হামিদ-উজ-জামান    |    
প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
লাগাম টানা হচ্ছে ফাস্ট ট্র্যাকের
প্রকল্প বাড়ানো নিরুৎসাহিত করছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
অবশেষে ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পের লাগাম টানা হচ্ছে। এই তালিকা যাতে দীর্ঘ না হয় এবং ফাস্ট ট্র্যাকের গুরুত্ব না কমে এ জন্য নতুন করে প্রকল্প অন্তর্ভুক্তি নিরুৎসাহিত করছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। কেন না এখন যে কোনো মন্ত্রণালয়ই চায় তাদের বড় প্রকল্পগুলো যাতে ফাস্ট ট্র্যাকে যুক্ত করা হয়। কিন্তু এটি করতে গেলে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত চলমান প্রকল্পগুলোর তদারকিতে বিঘিœত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ইতিমধ্যেই ফাস্ট ট্র্যাকের ১০টি প্রকল্প থেকে দুটি প্রকল্প এক করে ৯টিতে নিয়ে আসা হয়েছে। সেই সঙ্গে নতুন করে প্রকল্প প্রস্তাব আসলেও সেগুলো আলাদা না করে কোনো চলমান একটি প্রকল্পে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ফাস্ট ট্র্যাক প্রজেক্ট টাস্কফোর্সের ১০ম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভার কার্যবিবরণী সূত্রে এ সব তথ্য জানা গেছে। ফাস্ট ট্র্যাক প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করেন এমন একাধিক কর্মকর্তা এ বিষয়ে যুগান্তরকে জানান, ফাস্ট ট্র্যাক প্রজেক্ট মনিটরিং টাস্কফোর্সের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর এবং পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প দুটি একসঙ্গে করে এখন থেকে সোনাদিয়া ও পায়রা সমুদ্রবন্দর লেখা হবে অগ্রগতি প্রতিবেদনে। ফলে ১০ থেকে কমে সিরিয়াল হবে ৯টি।
সেই সঙ্গে মাতারবাড়ি প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে মাতারবাড়ি-মহেশখালী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন করার বিষয়ে টাস্কফোর্সের সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে কার্যক্রম গ্রহণ করতে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে (ইআরডি)।
সূত্র জানায়, টাস্ক ফোর্সের সভায় জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের বাস্তবায়নাধীন মহেশখালী-আনোয়ারা, আনোয়ারা-ফৌজদারহাট ও চট্টগ্রাম-ফেনী-বাখরাবাদ গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পগুলো ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত করতে প্রস্তাব দেন জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সচিব। কিন্তু মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, পৃথকভাবে এ প্রকল্পগুলোকে ফাস্ট ট্র্যাকে যুক্ত না করে বর্তমানে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ ও গ্যাস পাইপলাইন স্থাপন প্রকল্প নামকরণ করলে সব প্রকল্পই ফাস্ট ট্র্যাক হিসেবে বিবেচিত হবে। এর আগে গত বছরের জুনে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ প্রকল্পটি ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পভুক্ত করতে অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটি আর তালিকাভুক্ত করা হয়নি।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক মোস্তফা কে মুজেরী যুগান্তরকে বলেন, ফাস্ট ট্র্যাক বিষয়ে একটি নীতিমালা করা দরকার। কোন প্রকল্প যুক্ত হবে, না হবে তা নির্ধারিত হবে ওই নীতিমালার আওতায়। তা না হলে অন্য কোনো কারণে প্রকল্প যুক্ত করা হলে ফাস্ট ট্র্যাক গঠনের যৌক্তিকতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। সূত্র জানায়, শুরুতে কম প্রকল্প রেখে বিশেষ মনিটরিং করার উদ্দেশ্যে ফাস্ট ট্র্যাক প্রজেক্ট মনিটরিং কমিটি গঠিত হলেও দিন দিন বাড়তে থাকে প্রকল্প সংখ্যা। প্রথম পর্যায় ২০১২ সালের শেষের দিকে মেগা ৬টি প্রকল্প ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্প হিসেবে ঘোষণা করে সরকার। শুধু ঘোষণাই নয়, বাস্তবায়ন দ্রুত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত হয় ফাস্ট ট্রাক প্রজেক্ট মনিটরিং কমিটি। পরবর্তী সময়ে এই কমিটির কার্যক্রম দ্রুত করতে গঠিত হয় ফাস্ট ট্র্যাক প্রজেক্ট মনিটরিং টাস্কফোর্স। এর সভাপতি হচ্ছেন মুখ্য সমন্বয়ক ও তৎকালীন মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ। ফাস্ট ট্র্যাকে প্রথম যুক্ত হওয়া প্রকল্পগুলো হচ্ছে- পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, এলএনজি টার্মিনাল, ঢাকা মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট (মেট্রোরেল) প্রকল্প এবং সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর। এরপর নতুন করে ফাস্ট ট্র্যাকে যুক্ত করা হয় মাতারবাড়ি ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর। সর্বশেষ যুক্ত করা হয় পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্প এবং দোহাজারী-রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু-মিয়ানমারের নিকট ঘুমদুম পর্যন্ত সিংগেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্প। সব মিলিয়ে প্রকল্প সংখ্যা দাঁড়ায় ১০টিতে।
অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত ফাস্ট ট্র্যাক টাস্কফোর্সের এ সভায় প্রকল্পগুলোর অগ্রগতিও তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে কয়েকটি প্রকল্প হচ্ছে-
পদ্মা সেতু : এ প্রকল্পে মূল সেতু নির্মাণ কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৪৯ শতাংশ, এ ছাড়া নদীশাসন কাজ হয়েছে ৩৪ শতাংশ। জাজিরা প্রান্তে অ্যাপ্রোচ রোডের কাজ ৯৯ দশমিক ৫০ শতাংশ, মাওয়া প্রান্তে অ্যাপ্রোচ সড়কের ১০০ ভাগ, সার্ভিস এরিয়া-২ এর কাজ ১০০ ভাগ এবং প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৪৭ দশমিক ৫০ শতাংশ।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র : রাশিয়ান ফেডারেশনের মধ্যে স্বাক্ষরিত দুটি চুক্তির আওতায় এ প্রকল্পের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের ২টি ইউনিটের মাধ্যমে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে। প্রকল্পের মূল কাজ প্রথম রিয়্যাস্টর স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। এ ছাড়া কর্মকর্তাদের জন্য ভবন তৈরির কাজও এগিয়ে চলছে দ্রুত গতিতে।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত