• বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯
মনির হোসেন ও ইয়াসিন রহমান    |    
প্রকাশ : ১২ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
প্রভাব নেই দেশের চালের বাজারে
ভিয়েতনাম-ভারতে দাম কমেছে : ভিয়েতনামে প্রতিটন দাম ছিল ৩৭৫ ডলার, এ হিসাবে প্রতিকেজির দাম পড়ে ২৯ টাকা, এক মাস আগে যা ছিল ৩২ টাকা, ফলে কেজিতে দাম ৩ টাকা কমেছে
গত এক মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যশস্যের দাম কমেছে। এ সময়ে খাদ্য হিসেবে বিবেচিত হওয়া পাঁচ ধরনের পণ্যের মধ্যে চারটিই ছিল নিন্মমুখী। তবে চাল, গম ও ভুট্টার দাম কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ যে দেশ থেকে বেশি চাল আনে, সেই ভিয়েতনামে পণ্যটির দাম কমেছে। এক মাস আগে ভিয়েতনামে প্রতিটন চালের দাম ছিল ৩৮৩ ডলার। বৃহস্পতিবার তা ৩৭৫ ডলারে নেমে এসেছে। কিন্তু বাংলাদেশে চালের দামে তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। এখনও বাজারে প্রতিকেজি মোটা চাল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া বিশ্ববাজারে অন্যান্য যে সব খাদ্যের দাম কমেছে, বাংলাদেশে তার কোনোই প্রভাব নেই। এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের পুরনো সুর। তারা বলছেন, বর্তমানে বাজারে যে সব পণ্য বিক্রি হচ্ছে, তা আগের আমদানি করা। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, পণ্যের দাম একবার বাড়ানো হলে ব্যবসায়ীরা সহজে তা কমাতে চান না।
জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বিশ্ববাজারে কোনো পণ্যের দাম বাড়লে ওই অজুহাতে বাড়ানো হয়। কিন্তু দাম কমলেও তা সমন্বয় করতে চায় না। তিনি বলেন, এই সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসা মুশকিল। তার মতে, আমনের ফসল বাজারে চালের মূল্যে প্রভাব পড়তে পারে।
বাংলাদেশ মূলত চারটি দেশ থেকে চাল আমদানি করে। এর মধ্যে রয়েছে- ভিয়েতনাম, ভারত, কম্বোডিয়া এবং মিয়ানমার। বৃহস্পতিবার ভিয়েতনামে প্রতিটন চালের দাম ছিল ৩৭৫ ডলার। এ হিসাবে প্রতিকেজির দাম পড়ে ২৯ টাকা। এক মাস আগেও যা ছিল ৩২ টাকা। হিসাবে কেজিতে দাম ৩ টাকা কমেছে। শতকরা হিসাবে যা ৫ শতাংশের বেশি। বৃহস্পতিবার কলকাতাতে আইআর ৩৬ (বাংলাদেশে মোটা চাল হিসেবে চিহ্নিত) নামের চালের কেজি ছিল ২৭ রুপি। এ হিসাবে বাংলাদেশি টাকায় প্রতিকেজির দাম পড়ে ৩২ টাকা। এক মাসে আগেও দাম ছিল একই রকম।
জাতিসংঘের খাদ্য সম্পর্কিত সংস্থা ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন (এফএও) ৫টি পণ্যকে ধরে খাদ্যমূল্যের সূচক করে। পণ্যগুলো হল- খাদ্যশস্য, ভোজ্যতেল, দুগ্ধজাতীয় পণ্য, মাংস এবং চিনি। সংস্থাটির হিসাবে সামগ্রিকভাবে খাদ্যের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। এরমধ্যে ভোজ্যতেলের দাম কমেছে ১ দশমিক ১ শতাংশ, দুগ্ধপণ্যের দাম কমেছে ৪ দশমিক ২ শতাংশ, মাংসের দাম দশমিক ২ শতাংশ এবং চিনির দাম দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। তবে চাল ও গমসহ খাদ্যশস্যের দাম ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। তবে বাংলাদেশ যে সব দেশ থেকে আমদানি করে, ওই সব দেশে চালের দাম কমেছে।
এদিকে গত এক মাস আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এক বৈঠকে চালের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু চালের মূল্যে তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এই চিত্র পাওয়া গেছে। মালিবাগ বাজারের খুচরা চাল বিক্রেতা খালেক রাইস এজেন্সির মালিক মো. দিদার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, চলতি বছর মূলত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে চালের দাম বাড়তে শুরু করে। কোরবানির ঈদের পর সেপ্টেম্বর মাসে পুরোপুরি অস্থির হয়ে পড়ে চালের বাজার। সে সময় মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা চাল বিক্রি হয়েছে ৫২ থেকে ৫৪ টাকায়। যা চলতি মাসের বুধবার বিক্রি হচ্ছে ৪৪ থেকে ৪৫ টাকায়। আঠাশ চাল বিক্রি হয় ৫৮ থেকে ৬০ টাকায়। যা বর্তমানে এ চাল বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৩ টাকায়। নাজিরশাইল পুরান চাল তখন বাড়তি দামে বিক্রি হয়েছে ৭৫ থেকে ৭৬ টাকায়। যা এখন বিক্রি হচ্ছে ৬৮ থেকে ৭০ টাকায়। আর সেপ্টেম্বর মাসে মিনিকেট চাল বিক্রি হয়েছে ৬৫ টাকায়। যা এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। তিনি বলেন, খুচরা বাজারে চালের দাম কমতে শুরু করেছে। আমন মৌসুমে নতুন চাল বাজারে আসলে চালের দাম আরও কমে আসবে। আর ইতিমধ্যে বাজারে নতুন নাজিরশাইল চাল পাওয়া যাচ্ছে। যা কিছুদিন পর বাজারে পরিপূর্ণ অবস্থায় থাকবে। তখন নাজিরশাইল চালের দামও কমে আসবে। সরেজমিন রাজধানীর কারওরানবাজার ঘুরে ও পাইকারি চাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা বস্তা প্রতি (৫০ কেজি) বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকায়। আঠাশ চাল বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ টাকায়। নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার টাকায়। মিনিকেট ২ হাজার ৮০০ টাকায়। যা সেপ্টেম্বর মাসে বেসামাল চালের বাজারে স্বর্ণা বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৫৫০ টাকায়। আঠাশ চাল বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৭০০ টাকায়। নাজিরশাইল বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ৩০০ টাকায়। মিনিকেট ৩ হাজার ১০০ টাকায়। ওই বাজারের আল্লার দান রাইস এজেন্সির মালিক সিদ্দীকুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, চাল আমদানি বাড়ায় পাইকারি বাজারে দাম কমতে শুরু করেছে। কোরবানির ঈদের পর (সেপ্টেম্বর মাস) চালের বাজার বেসামাল হয়ে পড়েছিল। মিলমালিকরা চাল অবৈধভাবে মজুদ করায় ব্যবসায়ীসহ ভোক্তাদেরও হিমশিম খেতে হয়েছে। তবে সে সময় সরকার দফায় দফায় চালকল মালিকদের সঙ্গে বৈঠক, আমদানি শুল্ক মুক্তকরণ, গুদাম মনিটরিং করায় চালের দাম কমতে শুরু করে। এ ছাড়া আমাদনি শুল্ক মুক্ত করায় আমদানিকারকরা চাল আমদানি বাড়িয়ে দেয়। ফলে একটু একটু করে চালের বাজার আবারও স্থিতিশীল হয়ে আসতে শুরু করেছে। জানতে চাইলে বাদামতলী ও বাবুবাজার চাল আড়ৎদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক যুগান্তরকে বলেন, চাল আমদানিতে শুল্ক মুক্ত করায় চালের দাম অনেক কমে এসেছে। সামনে দাম আরও কমবে। তবে এই শুল্ক অনেক আগে কমালে চালের বাজার এমন বেসামাল হতো না। তবে সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে বলা যায় এখন আমন মৌসুম, সবাই এই আমন ধানের দিকে তাকিয়ে আছে। আর এই আমন চাল বাজারে আসলেই চালের দাম আরেক ধাপ কমে যাবে।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত