ইয়াসিন রহমান    |    
প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
বাণিজ্য মেলার মাঠে নির্মাণের তোড়জোড়

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা শুরু হতে আর মাত্র সাত দিন বাকি। এজন্য প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। নির্মাণ ও সাজসজ্জা শেষ করতে সব স্টল এবং প্যাভিলিয়নে চলছে কাজের তোড়জোড়। ডিজিটাল প্রযুক্তির ছোঁয়ায় সাজানো হবে এবারের বাণিজ্য মেলা। মেলার মূল ফটক কার্জন হলের পরিবর্তে তৈরি হচ্ছে পদ্মা সেতু ও ঢাকা গেটের আদলে। প্রতি বছরের মতো এবারও পহেলা জানুয়ারি রাজধানীর শেরেবাংলা নগর অস্থায়ী মাঠে মেলার পর্দা উঠবে। আর মাসব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জানতে চাইলে মেলা আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ যুগান্তরকে বলেন, এবারের মেলার প্রধান ফটকের নকশাতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। কার্জন হলের গেটের পরিবর্তে এবার মেলার প্রধান ফটক তৈরি হচ্ছে উন্নয়নের পদ্মা সেতু ও ঢাকা গেটের আদলে। এছাড়া ক্রেতা-দর্শনার্থীর জন্য থাকবে ডিজিটাল টাচ স্ক্রিন প্রযুক্তি। যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্টল ও প্যাভিলিয়ন চেনা যাবে। তিনি আরও বলেন, প্যাভিলিয়ন ও স্টল বরাদ্দ আগেভাগে করা হয়েছে। তাই বেশিরভাগ কোম্পানির স্টল নির্মাণকাজে বেশ অগ্রগতি রয়েছে। ইপিবি’র পক্ষ থেকে নিয়মিত মেলা মাঠের কাজ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আর যথাসময়ের মধ্যে মেলার সার্বিক কাজ শেষ করে পহেলা জানুয়ারি থেকে কার্যক্রম শুরু করা যাবে।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে জানা গেছে, মেলায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও পাখি রাখা হবে। যা ফিশ অ্যাকুরিয়াম ও বার্ড অ্যাকুরিয়ামে প্রদর্শন করা হবে। থাকবে সুন্দরবন পার্ক। মেলার ব্যতিক্রমী আয়োজন বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়নকে আরও তথ্যবহুল করা হবে। এজন্য প্যাভিলিয়নের আয়তন বাড়বে। এছাড়া বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়নের সামনে ভাসমান নৌকার প্রতিকৃতি রাখা হবে। যা মেলার বাহ্যিক সৌন্দর্য আরও ফুটিয়ে তুলবে। এছাড়া মাসব্যাপী এ মেলা কোনো সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়াই সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ক্রেতা-দর্শনার্থীর জন্য খোলা থাকবে। আর মেলায় প্রবেশ ফি ধরা হয়েছে জনপ্রতি ৩০ টাকা; আর ছোটদের জন্য ২০ টাকা। গতবারের মতো এবারও মেলা গেটের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর ব্রাদার্স।

জানা গেছে, দেশ-বিদেশের ব্যবসা বাণিজ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ আয়োজন করা হচ্ছে। তবে এতে দেশি পণ্যের ভোক্তা বাড়ানোর কৌশলও রয়েছে। মেলার মাধ্যমে দেশে উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করা হবে। এবারের মেলায় অংশ নিচ্ছে ১৭টি দেশ। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে- ভারত, পাকিস্তান, চীন, ব্রিটেন, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, ইরান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ভুটান, মরিশাস, ভিয়েতনাম, মালদ্বীপ, নেপাল ও হংকং।

এদিকে এবারের মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের স্টল কমেছে। দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের স্টল ও প্যাভিলিয়ন মিলিয়ে এবার ৫৪০টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে। কিন্তু গত বছর অংশ নিয়েছিল ৫৮৪টি প্রতিষ্ঠান। সে হিসেবে এবার ৪৪টি স্টল কমেছে। মেলায় ডিজিটালাইজেশন বা তথ্য-প্রযুক্তিতে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। থাকবে ডিজিটাল এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার। মেলার ইকোপার্ক, শিশুপার্ক, পর্যাপ্ত টয়লেট, এটিএম বুথ, মসজিদ, প্রতিবন্ধীদের জন্য অটিজম সেন্টার, মাদার কেয়ার সেন্টার, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিন রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের মেলার মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে পুরোদমে চলছে মাঠের অবকাঠামো নির্মাণকাজ। কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন দোকান মালিক ও নির্মাণ শ্রমিকরা। মাঠে ইট, বালু, পাথর, কাঠ, বাঁশসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদির ব্যাপক স্তূপ দেখা গেছে। অসংখ্য শ্রমিক ভিন্ন ভিন্ন কাজ নিয়ে ব্যস্ত। কেউ ইট, বালু, পাথর দিয়ে নির্মাণকাজ করছেন। কাঠ মিস্ত্রিরা লোহা-হাতুড়ি নিয়ে বিভিন্ন ডিজাইনের স্টল নির্মাণ করছেন। আবার কেউ বাঁশ দিয়ে তৈরি করছেন প্রিমিয়ার স্টল। এছাড়া বিশেষভাবে স্পেশাল প্যাভিলিয়ন, প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন, প্রিমিয়ার মিনি প্যাভিলিয়ন, প্রিমিয়ার স্টল ও মেলার সৌন্দর্যবর্ধন করা হচ্ছে। এদিকে মেলায় যেতে যেসব সড়ক রয়েছে তার সংস্কারের কাজ চলছে। মেলার ভেতরে পানির লাইনের কাজ করছেন শ্রমিকরা। তাদের এ কাজের মাধ্যমে তৈরি করা হচ্ছে মেলায় প্রবেশের রাস্তা। চলছে অস্থায়ী মেলায় সচিবালয়ের ভবন নির্মাণকাজ। পানি ও বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন সেবা সরবরাহের কাজও হচ্ছে। এবার মেলার প্রধান ফটক ও টিকিট কাউন্টারে কাজ করছে মীর ব্রাদার্স।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত