প্রকাশ : ১৭ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত
সারোয়ার আমাদের মানবিক বোধ নাড়িয়ে দিয়েছেন

নিজের জীবনের বিনিময় অন্যের জীবন রক্ষা কিংবা অন্যের অশেষ উপকার করার অনেক ঘটনা কিংবদন্তি হয়ে আছে। মানুষ মানবিক গুণাবলীর অধিকারী হবে এটাই তো স্বাভাবিক। এজন্যই সে মানুষ, সৃষ্টির সেরা জীব। কিন্তু বর্তমানে যান্ত্রিক, প্রতিযোগিতাপূর্ণ ও ব্যস্ত নাগরিক জীবনে মানুষের মধ্যে পরোপকারের মনোবৃত্তি বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে। মানুষ অনেকটাই স্বার্থপর ও আত্মকেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে এখন। এ বাস্তবতায় সারোয়ার হোসেন নামের এক সিএনজি অটোরিকশাচালক আমাদের মনে করিয়ে দিলেন ‘মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য’। সারোয়ারের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা হয়তো বেশি নয়। কিন্তু তিনি জীবন থেকে পরোপকারের যে শিক্ষা নিয়েছেন তা অতুলনীয়। নিজের জীবনের বিনিময়ে খালে ডুবে যাওয়া অচেনা দুই তরুণকে উদ্ধার করে তিনি এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেলেন। সারোয়ারের এই আত্মোৎসর্গের কথা হয়তো আমরা কিছুদিন পরই ভুলে যাব। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে, তার মতো ব্যতিক্রমী মানুষেরা আছেন বলেই সমাজ এখনও পুরোপুরি অমানবিক হয়ে ওঠেনি। সারোয়ারের মতো মানবিক গুণসম্পন্ন মানুষের সংখ্যা যত বাড়বে, ততই সুন্দর হয়ে উঠবে আমাদের সমাজ।

জানা যায়, একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী গত সোমবার বাড্ডার বেরাইদের ৩ নম্বর ব্রিজের নিচে ধামাই খালের পাশে বেলা ১২টার দিকে ফুটবল খেলছিলেন। খেলার পর তারা পানিতে গোসল করার একপর্যায়ে পানির মধ্যেই ফুটবল খেলা শুরু করে দেন। তাদের নয়জনের মধ্যে সাব্বির হোসেন ও রাজু পান্ডে সাঁতার জানেন না। খেলায় মগ্ন থাকার একপর্যায়ে তারা পানিতে ডুবে যেতে থাকেন। তখন তারা ও অন্য শিক্ষার্থীরা বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করতে থাকলে ব্রিজের উপরে দাঁড়িয়ে থাকা সারোয়ারসহ কয়েকজন ছুটে গিয়ে দুই শিক্ষার্থীকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন। উদ্ধারকারী অন্যরা ডাঙ্গায় উঠে আসতে সক্ষম হলেও হতভাগ্য সারোয়ার পানিতে তলিয়ে যান। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদের দুই দফা প্রচেষ্টার ফলে বিকালে গভীর পানিতে সারোয়ারের সন্ধান মেলে। কিন্তু ততক্ষণে তিনি মারা গেছেন।

পরোপকারের যে দৃষ্টান্ত রেখে গেলেন সারোয়ার, তা আজকের যুগে সত্যিই বিরল। কয়েক দিন আগে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে এক পথচারী দুর্ঘটনার শিকার হয়ে সড়কের ওপর পড়েছিলেন। শত শত পথচারী ও যানবাহন তার পাশ দিয়ে গেলেও কেউ হতভাগ্য ব্যক্তিটির সাহায্যে এগিয়ে আসেনি। প্রায় এক ঘণ্টা পর পুলিশ যখন লোকটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়, তখন কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এমন স্বার্থপরতা আজকাল অহরহই দেখা যায়। চোখের সামনে কেউ বিপদে পড়লেও তার প্রতি সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দিতে দেখা যায় খুব কম মানুষকেই। স্বার্থপর মানুষদের অনেকে মুখে বড় বড় কথা বললেও তাদের কথা ও কাজে বড় অমিল লক্ষ্য করা যায়। সিএনজি চালক সারোয়ার ছিলেন এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। এমন মহৎ হৃদয়ের মানুষের সংখ্যা সমাজে হয়তো কমে যাচ্ছে; কিন্তু তার মতো মানুষেরা আছে বলেই সমাজ এত সুন্দর। সারোয়ারের এই মহৎ দৃষ্টান্ত অন্যদের মধ্যে উপকার করার মনোবৃত্তির জন্ম দিলে তার এই আত্মদান সার্থক হবে। তার বিদেহী আত্মা শান্তিতে থাকুক। আমরা তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাই।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত