যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ২১ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
ভারতীয় গরুর আমদানি কম
মিয়ানমার থেকে আসছে

কোরবানিকে সামনে রেখে ভারতীয় গরুর আমদানি এবার কম। তবে মিয়ানমার ও নেপাল থেকে প্রচুর গবাদিপশু আসছে। অতিরিক্ত নজরদারি ও কড়াকড়ির কারণে ভারতীয় বিভিন্ন সীমান্তে গরু আটকে দেয়া হচ্ছে। আর কৌশলে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে গরু প্রবেশ করলেও তা নিয়ে চলছে চাঁদাবাজির মহোৎসব। রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা এসব চাঁদা নিয়ন্ত্রণ করছেন। এ ছাড়া চাঁদার টাকা আদায় হচ্ছে মন্ত্রী-এমপি, পুলিশ, কাস্টমস ও বিজিবির নামে। ফলে ভারতের অস্বাভাবিক নজরদারি ও দেশে সিন্ডিকেটের চাঁদার নামে হয়রানির কারণে মহাসংকটে পড়েছেন গরুর ব্যবসায়ীরা। আশংকা করা হচ্ছে সার্বিক পরিস্থিতি উন্নতি না হলে আসন্ন কোরাবানি ঈদে গরুর বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বাড়বে মূল্যও। তবে চাঁদাবাজি বন্ধ হলে গতবারের চেয়ে দাম কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশীয় গরুর প্রস্তুতি অত্যন্ত ভালো থাকায় ভারতীয় গরু কম এলেও দাম স্থিতিশীল থাকবে বলে জানয়েছেন গরু ব্যবসায়ীরা।

আমাদের সীমান্ত এলকার প্রতিনিধিরা জানান, এ বছর ব্যাপক হারে চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ী ও খামারিরা। গরু ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এমনিতেই ভারতীয় গরুর সরবরাহ কম। তার ওপর চাঁদাবাজির কারণে তাদের অনেক বেশি মূল্যে গরু বেচতে হবে। না হলে ক্ষতি পোষাবে না। তারা স্বীকার করেন, পথে পথে, খামারে গিয়ে চাঁদার টাকা আদায় করা হচ্ছে। একবার চাঁদা দিলেও আবার ভিন্নজনকে অর্থ দিতে হচ্ছে। এ ছাড়া ঈদের আগে রাজধানীসহ সারা দেশে উত্তরাঞ্চল থেকে গরুর সরবরাহ শুরু হবে। তখন চাঁদাবাজি আরও ব্যাপক হবে বলে আশংকা করছেন তারা। এ হয়রানি বন্ধে গরু ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের শক্ত পদক্ষেপ আশা করছেন। সীমান্ত এলাকা ঘুরে রাজশাহী ব্যুরো চিফ আনু মোস্তফা, কুষ্টিয়া থেকে এএম জুবায়েদ রিপন ও লালমনিরহাট থেকে মো. মিজানুর রহমান দুলাল এবং সাতক্ষীরা থেকে সুভাষ চৌধুরী জানান, চাঁদাবাজি ব্যাপক বেড়ে যাওয়ায় পশুর দামে এর খারাপ প্রভাব পড়তে পারে। এতে ক্রেতাদের পকেট কাটা যাওয়ার আশংকা করা হচ্ছে।

টেকনাফ প্রতিনিধি নুরুল করীম রাসেল জানান, মিয়ানমার থেকে বিভিন্ন ধরনের গবাদিপশু আশা শুরু করেছে। তবে আগামী সপ্তাহে গরু আসা বাড়বে বলে জানান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। শাহপরীর দ্বীপ করিডোর দিয়েই গরু, মহিষ, ছাগল আসা শুরু করেছে। তবে তা গত বছরের তুলনায় কম। সরবরাহ কম হলে এবার দাম বাড়ার আশংকা করছেন ব্যবসাযীরা।

রাজশাহী : সীমান্তপথে শত শত গবাদিপশু এলেও গত বছরের তুলনায় তা কম। বৈধ-অবৈধ দু’ভাবেই গরু আমদানি হচ্ছে। প্রতিদিনই শুল্ক ফাঁকি দিয়ে রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন সীমান্ত পেরিয়ে গরু আসছে। ফলে ঈদে কোরবানির গরুর সংকটের আশংকা রয়েই গেছে। চাঁপাই সীমান্তে গরু-মহিষ চলাচলে বিজিবির সৃষ্ট নানামুখী প্রতিবন্ধকতার অভিযোগও করেছেন স্থানীয় খামারিরা। এ ছাড়া ভারতীয় গরু মহিষ থেকে একাধিক সিন্ডিকেট মোটা অংকের টাকা আদায় করছে। জানা গেছে, গত সাত মাসে রাজশাহী, চাঁপাই ও নওগাঁর বিভিন্ন সীমান্তপথে ৪ লাখ ৬ হাজারের বেশি গরু-মহিষ এসেছে। এসব ২২ কোটি টাকা শুল্ক রাজস্ব আদায় হয়েছে। জানা গেছে, করিডোর থেকে গরুতে ৫০০ টাকা দিয়ে রাজস্ব ছাড়পত্র নেয়ার কথা। সীমান্ত পেরিয়ে গরু নিয়ে সরাসরি সরকার অনুমোদিত খাটালে রাখার কথা। খাটাল খরচ ৫৫ টাকা প্রতি গরুতে। কিন্তু গরু আসার বিষয়টি এভাবে হচ্ছে না। একাধিক সিন্ডিকেট সীমান্তে গরু থেকে তুলছে মোটা অংকের টাকা। এরই মধ্যে কাস্টমস, বিজিবির, মন্ত্রী-এমপি, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের নামে টাকা তোলা হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, সীমান্ত পার করে আনতে একটি গরুতে নিয়ম মাফিক ১ হাজার টাকার বেশি খরচ হওয়ার কথা নয়। অথচ একেক গরুতে ব্যবসায়ীদের গুনতে হচ্ছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। রাজশাহী ১ ব্যাটালিয়ন বিজিবির অতিরিক্ত পরিচালক মেজর নাজিম উদ্দিন আহমেদ বলেন, সীমান্তে বৈধভাবে গরু আসা বেড়েছে। গত ১০ আগস্ট পর্যন্ত সাত মাসে ৪ লাখ ৪ হাজার ৮৮৩টি গরু এসেছে। একই সঙ্গে ৫০ হাজার ২২৬টি মহিষ ও ১০টি ছাগল।

কুষ্টিয়া : কোরবানির ঈদ সামনে রেখে এ অঞ্চলে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন দুই হাজার খামারি। বর্তমান ভারতীয় গরু আমদানি বন্ধ ও সীমান্তে কড়া নজরদারি থাকায় তারা লাভের আশায় বুক বেঁধেছেন। পশুসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আশাদুল হক

জানান, এবারও জেলায় প্রচুর কোরবানির পশু রয়েছে। কৃষক এবং খামারিরা যত্ন নিয়ে পশু তৈরি করেছে।

লালমনিরহাট : সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু আসছে। গত ২-১ সপ্তাহ ধরে ভারতীয় গরু পারাপারে কিছুটা ভাটা পড়েছে। পাটগ্রামের ‘রসুলগঞ্জ হাটে’ আমদানি কিছুটা কমে আসায় দাম একটু বেশি বলে জানান ক্রেতারা।

বৃহস্পতিবার ভোরে পাটগ্রামের রসুলগঞ্জ হাটে গিয়ে দেখা যায়, ভারতীয় গরুর আমদানি অনেকাংশে কম। এতে যেমন দাম একটু বেশি। পাটগ্রাম কাস্টমস অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এ বছর অনেক বেশি গরু এসেছে। ২০১৫ সালে মোট ১৯ হাজার ৭১৩টি গরু করিডোর করা হলেও ২০১৬ সালে কয়েকগুণ বেড়েছে। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পাটগ্রামের ইসলামপুরের ওই কস্টমস অফিসে ৩৪ হাজার ৫৪০টি গরু করিডোর হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সাতক্ষীরা : সীমান্তপথে ভারতীয় গরু আসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। আগে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় এক লাখ গরু বাংলাদেশে এলেও এখন সে সংখ্যা সর্বোচ্চ চার হাজার থেকে পাঁচ হাজারে নেমে এসেছে। গত দুই বছর ধরে বাংলাদেশে ভারতীয় গরুর আমদানি ক্রমেই কমতির দিকে যাচ্ছে। এবারও ভারতীয় গরু না আসায় দেশে পালিত গরুর ওপর নির্ভর করছেন ভোক্তারা। জানা গেছে, বাংলাদেশে গরু আসার ওপর ভারত কড়াকড়ি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাতক্ষীরা সীমান্তের গরুর খাটালগুলো নানা দুর্নীতির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং যেসব গরু আসত তার প্রতিটির ভ্যাট বাবদ ৫০০ টাকার জায়গায় অতিরিক্ত তিন হাজার টাকা আদায় করার ঘটনায় সীমান্তে ভারতীয় গরু আসা এক রকম বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত