ভিক্তর মাৎসুলেনকো    |    
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
প্রশান্ত মহাসাগরে অপারেশন
মিত্রদের সামুদ্রিক ল্যান্ডিং অপারেশনগুলোর উল্লেখযোগ্য দিকগুলো ছিল : জাহাজে অবতরণ, সমুদ্র অতিক্রম এবং উপকূলে বৃহৎ শক্তি নামানোর কাজ সংগঠনের দক্ষতা, অবতরণ ফৌজকে নির্ভরযোগ্য বিমান ও নৌ সহায়তা প্রদান এবং আধুনিক ল্যান্ডিং উপকরণের ব্যবহার। তবে সেই সঙ্গে উপকূলে তাদের তৎপরতা চলছিল মন্থর গতিতে এবং ব্রিজ-হেডে প্রচুর সৈন্য ও অস্ত্রশস্ত্র পুঞ্জীভূত হয়েছিল।
এভাবে ১৯৪৫ সালের প্রথমার্ধে প্রশান্ত মহাসাগরে এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সমরবাদী জাপানের সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে অনেক বিজয় অর্জন সত্ত্বেও মিত্র বাহিনীগুলো জাপানকে পরাস্ত করতে পারল না। দূরপ্রাচ্যে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে তার কাছে তখনও যথেষ্ট শক্তি ও সুযোগ-সম্ভাবনা ছিল। এহেন পরিস্থিতিতে জাপানি আগ্রাসকদের বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের যুদ্ধে নামার ব্যাপারটি চূড়ান্ত তাৎপর্য লাভ করছিল।
প্রশান্ত মহাসাগরে ইঙ্গ-মার্কিন ফৌজের অপারেশনগুলো চলছিল আগেরই মতো অনুকূল পরিস্থিতিতে- শত্রুর বিরুদ্ধে শক্তি ও যুদ্ধোপকরণে তাদের যথেষ্ট শ্রেষ্ঠত্ব ছিল এবং ওগুলোর প্রস্তুতির জন্য তাদের হাতে প্রচুর সময় ছিল। মিত্রদের দ্বারা পরিচালিত সামরিক তৎপরতায় অংশগ্রহণ করছিল সব ধরনের সশস্ত্র বাহিনী। নৌবহরে রণপোতের পরিবর্তে প্রধান ভূমিকা পালন করতে আরম্ভ করে দ্রুতগামী বিমানবাহী জাহাজগুলো, আর নৌযুদ্ধের পরিণতি নির্ধারণ করছিল বিমানবাহী জাহাজের প্লেনগুলো। সাবমেরিনগুলোও বিশেষ করে শত্রুর যোগাযোগ পথে ভাসমান জাহাজগুলোর সঙ্গে যুদ্ধে বড় ভূমিকা পালন করছিল।
প্রশান্ত মহাসাগরে যুদ্ধ পরিস্থিতি পশ্চিম রণাঙ্গনের চেয়ে ভিন্ন ছিল- ওখানে অধিকাংশ ল্যান্ডিং অপারেশনেই অংশগ্রহণ করছিল এক-দুই ডিভিশন সৈন্য, এর বেশি নয়। কেবল নির্দিষ্ট কয়েকটি বৃহৎ অপারেশনে (লেইটে, লুসোন, ওকিনাভা দ্বীপগুলোতে) সৈন্য সংখ্যা ৭ ডিভিশন পর্যন্ত পৌঁছেছিল।
অপারেশনের প্রস্তুতি চলত দুই-তিন মাস ধরে। ওই সময় বিশেষ মনোযোগ দেয়া হতো অনুসন্ধান কার্য চালানোর দিকে, অন্তরীক্ষে আধিপত্য অর্জনের দিকে এবং হামলায় আকস্মিকতা আনার দিকে। ল্যান্ডিং ফৌজের অবতরণ আরম্ভ হতো প্রাগাক্রমণ গোলাবর্ষণ ও বোমাবর্ষণের পর এবং বিমান বাহিনী ও যুদ্ধজাহাজস্থ আর্টিলারির সমর্থনে তা সম্পন্ন হতো অল্প সময়ের মধ্যে। অবতরণের অব্যবহিত পরেই বিমান ঘাঁটিগুলোকে প্রস্তুত করা হতো যাতে বিমান নামতে পারে। যুদ্ধের সময় প্রশান্ত মহাসাগরীয় রণাঙ্গনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় সশস্ত্র যুদ্ধের নতুন নতুন উপকরণ- নাপাল্ম ও রিঅ্যাক্টিভ গোলা, অধিকতর উন্নত মানের রাডার ব্যবস্থা ও নেভিগেশন সরঞ্জাম, বড় বড় ভাসমান গুদাম ও কর্মশালা, সৈন্যাবতরণের জন্য বিভিন্ন ধরনের উপকরণ।
অনুবাদ : বিজয় পাল




আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত