প্রকাশ : ২৩ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
বিআইএ সভাপতির উদ্বেগ
অভিভাবকশূন্য বীমা খাত
আইডিআরএ’র কোরাম নেই * গ্রাহকের পাওনা আদায়ে মূল ক্ষমতা আইডিআরএ’র
শেখ কবির হোসেন

নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরের কোরাম না থাকায় বহুমুখী সমস্যায় রয়েছে বীমা খাত। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কোনো কাজ হচ্ছে না। ইতিমধ্যে অনেক কাজ বন্ধ হয়ে আছে। আইডিআরের কাছে ফাইল গেলে সেটি অনুমোদন হয় না। ফলে বর্তমানে অনেকটা অভিভাবকশূন্য বীমা খাত। আর এ সমস্যা দূর করতে নতুন চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগ করে দ্রুত কোরাম পূরণ করতে হবে। যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে মালিক পক্ষের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) সভাপতি শেখ কবির হোসেন এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মনির হোসেন।

প্রসঙ্গত, বীমা আইন অনুসারে একজন চেয়ারম্যান এবং চারজন সদস্য নিয়ে আইডিআরএ’র (ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অথরিটি) গঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চেয়ারম্যান শেফাক আহমেদের মেয়াদ শেষ হয়েছে চলতি বছরের ৬ এপ্রিল। ওইদিন প্রতিষ্ঠানটির সদস্য গকুল চন্দ্র দাসকে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়া হয়। এর এক মাস আগে দুই সদস্য জুবের আহমেদ খান এবং কুদ্দুস খানের মেয়াদ শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট আছেন মুরশিদ আলম নামে একজন সদস্য। অর্থাৎ বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং একজন সদস্য রয়েছেন বোর্ডে। এ কারণে কোনো বোর্ডসভা করতে পারছে না সংস্থাটি।

যুগান্তর : আইডিআরের চেয়ারম্যান না থাকায় সুনির্দিষ্টভাবে কী ধরনের সমস্যায় পড়ছেন আপনারা?

শেখ কবির : বীমা খাতে নানাবিধ সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে আইডিআরের বিশাল কাজ। কিন্তু বর্তমানে একজন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রয়েছেন। তিনি অত্যন্ত দক্ষ কর্মকর্তা। কিন্তু কোরাম না থাকায় তেমন কোনো কাজ করতে পারছেন না। এতে বীমা গ্রহীতা এবং উদ্যোক্তা উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

যুগান্তর : বীমা খাতে দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা হল বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই গ্রহীতারা আইনে উল্লেখিত সময়ের মধ্যে দাবির টাকা পায় না। এক্ষেত্রে টাকা আদায়ের ব্যাপারে আপনাদের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয় কী?

শেখ কবির : বীমা দাবির পর সার্ভে রিপোর্ট চূড়ান্ত হলে বীমা কোম্পানি টাকা পরিশোধে বাধ্য। এক্ষেত্রে টাকা আদায়ের ব্যাপারে আইডিআরএ সহায়তা করে। তাদের একটি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটি রয়েছে। এ কমিটি পাওনা আদায়ের ব্যাপারে গ্রাহককে সহায়তা করে। এছাড়া কোনো কোম্পানি দাবির টাকা পরিশোধ না করলে প্রয়োজনে ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের কাছে এলে তারাও উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিয়ে থাকে। গ্রাহকরা টাকা না পেলে সবশেষে মামলা করতে পারে। আদালত সুদসহ টাকা আদায় করে দেয়।

যুগান্তর : বীমা খাতে বর্তমানে কী কী সমস্যা রয়েছে। শেখ কবির : এ খাতে নানাবিধ সমস্যা রয়েছে। এর মধ্যে বীমা কোম্পানির নবায়ন ফি অন্যতম। বর্তমানে প্রতি হাজারে সাড়ে তিন টাকা নবায়ন ফি দিতে হয়। কিন্তু ব্যাংকে লাইসেন্স নবায়ন ফি লাগে না। ফলে এটি বীমা খাতে বাড়তি বোঝা। এ থেকে উত্তরণে আইন পরিবর্তন করতে হবে। এক্ষেত্রে আইডিআরএকে সবার আগে উদ্যোগ নিতে হবে। আর আইন পরিবর্তন করার সময় সবগুলো জটিলতা একসঙ্গেই নিরসন করতে হবে। অন্যদিকে বর্তমানে বীমা খাতে নতুন করে একটি সমস্যা তৈরি হয়েছে। তা হল সাধারণ বীমা কর্পোরেশন একটি নিয়ম করেছে পুনঃবীমার ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করতে তাদের বোর্ডে অনুমোদন নিতে হবে। এটা বীমা খাতের গতি আরও থামিয়ে দেবে। কারণ ১০ লাখ টাকা এমডিই দিতে পারে। ছোট এই সিদ্ধান্তের জন্য সাধারণ বীমার বোর্ডের অনুমোদন নিতে হলে দীর্ঘদিন ফাইল আটকে থাকবে। এতে বীমা খাত স্থবির হয়ে পড়বে। ফলে এসব বিষয় বিবেচনা করে সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

যুগান্তর : বীমা খাতে সম্ভাবনার দিক কী কী?

শেখ কবির : ১৬ কোটিরও বেশি মানুষ রয়েছে দেশে। কিন্তু বীমা গ্রহীতার সংখ্যা ৪ শতাংশেরও কম। সেদিক থেকে বলা যায়, দেশের বীমা খাতের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। এ খাত অনেক দূর যাবে। তবে এ খাত বিকাশে সরকারকে জোরালো উদ্যোগ নিতে হবে। সমস্যা ও জটিলতাগুলো চিহ্নিত করে তা দ্রুত সমাধান করতে হবে। বিশেষ করে বিদ্যমান আইনে বেশ কিছু জটিলতা রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হল বীমা কোম্পানিগুলো কত টাকা ব্যয় করতে পারবে, ১৯৮৫ সালে যে হারে নির্ধারণ করা হয়েছিল, বর্তমানে ওইভাবেই রয়ে গেছে। ফলে বর্তমানের আলোকে এই আইন পরিবর্তন করতে হবে। এ কারণে বীমা কোম্পানিগুলো নেতিবাচক প্রচারণার শিকার। পাশাপাশি বীমা শিল্প এগিয়ে নিতে হলে কোম্পানিগুলোকেও মানুষের আস্থা অর্জন করে ব্যবসা করতে হবে। কারণ আস্থা অর্জন ছাড়া কোনো ব্যবসাই টেকসই হয় না।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত