আরিফ উল ইসলাম, মুন্সীগঞ্জ    |    
প্রকাশ : ২১ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
মিরকাদিমের গরু নিয়ে প্রতারণা

মিরকাদিমের সাদা গরু ছাড়া নাকি পুরান ঢাকার গনি মিয়ার (রহমতগঞ্জের) হাট-ই বসে না। এক সময়ে এ অঞ্চলের কুলুরা প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজা করে ঢাকাবাসীর চাহিদা মেটাত। কালের বিবর্তনে তা এখন হারিয়ে গেলেও মিরকাদিমের ধবল গরুর নাম ও সুনামকে পুঁজি করে পুরান ঢাকার কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অল্প ক’দিনে গরু মোটাতাজা করে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। আর প্রতারণার শিকার হচ্ছে পুরান ঢাকাবাসী।

সরেজমিনে মিরকাদিমে গিয়ে দেখা যায়, কোথাও কোনো গরু মোটাতাজাকরণের খামার নেই। কারও বাড়িতে নেই গরু পালনের কোনো ব্যবস্থা। পরিচর্যার জায়গা এবং প্রাকৃতিক খাবারের উৎস কমে যাওয়ায় এবং বারবার লোকসান গুনতে হওয়ায় প্রকৃত খামারীরা (কুলুরা) এই পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায় চলে গিয়েছে। এখন মিরকাদিমের ধবল গরুর নাম ব্যবহার করে পুরান ঢাকার গরু ব্যবসায়ী টিটু মোল্লা কয়েক বছর ধরে মিরকাদিমের টেঙ্গর ও গোপালনগরে অস্থায়ীভাবে টিনের ঘর ভাড়া নিয়ে ভাটানের ভুট্টু গরুসহ ৪০ থেকে ৫০টি ছোটবড় গরু মোটাতাজা করছে। আর এ খামারটি দেখাশোনা করছেন স্থানীয় আঃ রহিম ও জিন্নাহ নামের দু’জন ব্যক্তি। তাদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, পুরান ঢাকা এবং কেরানীগঞ্জ আমাদের খামার রয়েছে। আমরা ঈদের কয়েকদিন আগে এখানে গরু আনি এবং এখান থেকে ঢাকার হাটে নিয়ে যাওয়া হয় বিক্রির জন্য।

একসময় মিরকাদিমের এলাকাজুড়ে ঈদকে সামনে রেখে প্রায় প্রতিটি বাড়িতে গরু প্রাকৃতিকভাবে মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত থাকত। গরু মোটাতাজাকরণ এবং প্রজনন পেশায় যারা নিয়োজিত ছিল তাদের কুলো বলা হতো। কালের বিবর্তনে ধীরে ধীরে তাদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারেননি। বাপ-দাদার পুরান ঐতিহ্য ধরে রাখতে এখনও কুলুপাড়ার কামাল ৭-৮টি গরু তার বাড়িতে লালন-পালন করছেন। স্ত্রী সুফিয়া আর কামাল মিলে প্রাকৃতিক খাবার আর যত্ন নিয়ে গরু লালন-পালন করে আসছেন। কামাল জানান, শুধু আমি ছাড়া এবার মিরকাদিমে কেউ কোরবানির গরু বানাচ্ছে না। খাবারের দাম এবং ঢাকার গরু ব্যবসায়ীদের কারণে এখন আর মিরকাদিমে ধবল গরু নেই বললেই চলে। তারা আমাদের নাম ব্যবহার করে ব্যবসা করে ক্রেতা সাধারণের সঙ্গে প্রতারণা করছেন।

এক সময়ের কোরবানির গরু মোটাতাজা করণের বড় ব্যবসায়ী ওবায়দুর রহমান বকুল বলেন, আমরা কুলু, আমাদের পূর্বপুরুষ সারা বছর ধরে গরু লালন-পালন করত। চাল ও তৈল মিলের অতিরিক্ত খাবার খাওয়ায়ে প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজা করা হতো। ফলে গরুর মাংস ছিল সুস্বাদু, এজন্য চাহিদাও ছিল বেশি। আগে গরু মোটাতাজা করতাম এখন করি না কারণ, আগে বাড়িতে বাড়িতে ধান, সরিষা, খেসারি ডাল ও তিল ভাঙা হতো। সেখান থেকে খৈল, ক্ষুদ পেতাম সেটা ছিল প্রাকৃতিক খাবার। এখন সব জিনিসেই ভেজাল, দামও বেশি। খরচে পোষায় না।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত