হামিদ-উজ-জামান    |    
প্রকাশ : ২৩ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
মেরিন ফিশারিজ ক্যাপাসিটি বিল্ডিং
পাঁচ বছরের প্রকল্পে এক যুগ
এক প্রকল্পেই গচ্চা ৬৭ কোটি টাকা * সার্ভে জাহাজ পেতে বিলম্বই মূল কারণ

পাঁচ বছরে বাস্তবায়নের কথা ছিল বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ ক্যাপাসিটি বিল্ডিং প্রকল্প। কিন্তু ইতিমধ্যেই পেরিয়ে গেছে ১০ বছর। এখন নতুন করে আরও দুই বছর বাড়ানো হচ্ছে মেয়াদ। ফলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে অতিরিক্ত সময় লাগছে ৭ বছর। শুধু তাই নয়, দফায় দফায় বেড়েছে প্রকল্পের ব্যয়ও। সর্বশেষ সংশোধনীতে ২০ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। সঠিক সময় বাস্তবায়ন না হওয়ায় গচ্চা (বাড়তি ব্যয়) যাচ্ছে ৬৬ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। সেই সঙ্গে কাক্সিক্ষত সুফল থেকে বঞ্চিত রয়েছে দেশ।

প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য, বাংলাদেশের অধিকারে আসা বিশাল সমুদ্র এলাকার পানির কোন স্তরে কী ধরনের ও কত প্রজাতির মৎস্যসম্পদ রয়েছে তা জানার জন্য জরিপ পরিচালনা করা। এ ছাড়া বিভিন্ন মৎস্যসম্পদের সংরক্ষণ-সুষ্ঠু ব্যবহার ও টেকসই ব্যবস্থাপনার জন্য বিভিন্ন জরিপ চালিয়ে পদক্ষেপ নেয়া। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর প্রকল্পটি অনুমোদনের প্রক্রিয়া অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা। এতে সভাপতিত্ব করেন কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য এএন সামসুদ্দিন আজাদ চৌধুরী।

মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. সৈয়দ আরিফ আজাদ যুগান্তরকে বলেন, প্রকল্পটির বাস্তবায়ন বিলম্বিত হওয়ার জন্য সরকার কোনোভাবেই দায়ী নয়। এ প্রকল্পে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইডিবি) ঋণ রয়েছে। তাই তাদের পছন্দমতো জাহাজ তৈরি করতে দেয়া হয় মালেয়শিয়ায়। কিন্তু সেখানকার ঠিকাদার যখন জাহাজটি আনতে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান, তখন প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীসহ একটি প্রতিনিধি দল দেশটিতে সফর করে। কিন্তু সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, কিছু যান্ত্রিক ত্রুটি রয়েছে। তখন জাহাজ না দেখেই মন্ত্রী ফিরে আসেন। এ বিষয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের কারিগরি কমিটিও গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা মালেয়শিয়া ঘুরে এসে একটি প্রতিবেদন দেন। সেসব সুপারিশ পূরণ করা হলে পরে সেই জাহাজ নিয়ে আসা হয়। এসব প্রক্রিয়া করতেই অনেক সময় চলে যায়। তারপর আবহাওয়াগত কারণও রয়েছে। ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, এটি বেতন-ভাতাতেই খরচ হবে।

মৎস্য অধিদফতর সূত্র জানায়, দেশের জলসীমায় মূল্যবান মৎস্যসম্পদের টেকসই আহরণ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনার স্বার্থে এবং সমুদ্রসম্পদের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ প্রবণতা জানতে অত্যাধুনিক জরিপ কার্যক্রম জরুরি। আর সে লক্ষ্যে ‘মেরিন ফিশারিজ ক্যাপাসিটি বিল্ডিং’ প্রকল্পটি ২০০৭ সালের জুলাই থেকে ২০১২ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য হাতে নেয়া হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয় ১১৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। এ ক্ষেত্রে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে আইডিবি ও মালয়েশিয়া সরকার। কিন্তু জাহাজ সংগ্রহে দেরি হওয়াসহ নানা কারণে প্রথম পর্যায় প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ৯ কোটি টাকা বাড়িয়ে ১২৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা করা হয়। এ সময় মেয়াদ বেড়ে যায় এক বছর। অর্থাৎ ২০১৩ সালের জুন পর্যন্ত। এতে বাস্তবায়ন শেষ না হলে দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে ব্যয় ৩৭ কোটি ২০ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় ধরা হয় ১৬৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। মেয়াদ বাড়ানো হয় চার বছর। অর্থাৎ ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত। বর্ধিত এ সময়ের মধ্যেও প্রকল্পের কাজ শেষ না হলে নতুন করে তৃতীয় সংশোধনীর উদ্যোগ নেয়া হয়। এ ক্ষেত্রে দুই বছর মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ব্যয় ২০ কোটি ১৯ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

প্রকল্পের নতুন সংশোধনীর কারণ হিসেবে মৎস্য অধিদফতর জানায়, সংগ্রহ করা জরিপ জাহাজ ‘আর ভি মীন সন্ধানী’ কিনতে দুই বছর বিলম্বই প্রকল্পের ধীরগতির মূল কারণ। গবেষণা ও জরিপ জাহাজটি মালয়েশিয়া থেকে দেশে আনতে দুই বছর দেরি হয়েছে। ২০১৪ সালে তা আমদানির কথা থাকলেও এসেছে ২০১৬ সালের জুনে। অথচ প্রকল্পটি বাস্তবায়নেরই কথা ছিল ২০১৬ সালের জুনে। এ অবস্থায় নির্ধারিত পেলাজিক ও ডিমার্সেল সার্ভে এবং ল্যান্ড বেইজ সার্ভে কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ অব্যয়িত রয়ে গেছে। ফলে প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জিত হয়নি। তাই প্রকল্পের লক্ষ্য অর্জনের জন্য ২ বছর মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে জানা যায়, শুরু থেকে ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের আওতায় ব্যয় হয়েছে মোট ৯৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, যা মোট ব্যয়ের ৫৭ দশমিক ১৫ শতাংশ। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় হয় ২০ কোটি ৮০ লাখ এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৭৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। সূত্র জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমুদ্রের ওপরের স্তর ও তলদেশের মৎস্যসম্পদের স্থিতি, মোহনা ও উপকূলীয় জলাশয়ে বর্তমান মাছের মজুদ, সর্বোচ্চ সহনীয় আহরণ পরিমাণ নিরূপণ, মৎস্যসম্পদ আহরণ কাজে নিয়োজিত জাল-জেলে ও তাদের নৌকার সংখ্যা ইত্যাদি বিষয়ে ডাটাবেজ তৈরি করা হবে। এ ছাড়া ক্ষুদ্র, বাণিজ্যিকসহ বিভিন্ন ধরনের মৎস্যসম্পদের তথ্য সংগ্রহ, সামুদ্রিক ও উপকূলীয় মৎস্যসম্পদের প্রজাতিভিত্তিক তথ্য এবং সমুদ্রিক দূষণের পরিমাণ ও তার কারণ নিরূপণসহ বিভিন্ন তথ্য জরিপের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে।

একই সঙ্গে সমুদ্রসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে এসব তথ্য সংবলিত একটি পূর্ণাঙ্গ প্রকাশনাও তৈরি করার কথা রয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে দুই ধরনের সমুদ্র জরিপ (সার্ভে) করা হবে। তাহল- ল্যান্ড বেজড সার্ভে ও পেলাজিক এবং ডিমারসাল সার্ভে। যার মাধ্যমে সমুদ্রসম্পদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত