• শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০
হামিদ বিশ্বাস    |    
প্রকাশ : ০৭ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
রাষ্ট্রায়ত্ত ৪ ব্যাংকের ১০ বছর
গচ্ছা সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা
রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক নিয়ে বিপদে আছে সরকার। গত ১০ বছরে ব্যাংক চারটির পেছনে সরকারের গচ্ছা গেছে প্রায় ৬ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা। মূলধন ঘাটতির কারণে বিভিন্ন সময় জনগণের করের টাকায় সরকার এসব ব্যাংককে সচল রেখেছে। এই হিসাব গত বছরের শেষের দিকের। নতুন হিসাব চলতি মাসে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাতে সরকারের গচ্ছার পরিমাণ আরও বাড়বে- এমন আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের আপত্তি সত্ত্বেও লোকসানি শাখার লোকসান আরও বাড়ছে। গত ১০ বছরে চার ব্যাংকের লোকসানি শাখাও দিন দিন বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে মূলধন ঘাটতি। এতে ক্রমশই ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে দেখা যাচ্ছে, গত ১০ বছরে সরকার মূলধন পুনর্গঠনে সোনালী ব্যাংককে দিয়েছে ৩ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০১৩ সালে ১ হাজার ৯৯৫ কোটি ও ২০১৪ সালে ৭১০ কোটি টাকা দিয়েছে সরকার। বাকি টাকা দিয়েছে পরের বছর। ২০১৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি ছিল প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। একইভাবে গত ১০ বছরে সরকার মূলধন পুনর্গঠনে জনতা ব্যাংককে দিয়েছে ১ হাজার ২৫২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০১৩ সালে ৮১৪ কোটি টাকা দিয়েছে সরকার। বাকি টাকা দিয়েছে পরের দুই বছর।
অগ্রণী ব্যাংককে দিয়েছে ১ হাজার ৩৮১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ৮১ কোটি টাকাই দেয়া হয়েছে ২০১৩ সালে। বাকি টাকা দিয়েছে পরের বছর। গতবছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি ছিল ৯৩ কোটি টাকা। গত ১০ বছরে রূপালী ব্যাংককে দিয়েছে ২৭৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২১০ কোটি টাকাই দেয়া হয়েছে ২০১৩ সালে। বাকি টাকা দেয়া হয়েছে পরের বছর। ২০১৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি ছিল ৩৫৫ কোটি টাকা। ব্যাংকগুলো বড় ঋণখেলাপিদের কাছ থেকে তেমন টাকা আদায় করতে পারছে না। এদের মূলধন ঘাটতি কমার পরিবর্তে উল্টো বাড়ছে। গত বছরের প্রথম নয় মাসে চার ব্যাংকের লোকসানি শাখা দ্বিগুণ ছাড়িয়ে তিন গুণের কাছাকাছি হয়েছে।
জানা গেছে, সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক খেলাপি ঋণ, লোকসানি শাখা কমানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে বছরওয়ারি লক্ষ্যমাত্রা দিয়ে আসছে। কোন ব্যাংক কতটা সফল হল, তা যাচাই করতেই তিন মাস পর পর বৈঠক করা হয় এসব ব্যাংকের সঙ্গে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে এ সংক্রান্ত সর্বশেষ বৈঠকে এই চিত্র উঠে এসেছে। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চার ব্যাংকে লোকসানি শাখা দাঁড়িয়েছে ৩০৩টি, গত বছর যা ছিল ১২১টি। সোনালী ব্যাংকের লোকসানি শাখা ৩১ থাকলেও সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে ১৩০টি হয়েছে। এভাবে জনতা ব্যাংকের লোকসানি শাখা ৬০ থেকে বেড়ে ৭২, অগ্রণী ব্যাংকের ২২ থেকে বেড়ে ৭২ এবং রূপালী ব্যাংকের লোকসানি শাখা ৮ থেকে বেড়ে ২৯টি হয়েছে।
জনগণের আমানতের হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণের নামে ‘অপাত্রে’ দেয়ার কারণেই ব্যাংকগুলোতে মূলধনের ঘাটতি হচ্ছে বলে সমালোচনা রয়েছে। সেই ঘাটতি পূরণ করে সরকার করের টাকায়।
গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, চার ব্যাংকের মূলধনের ঘাটতি ৩ হাজার ৫২ কোটি টাকা। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংকের মূলধনের ঘাটতি ২ হাজার ১৫ কোটি টাকা, আগের বছরে যা ছিল ৩৯৪ কোটি টাকা। গত বছর জনতা ব্যাংকের মূলধন উদ্বৃত্ত ছিল ১০৮ কোটি টাকা, অথচ সেপ্টেম্বরে মূলধনের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬৬৩ কোটি টাকা। এছাড়া গত বছর অগ্রণী ব্যাংকের ১৪৩ কোটি টাকার মূলধন উদ্বৃত্ত ছিল।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত