একরাম তালুকদার, দিনাজপুর    |    
প্রকাশ : ১২ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
আমনে বাড়তি খরচ
ধানের ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

চলতি মৌসুমে আকস্মিক বন্যা, অতিবৃষ্টি, ব্লাস্টরোগ, পোকার আক্রমণসহ নানা কারণে আমন চাষে কৃষকের খরচ বেড়েছে। ইতিমধ্যে দিনাজপুরে শুরু হয়েছে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ। ভয়াবহ বন্যা ও বিভিন্ন প্রতিকূলতার পরও ফলন ভালো হওয়ায় কৃষক খুশি। তবে আমন আবাদ করতে গিয়ে তুলনামূলক বেশি খরচ হওয়ায় ধানের দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ধানের ন্যায্যমূল্য আশা করেছেন তারা।

সদর উপজেলার নশিপুর গ্রামের কৃষক তুষার কান্তি রায় যুগান্তরকে জানান, শুক্রবার তিন বিঘা জমিতে বিনা-৭ জাতের আমন ধান কেটে মাড়াই করেছেন। ফলন পেয়েছেন বিঘা প্রতি ২৭ মণ ধান। প্রতি মণ ধান হাটে বিক্রি করেছেন ৮০০ টাকা দরে। এক বিঘা জমির ধান বিক্রি করে তিনি পেয়েছেন ২১ হাজার ৬০০ টাকা। তিনি জানান, এবার বন্যা এবং রোগবালাইয়ের কারণে আমন আবাদ করতে তুলনামূলক খরচ বেশি হয়েছে। সবমিলিয়ে এক বিঘা জমিতে তার আবাদ খরচ হয়েছে ১৯ হাজার টাকারও বেশি। তাই উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে বেশি মুনাফা করতে পারেননি এ কৃষক। তিনি জানান, প্রতি মণ ধান ১ হাজার টাকা পেলে কিছুটা লাভ হতো তার। একই গ্রামের কৃষক কনিষ্ঠ গোপাল জানালেন, বিআর-৪৯ জাতের আমন ধান আবাদ করে ফলন পেয়েছেন বিঘা প্রতি ২৮ মণ। ধান এখনও বিক্রি করেননি। তিনি জানান, প্রথমত বন্যা এবং দ্বিতীয়ত রোগবালাইয়ের কারণে এবার তুলনামূলক আবাদ খরচ হয়েছে বেশি। তাই ন্যায্যমূল্যের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

দিনাজপুরের বিরল উপজেলার কৃষক মতিউর রহমান জানান, বন্যার কারণে এবার আমনের আশাই ছেড়ে দিয়েছিলাম। এরপরও জমিতে ধানের অবস্থা দেখে ভালো ফলনের স্বপ্ন দেখছি; কিন্তু উৎপাদন খরচ আর বাজারে ধানের দামের কথা ভাবলেই চিন্তায় পড়ে যাচ্ছি। তাই সব অবস্থা বিবেচনা করে এবার সরকার যাতে ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করেন- এমন দাবি জানিয়েছেন এ কৃষক।

কৃষকরা বলছেন, উৎপাদন ভালো হলেও লাভ থাকবে না। কারণ বাজারদর কম। তারা জানান, বর্তমান আবাদের যে অবস্থা তাতে বাম্পার ফলন হবে। এখন শুধু প্রত্যাশা সরকার যেন ধানের ভালো মূল্যের ব্যবস্থা করে। কৃষকের কাছ থেকে যেন সরাসরি ধান ক্রয় করা হয়। তা না হলে আবারও কৃষকের লাভের ধন খাবে মধ্যস্বত্বভোগীরা। বর্তমান বাজারে শুকনা ধান মণপ্রতি ৮০০-৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ দরে লাভ টিকবে না। ধানের মণ হাজার টাকা হতে হবে।

কৃষক মিজান জানান, বর্তমানে বাজারে ধানের দাম মণপ্রতি ১১শ’ থেকে ১২শ’ টাকা। শেষ পর্যন্ত এ দাম থাকলে কৃষকের মুখে হাসি ফুটবে।

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর গ্রামের কৃষক আনারুল ইসলাম জানান, ব্রি-ধান ৭২ আবাদ করে এবার ভালো ফলন পেয়েছেন তিনি। তবে দাম নিয়ে শঙ্কায় তিনিও।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুরে এবার মোট ২ লাখ ৫৩ হাজার ৬৮৭ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ১৩ আগস্ট বন্যার আগেই ২ লাখ ৩২ হাজার ২৮২ হেক্টর জমিতে আমন রোপণ করা হয়; কিন্তু টানা এক সপ্তাহের ভয়াবহ বন্যায় জেলার ২৫ হাজার ৪৫৬ হেক্টর জমির আমন ক্ষেত পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর অধিকাংশ কৃষকই নিজস্ব উদ্যোগে কেউ কেউ সরকারি সহযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে আবারও আমনের চারা রোপণ করে। ভয়াবহ বন্যার পরও দিনাজপুরে এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭১০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ করা হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. গোলাম মোস্তফা জানান, আমন ধান কাটা শুরু করেছেন জেলার কৃষক। ইতিমধ্যেই ১০ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়েছে। ফলনও বেশ ভালো। প্রতি হেক্টরে চালের আকারে ফলন হয়েছে গড়ে সাড়ে ৩ মেট্রিক টন। বন্যার পর জমি উর্বর হওয়ায় এবার ফলন ভালো হয়েছে বলে জানান তিনি। বন্যা-পরবর্তী সময়ে অনুকূল আবহাওয়ার জন্য দিনাজপুর জেলায় এবার আমনের মোট উৎপাদন সাত লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। বন্যার কারণে এবার কৃষকের বাড়তি খরচের কথা স্বীকার করে তিনি জানান, এবারের সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে সরকার আমনের সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করলে কৃষক উপকৃত হবে। এজন্য সরকার ধানের সঠিক সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করবে- এমন আশা করেন তিনি।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত