• শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
উত্তর কোরীয় কূটনীতিক বহিষ্কার
শিষ্টাচার লংঘন রোধে কঠোর ব্যবস্থাই কাম্য
অবৈধ পণ্য আমদানি এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অপরাধে ঢাকাস্থ উত্তর কোরিয়া দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি হান সন ইককে দেশত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জানা যায়, গত ১৪ জুলাই এই কূটনীতিক কমলাপুর আইসিডি দিয়ে ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য আমদানি করেন। ২ আগস্ট শুল্ক গোয়েন্দা, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শুল্ক কর্মকর্তা, আমদানিকারক, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সিঅ্যান্ডএফের উপস্থিতিতে চালানটির কায়িক পরীক্ষা করা হয়। এতে ধরা পড়ে, এসব পণ্যের মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রত্যয়নপত্র ও ঘোষণাবহির্ভূত বেশকিছু পণ্য রয়েছে। এটি কূটনীতিকদের আচরণ সংক্রান্ত ১৯৬১ সালের ভিয়েনা কনভেনশনের পরিপন্থী। এ কনভেনশনের আর্টিকেল ৪১ অনুযায়ী প্রত্যেক কূটনীতিককে আবশ্যিকভাবে কর্মরত দেশের প্রচলিত আইন মেনে চলতে হয়। অথচ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, উত্তর কোরীয় কূটনীতিকরা এ নিয়মনীতির কোনো তোয়াক্কা করছেন না। তারা এ দেশে এসে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। আর এর পেছনে কাজ করছে তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থ।
এর আগে ২০১৫ সালের ৭ মার্চ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উত্তর কোরীয় দূতাবাসের আরেক ফার্স্ট সেক্রেটারিকে স্বর্ণ চোরাচালানের অভিযোগে আটক করা হয়। একই বছর ১৪ মে বনানীর পিয়ংইয়ং রেস্টুরেন্টে শুল্ক গোয়েন্দারা অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মদ ও যৌন উত্তেজক ওষুধ উদ্ধার করে এবং রেস্টুরেন্টটির মালিককে আটক করে। এরও আগে ২০১২ সালে এক উত্তর কোরীয় কূটনীতিকের আমদানি করা চালানে ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য পাওয়া গেছে।
বোঝা যাচ্ছে, বিদেশী কূটনীতিকরা শুধু এ দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাকই গলান না, তাদের অনেকে এ দেশে অবৈধভাবে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে উত্তর কোরীয় কূটনীতিকদের বিরুদ্ধেই এ ধরনের অভিযোগ বেশি উঠছে। তারা স্বর্ণ, মদ, ইলেক্ট্রনিক সামগ্রীসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্য আমদানি করে ব্যবসা করছেন। এর ফলে রাজস্ব হারাচ্ছে দেশ। অথচ ১৯৬১ সালের ভিয়েনা কনভেনশনের আর্টিকেল ৪২ অনুযায়ী, বিদেশী কূটনীতিকরা কোনোভাবেই ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারেন না। আমরা মনে করি, বিদেশী কূটনীতিকদের এ ধরনের শিষ্টাচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড রোধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও গোয়েন্দা বিভাগকে সর্বদা তৎপর থাকতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এর প্রয়োজন আরও বেশি। দেশে জঙ্গি তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরাপত্তাজনিত কারণে অনেক ক্ষেত্রে আইনশৃংখলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিদেশী কূটনীতিকদেরও এর আওতায় আনা উচিত কিনা, তাও ভেবে দেখা দরকার।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত