদি দূর করা যায় তাহলে ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে নেয়া যেত।

কৃষকদের অভিযোগ, মিল মালিকদের কারসাজিতে ন্যায্য মূল্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত