• শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০
মনির হোসেন    |    
প্রকাশ : ০৭ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
বেসরকারিকরণের পর ৩১ শিল্পই বন্ধ
১৬ প্রতিষ্ঠানের দেনা হাজার কোটি টাকা
বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়ার পর ৭৭টি লোকসানি প্রতিষ্ঠানের ৩১টিই এখন বন্ধ অবস্থায় আছে। ব্যাংক থেকে এ জন্য নেয়া হয়েছে বিরাট অংকের ঋণ। তারপরও দীর্ঘদিন ধরেই এসব প্রতিষ্ঠান চালু করা সম্ভব হয়নি। এখন এসব প্রতিষ্ঠান দেনায় জর্জরিত। এর মধ্যে ১৬টি প্রতিষ্ঠানের দেনা ৯৯৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।
আর গত ৭ বছরে মাত্র ৪টি প্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রেখেছে প্রাইভেটাইজেশন কমিশন। তবে প্রতিষ্ঠান চালু না হওয়ার জন্য পুঁজি ও গ্যাস-বিদ্যুতের অভাব এবং ব্যাংক ঋণের অতিরিক্ত সুদকে দায়ী করছে তারা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কমিশনের গঠনের ব্যাপারে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হয়নি। এ কারণে কমিশনের সঙ্গে বিনিয়োগ বোর্ডকে একীভূত করে ব্যয় কমানোর বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। তবে তা মানতে নারাজ প্রাইভেটাইজেশন কমিশন। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, বেসরকারিকরণে লাভ হয়েছে। কারণ এসব প্রতিষ্ঠানে ৩১ হাজার লোকের কর্মসংস্থান ছিল। বর্তমানে তা বেড়ে ৯০ হাজারে উন্নীত হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে অলাভজনক ও লোকসানি সরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান বেসরকারি মালিকানায় হস্তান্তরের মাধ্যমে সরকারি ব্যয় কমানোর জন্য ১৯৯৩ সালে প্রাইভেটাইজেশন কমিশন গঠন করা হয়। কিন্তু এখন কমিশনই সরকারের বোঝা। কারণ প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৭৭টি প্রতিষ্ঠান বেসরকারিকরণ করা হয়েছে। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রতিষ্ঠানটিকে ঢেলে সাজানো হয়। চেয়ারম্যানকে দেয়া হয় প্রতিমন্ত্রীর মযার্দা। এরপর ২৩টি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানকে বেসরকারি খাতে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে। তবে ফলাফল শূন্য। এ সময় শুধু লিজ নীতিমালা তৈরি আর কমিশনের আইন পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়া হয়। এমনকি অলাভজনক এবং লোকসানি সরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান বেসরকারি মালিকানায় হস্তান্তরের মাধ্যমে ব্যয় কমাতে পারেনি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কমিশনের সাবেক সচিব নেছার আলী রুমী কোনো কথা বলতে রাজি হননি। সাবেক সচিব ড. মো. ইউনুস আলী প্রামাণিক বলেন, ইতিবাচক বেশ কিছু কাজ রয়েছে। কমিশন রাষ্ট্রায়ত্ত ৩৯ প্রতিষ্ঠানের ১ হাজার ২৮৮ একর অতিরিক্ত জমির সন্ধান বের করেছে। এসব জমির বিষয়ে উদ্যোগ নিলে প্রায় আড়াইশ’র বেশি নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। আর এ শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ৫০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। এসব জমির দীর্ঘমেয়াদি লিজ দিলেও প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা আয় হবে। জানা গেছে, কমিশন গঠনের পর থেকে বেসরকারি খাতে যাওয়ার পর যেসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে এগুলো হল- কিশোরগঞ্জ টেক্সটাইল মিল, সার্ভিস ফ্যাসিলিটিজ সেন্টার, সাতরং টেক্সটাইল মিলস, মেটালেক্স কর্পোরেশন, ইস্টার্ন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ঢাকা ভেজিটেবল অয়েল, বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ মুন্সিগঞ্জ, ফিরোজ আটা ও ডাল মিলস, বিজি বাংলা রাইস মিলস, কর্নফ্লাওয়ার মিলস, দোশা এক্সট্রাকশন, আশরাফিয়া অয়েল মিল, বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ খুলনা, বাওয়া জুট মিল, ঈগল বক্স অ্যান্ড কার্টুন, স্কুইব বাংলাদেশ লিমিটেড, কোহিনূর ব্যাটারি ম্যানুফ্যাকচারিং, ফিস এক্সপোর্ট বাজুয়া এবং ম্যানগ্রোভ টেনিন। সূত্র জানায়, গত ৭ বছরে ৪টি প্রতিষ্ঠানকে বেসরকারি করেছে প্রাইভেটাইজেশন কমিশন। এর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রামের পার্টিকেল বোর্ড অ্যান্ড ভিনিয়ারিং প্লান্ট, ঢাকার সালাতিন সিন্টিকেট, গাজীপুরের সাতরং টেক্সটাইল মিলস এবং নরসিংদীর হ্যান্ডলুম সার্ভিস সেন্টার। তবে এর মধ্যে ৩টি চালু করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে প্রাইভেটাইজেশন নিয়ে গঠিত টাস্কফোর্সের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে কারখানা বন্ধ থাকার জন্য মোট ১০টি কারণকে চিহ্নিত করা হয়েছে।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত