উবায়দুল্লাহ বাদল    |    
প্রকাশ : ১২ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
অর্ধেকও পূরণ হয়নি আমদানির লক্ষ্য
বাজার স্থিতিশীল ও মজুদ বাড়াতে ১৫ লাখ টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। তবে এখনও আমদানি লক্ষ্যমাত্রার (টার্গেট) অর্ধেকও পূরণ হয়নি। বিভিন্ন দেশ থেকে জিটুজি (সরকার টু সরকার) ও আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ইতিমধ্যে সাড়ে ১১ লাখ টন চাল কেনার চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে পাওয়া গেছে চার লাখ টন, প্রক্রিয়াধীন রয়েছে পাঁচ লাখ টন আর চুক্তি বাতিল হয়েছে আড়াই লাখ টনের। তবে বেসরকারিভাবে চলতি অর্থবছরে ২৫ লাখ ৫৪ হাজার ৮৭ টন চালের এলসি খোলা হলেও এ পর্যন্ত পাওয়া গেছে ১৩ লাখ ১৩ হাজার ৩৫৩ টন। খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।
নির্ধারত সময়ের মধ্যেই সরকারের টার্গেট অনুযায়ী চাল আমদানি করা হবে জানিয়ে খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. বদরুল হাসান যুগান্তরকে বলেন, ইতিমধ্যে সাড়ে ১১ লাখ টন চাল আমদানি চুক্তি হয়েছে। কম্বোডিয়া আমাদের কাছে আড়াই লাখ টন আতপ চাল দিতে জিটুজি চুক্তি করেছিল; কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জাহাজীকরণ ব্যর্থ হওয়ায় তাদের চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। তবে ভারত থেকে আরও এক লাখ টন চাল আনার ব্যাপারে আলোচনা চলছে। একাধিক দেশ এখন বাংলাদেশকে চাল দিতে আগ্রহী। কাজেই এ নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই। এছাড়া বেসরকারি পর্যায়েও পর্যাপ্ত চাল আমদানি হচ্ছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদফতর সূত্র জানিয়েছে, ইতিমধ্যে জিটুজি পদ্ধতিতে সাত লাখ টন এবং আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে সাড়ে চার লাখ টনসহ সাড়ে ১১ লাখ টন চাল কেনার চুক্তি হয়েছে। জিটুটি চুক্তির মাধ্যমে ভিয়েতনাম আড়াই লাখ টন, কম্বোডিয়া আড়াই লাখ টন, ভারত ও মিয়ানমার এক লাখ টন করে চাল দেয়ার কথা। এর মধ্যে ভিয়েতনামের সব চালই ইতিমধ্যে পাওয়া গেছে। ভারত ও মিয়ানমারের চাল আসার প্রক্রিয়ায় রয়েছে; কিন্তু সম্প্রতি কম্বোডিয়ার আড়াই লাখ টন চালের চুক্তি বাতিল করেছে সরকার। কম্বোডিয়ার সঙ্গে প্রতি টন চাল ৪৫৩ মার্কিন ডলার দামে এ চুক্তি হয়েছিল।
এ প্রসঙ্গে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রথম দফায় চাল জাহাজীকরণ করতে ব্যর্থ হয় দেশটি। এরপর তারা সময় বাড়ানোর আবেদন করলে আরও ১৪ দিন সময় বাড়ানো হয়। তারপরও দেশটি চাল দিতে ব্যর্থ হয়। উল্টো তারা আড়াই লাখ টনের বদলে এক লাখ টন চাল দেয়ার প্রস্তাব দেয়। এরপরই বাংলাদেশ চুক্তি বাতিল করে। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, জিটুজি পদ্ধতিতে ভারত থেকে আরও এক লাখ টন চাল আমদানির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে দু’দফা বৈঠক হয়েছে, তবে বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি।
জিটুজি পদ্ধতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ইতিমধ্যে সাড়ে চার লাখ টন চাল আমদানির চুক্তি হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও আড়াই লাখ টনের দরপত্র আহ্বান করা হবে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে আনা এক লাখ ৬৫ হাজার টন চাল ইতিমধ্যে দেশে প্রবেশ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বৃহস্পতিবারের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে সরকারি খাদ্য মজুদ রয়েছে ৫ লাখ ৯৬ হাজার ১১ টন। এর মধ্যে চালই রয়েছে ৪ লাখ ১০ হাজার ৫২ টন। গত বছর এসময়ে খাদ্য মজুদ ছিল ৮ লাখ ৭২ হাজার ৯৪ টন। এর মধ্যে চালই ছিল ৫ লাখ ৭০ হাজার ১৫ টন। সরকারি আমদানির পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়েও চাল আমদানি হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে এ পর্যন্ত বেসরকারিভাবে ২৫ লাখ টন চালের আমদানি প্রক্রিয়া চলছে। আমদানিকারক এবং কাস্টমস সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, ইতিমধ্যেই ১৩ লাখ ১৩ হাজার ৩৫৩ টন চাল দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর, নদীবন্দর ও সমুদ্রবন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করেছে। এর বেশিরভাগই এসেছে ভারত থেকে। বাকি চাল পাইপলাইনে দেশে ঢোকার অপেক্ষায় রয়েছে।
জানা গেছে, হাওর অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা, অতিবৃষ্টি, ব্লাস্টরোগের কারণে সারা দেশে বোরোর ফলন কম হওয়া এবং ১০ টাকা কেজি দরের সাড়ে সাত লাখ টন চাল বিতরণের ফলে এবার চালের মজুদ তলানিতে ঠেকে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চালের মজুদ দেড় লাখ টনে নেমে আসে। আর এর সুযোগ নেয় অসাধু ব্যবসায়ীরা। তাদের কারসাজিতে মোটা চালের দাম প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৫৪ টাকায় ওঠে।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত