বাহাউদ্দিন    |    
প্রকাশ : ২১ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
কামারের দোকানে ভিড় বাড়ছে

কোরবানির ঈদ যত ঘনিয়ে আসে কামারের দোকানের কদর ততই বাড়তে থাকে। পশু জবাইসহ মাংস ও হাড্ডি কাটতে দা, ছুরি ও বঁটির জন্য কামারের দোকানে ভিড় করছে ক্রেতারা। একদিকে বাড়ছে বেচাকেনা অন্যদিকে বাড়ছে পুরনো জিনিসপত্র মেরামতের কাজ। ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোরবানির বেচাকেনা বলতে যা বোঝায় সেরকমটা শুরু না হলেও বিক্রি আদেশ আসা শুরু হয়েছে।

সরেজমিন কারওয়ানবাজার কামারপট্টি গিয়ে দেখা যায়, দূর থেকেই পাওয়া যাচ্ছে হাপরের হাঁসফাঁস আর হাতুড়ি পেটার শব্দ। লোহায় হাতুড়ি পেটায় ছড়াচ্ছে স্ফুলিঙ্গ। গা থেকে ঝরছে ঘাম; নাকে আসছে পোড়া গন্ধ। গরমে অসহ্য মনে হলেও ছোট ছোট কিছু ঘরের চিত্র এখন এমনই। সেখানে যেন নেই কোনো দিন-রাত; অবিরাম চলছে কাজ আর কাজ। দা-বঁটি বিক্রেতারা জানান, বছরের ১১ মাসে তাদের ব্যবসা হয় একরকম আর কোরবানির ঈদের আগের এক মাসে ব্যবসা হয় আরেক রকম।

ব্যবসায়ীরা জানান, লোহার মানভেদে একটি দা ২৫০ থেকে ৬৫০ টাকা, পশুর চামড়া ছাড়ানোর ছুরি ৭০ থেকে ৩০০, পশু জবাইয়ের বিশেষ ছুরি ৩০০ থেকে ৩ হাজার, কুড়াল ৫০০ থেকে ১০০০, বঁটি ২৫০ থেকে ৭০০, চাপাতি ৫০০ থেকে ১৫শ’ টাকায় বিক্রি হয়। তবে দেশীয় এ সব দা-বঁটির পাশাপাশি চীন থেকে আমদানি করা বিভিন্ন মান ও আকারের ছুরি-চাপাতিও বিক্রি হয় এখানে। বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা যায়, প্রতি পিস ছোট ছুরি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকায়, চাপাতি ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায়, মাঝারি আকারের ছুরি ১০০ থেকে ২০০ টাকায় এবং বঁটি ২০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। কারওয়ানবাজার কামারপট্টি বহুমুখী সমবায় সমিতির নেতা আবদুল আউয়াল জানান, প্রতিবছর কোরবানি ঈদের আগে প্রত্যেক কামারশালে ২ থেকে ৫ লাখ টাকার মতো বিক্রি আদেশ আসে। তবে আরও দুয়েকদিন গেলে বুঝতে পারব বাজার কেমন যাবে। এ ব্যাপারে কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ী মান্নান কামার জানান, গত ঈদের চেয়ে এবার ঈদে বিক্রি বেশি হবে। দা, বঁটি, ছুরি ও চাইনিজ কুড়াল- এগুলো ঈদ এলে বেশি বিক্রি হয়। তবে ঈদের তিন থেকে চার দিন আগে বেচাকেনা অনেক বেশি হয়। এখন একটু কম বিক্রি হচ্ছে- কারণ এখন শুধু অর্ডার আসে, কয়েক দিন পর ডেলিভারি দেয়া শুরু করলেই বিক্রি বেড়ে যাবে। তবে এখন বেশি বিক্রি হচ্ছে বঁটি। কারওয়ানবাজার কামারপট্টি বহুমুখী সমবায় সমিতির তথ্য মতে, সেখানে ২৫টি কামারের দোকান ও ১৬টি কামারশালা আছে। এ ছাড়াও ২০টি দোকান এ সব সরঞ্জাম পাইকারি কিনে খুচরা বিক্রি করে। কারওয়ানবাজারের এ শিল্পের সঙ্গে প্রায় ৫০০ পরিবার জড়িত। তবে ভোলা কর্মকারের মালিক আউয়াল বলেন, লোহার দাম কম থাকলেও কয়লার দাম বাড়ায় অর্থ সংকট দেখা দিয়েছে। তাই চাহিদা অনুযায়ী জিনিসপত্র তৈরি করতে পারছি না। তিনি জানান, বর্তমানে প্রতি বস্তা কয়লার দাম রাখা হচ্ছে ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা। যা আগের বছর ছিল ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা। তাই লোহার এ সব সরঞ্জাম তৈরিতে ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। দা-বঁটি কিনতে আসা ক্রেতা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঈদ কাছাকাছি এলে ভিড় বেড়ে যাবে আর তখন কামাররা যন্ত্রপাতি ভালোভাবে না বানিয়ে কোনমতে ক্রেতাদের হাতে তুলে দেয়।




 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত