বাহাউদ্দিন    |    
প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
গরম কাপড়ের বাজার চাঙ্গা

রাজধানীতে পৌষের শীত পড়তে শুরু করেছে। ফলে গরম কাপড়ের চাহিদা বেড়েছে। ফুটপাত থেকে শুরু করে বিপণিবিতানের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় লেগেই আছে। বেচাকেনায় চাঙ্গাভাব বিরাজ করছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ এবার গরম কাপড়ের দাম বেড়েছে; কিন্তু বিক্রেতারা বলছেন দাম স্বাভাবিক। নিউমার্কেট, বঙ্গবাজার, হকার্স মার্কেট, ঢাকা কলেজের উল্টোদিকের ফুটপাত, পল্টন, গুলিস্তান, মতিঝিল শাপলা চত্বর, বায়তুল মোকাররমের আশপাশের সব ফুটপাতই এখন শীত পোশাক ও গরম কাপড়ের দখলে।

কম্বলের দোকানগুলোতে ভিড় যেন লেগেই আছে। বঙ্গবাজারে রাশেদ বেডিং স্টোর দেশি-বিদেশি নানা রকমের কম্বলে সাজানো। দোকানে বসে আছেন মালিকের ভাই জয়। কম্বলের দাম কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে দেশি কম্বল ২০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়। আর চীনা-কোরিয়ান কম্বল বিক্রি হয় ১ হাজার ৬০০ থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত। বঙ্গবাজার ও গুলিস্তানসহ কয়েকটি মার্কেটে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় এক পরতের দেশি কম্বল পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া ছোট আকারের কম্বল ৮০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় এক বা দুই পরতের বিদেশি কম্বল বিক্রি হচ্ছে। ভালো মানের বিদেশি কম্বলের দাম ১ হাজার ৫০০ থেকে শুরু করে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কম্বলের মধ্যে রয়্যাল স্পেন ১ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার টাকা, ক্যাঙ্গারু ১ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০, হোয়াইট বিয়ার ১ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার, রয়্যাল স্পেন ২ হাজার ৭০০ থেকে ৪ হাজার, সোলারন ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার, কিংস্টার ২ হাজার থেকে ৫ হাজার, জিনাঙ্ ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। বায়তুল মোকাররমের আশপাশের ফুটপাথগুলোতে তুলনামূলক কিছুটা কম দাম রাখতে দেখা গেছে।

এছাড়া লেপ-তোশকের বাজারেও চলছে রমরমা অবস্থা। সরেজমিন রাজধানীর নীলক্ষেতের লেপ-তোশকের মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, এ মার্কেটের ৩৭টি লেপ-তোশকের দোকানের প্রায় সবক’টিতেই ছিল ডেলিভারি দেয়া, অর্ডার নেয়া এবং কেনাবেচার ভিড়।

আর একই দৃশ্য চোখে পড়ে রাজধানীর লক্ষ্মীবাজার, মিরপুর, আজিমপুর, লালবাগ, টিকাটুলিসহ বেশ কয়েকটি জনবহুল মার্কেটে। নীলক্ষেত মার্কেটের মাকসুদ বেডিং স্টোরের মালিক মো. আলামিন যুগান্তরকে বলেন, গত কয়েকদিন ধরে শীত পড়তে শুরু করেছে। ক্রেতারাও বেশ আসছেন। ফলে শীত সামগ্রীর বিক্রিও বাড়তে শুরু করছে। এ বছর লেপের দাম কেমন জানতে চাইলে এ ব্যবসায়ী জানান, লেপ তৈরিতে কার্পাস তুলাই বেশি ব্যবহার হয়। এর আবার আছে কয়েক ধরনের কম্বার, এসকম্বার, থ্রেড কম্বার, রকটন ও পলি তুলা। রকমভেদে প্রতি কেজি কার্পাস তুলার দাম ২০০ থেকে ৭০০ টাকা। লেপ সাধারণত তিন ধরনের হয়ে থাকে। সিঙ্গেল, সেমি ডবল ও ডবল। প্রতিটি সিঙ্গেল লেপ ৯০০ থেকে ২ হাজার টাকা, সেমি ডবল ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ এবং ডবল আকারের লেপ বানাতে ১ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ পড়ে। পুরনো লেপ নতুন করে বানাতে প্রায় অর্ধেক খরচ হয়। লেপের কভারের দাম ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা। এ বছর মনে হচ্ছে লেপের দাম একটু বেড়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাধারণত লেপ তৈরিতে লালশালু কাপড়ই বেশি ব্যবহৃত হয়। ভালো মানের শালু কাপড়ের দাম পড়ছে গজপ্রতি ৭৫ থেকে ৮০ টাকা আর সাধারণ মানের শালু কাপড় ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে প্রতি গজ বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও খাদি কাপড়ের তৈরি সিঙ্গেল লেপের কভারের দাম ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, সেমি ডাবল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। আর ডাবল সাইজ লেপের কভার ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে মার্কেটগুলোতে।

নিউমার্কেট ও ধানমণ্ডি হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১০০ টাকা থেকে শুরু করে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দামের সোয়েটার ও উলেন পোশাক বিক্রি করছেন তারা। দেশি ব্লেজার মিলছে ৭০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা। চাইনিজ ব্লেজার ১ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকায়। লেদারের জ্যাকেট পাওয়া যাচ্ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকায়। শাল ৩০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত দরে পাওয়া যাচ্ছে। কাশ্মীরি শাল পাওয়া যাচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ৫ হাজার টাকায়। ফুলহাতা গেঞ্জি পাওয়া যাচ্ছে ২০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত