শাহ আলম খান    |    
প্রকাশ : ২১ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
গবাদিপশুর চামড়ার দাম নির্ধারণে খামখেয়ালি
লক্ষ্য ৭০ লাখ পশুর ২৫ কোটি বর্গফুট চামড়া সংগ্রহ
কোরবানির গবাদিপশুর চামড়া নিয়ে সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম খামখেয়ালি চলছে। দাম নির্ধারণের বিষয়টি সরকার পুরোপুরি ব্যবসায়ীদের হাতে ছেড়ে দিয়েছে। আর ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে প্রতিবছরই কমাচ্ছে। এ কারণে চামড়ার ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না কোরবানিদাতা। গত তিন বছরের চামড়ার বাজার পর্যালোচনা করে তথ্য পাওয়া গেছে। সংশ্লিরা জানিয়েছেন, প্রতিবছর দেশে সংগৃহীত কাঁচা চামড়া দিয়ে অভ্যন্তরীণ বাজার ও বহির্বিশ্বে রফতানি মিলে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য হচ্ছে। অথচ যাকে দিয়ে এতবড় লেনদেন হচ্ছে, সেই মূল্যবান কাঁচা চামড়া কারসাজি করে এক থেকে দেড় হাজার কোটি টাকার মধ্যে কিনে নেয়া হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ) সভাপতি শাহীন আহমেদ বলেন, চামড়ার আন্তর্জাতিক বাজার দর কম। তাই দেশেও এর দাম কম হবে। বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়ার এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএলএলএফই) সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারদর কমে যাওয়ার বিষয়টি তো রয়েছেই, এর বাইরেও এ বছর চামড়ার দাম কমার অনেকগুলো যৌক্তিক কারণ রয়েছে। মূল্য নির্ধারণ করা হলে সে কারণগুলো বিবেচনা করেই নির্ধারণ করা হবে। জানা গেছে, কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করে যে টাকা পাওয়া যায়, তা বিভিন্ন মাদরাসা ও গবিরদের বিলিয়ে দেয়ার প্রচলন রয়েছে। ফলে এরাই চামড়ার পাওনাদার। কিন্তু বিভিন্ন অজুহাতে প্রতিবছরই নামমাত্র মূল্যে চামড়ার দাম নির্ধারণ করছে ব্যবসায়ীরা। এ ক্ষেত্রে যে সব অজুহাত দেখানো হচ্ছে সেগুলো হল- বিশ্ববাজারে দর কম থাকা, আগের বছরের বিপুল পরিমাণ চামড়া মজুদ এবং এ বছর চামড়ার চাহিদা কম। সূত্রগুলো বলছে, এ বছর সারা দেশ থেকে কোরবানির মৌসুমে ৭০ লাখ পিস পশুর কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করা হবে। এর থেকে প্রায় সাড়ে ২৫ কোটি বর্গফুট চামড়া মিলবে। প্রতি পিস গরুতে গড়ে সাড়ে ২২ বর্গফুট, মহিষে ২৫ বর্গফুট এবং খাসি, ভেড়া ও ছাগল থেকে ৫ বর্গফুট চামড়া পাওয়া যায়।
এ হিসাবে এ বছর কোরবানির মৌসুমে ৪০ লাখ পিস গরু, ১০ লাখ পিস মহিষ এবং ২০ লাখ পিস খাসি, ভেড়া ও ছাগল থেকে এ পরিমাণ চামড়া পাওয়া যাবে। কোরবানির মৌসুমে মাঠপর্যায় থেকে এ সব কাঁচা চামড়ার সংগ্রহ মূল্য হবে আনুমানিক প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। প্রকৃত দর পাওয়া গেলে মাঠপর্যায়ের এ মূল্য কয়েক হাজার কোটি টাকা হতে পারত। তবে চামড়াসংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটের কারসাজির কারণে দেশের এই মূল্যবান সম্পদের প্রকৃত দর থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গরিব মানুষ।
বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব মো. রবিউল আলম বলেন, সরকার চামড়ার দাম নির্ধারণের বিষয়টি ব্যবসায়ীদের ওপর ছেড়ে দেয়াতে প্রতিবছরই এ নিয়ে খামখেয়ালিপনা হচ্ছে। বছর ঘুরতেই কমছে দাম। অথচ এটি দেশের মূল্যবান সম্পদ। আমরা এটিকে যথাযথভাবে রক্ষা করতে পারছি না। তিনি দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে সরকারকেই মূল ভূমিকা পালনের দাবি জানান। গত তিন বছরের চামড়ার দেশীয় বাজারদর পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০১৩ সালে ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৮৫ থেকে ৯০ এবং খাসির চামড়া ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। কিন্তু ২০১৪ সালে তা কমিয়ে প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ৭০ থেকে ৭৫ টাকা এবং খাসির চামড়া ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় নামিয়ে আনা হয়। গত বছর অর্থাৎ ২০১৫ সালে আরও কমিয়ে গরুর চামড়া ৫০-৫৫ টাকা এবং খাসির চামড়া ২০-২২ টাকায় নামিয়ে আনা হয়।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত