প্রকাশ : ২৪ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
ইউএনওকে হেনস্তা
সৎ কর্মকর্তারা নিরুৎসাহিত হবে

সৎ, মেধাবী ও দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার একজন ইউএনওকে যেভাবে হেনস্তা ও বিব্রত করা হল তা অবাক হওয়ার মতোই ঘটনা। আরও বিস্মিত হওয়ার বিষয় বরগুনা সদরের ইউএনও গাজী তারিক সালমনকে ‘সততার পুরস্কার’ দেয়ার ক্ষেত্রে তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে বিচারক ও পুলিশ প্রশাসনের রহস্যজনক আচরণ। প্রশাসনে সৎ ও সরকারের সর্বোপরি জনগণের স্বার্থ রক্ষায় নিবেদিতপ্রাণ কর্মকর্তারা যে কোণঠাসা তা আলোচ্য ইউএনওকে হেনস্তার ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। অন্যথায় পরীক্ষায় নকল ও অসদাচরণের দায়ে ছাত্রকে বহিষ্কার, সরকারি বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ ও সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা গড়তে না দেয়ার মতো ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়ে মামলা ও হেনস্তার শিকার যে বরিশালের আগৈলঝাড়ার সাবেক ইউএনওকে হতে হতো না তা বলাই বাহুল্য। আমরা মনে করি, ন্যায়বিচার এবং সৎ-মেধাবী কর্মকর্তাদের উৎসাহ প্রদানের স্বার্থে গাজী তারিক সালমনকে হেনস্তার সঙ্গে জড়িত স্থানীয় ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের কঠোর সাজা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তদন্ত সাপেক্ষে আলোচিত এ মামলায় অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

জানা যায়, ডিগ্রি পরীক্ষায় নকলের দায়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এক নেতার ছেলেকে বহিষ্কার ও অসদাচরণের কারণে ৬ মাসের কারাদণ্ড প্রদানই ইউএনওকে হেনস্তার মূল কারণ। এছাড়া দুর্নীতি-অনিয়ম এবং সরকারি ভূমি দখল করতে বাধা দেয়ার বিষয় তো রয়েছেই। সংঘবদ্ধ অপরাধী-দুর্নীতিবাজ চক্র যে সৎ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে নানা কৌশলে বাধার সৃষ্টি করে এ ঘটনা তারই প্রমাণ। একটা বিষয় আমাদের বোধগম্য নয়, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জুনিয়র সহকর্মীর সাহসী সিদ্ধান্তের পক্ষে না থেকে কেন তার বিরুদ্ধে গেলেন? কেন জবাবদিহি করার পরও মামলা করে ইউএনওকে অপদস্থ করা হল? এমনকি আগৈলঝাড়ায় দায়িত্ব নেয়ার মাত্র ৮ মাসের মাথায় কেন তাকে বদলি করা হল- মাঠ প্রশাসনে শৃঙ্খলার স্বার্থে এসব প্রশ্নের জবাব খুঁজে বের করতে হবে। এটা সহজেই অনুমেয়, অনিয়ম-দুর্নীতির কোনো অভিযোগ না পাওয়াতেই ওই ইউএনওর বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতির কথিত অভিযোগ আনা হয়েছে। অথচ ওই ছবির পেছনে তার কোনো দায়ভার নেই। বিস্মিত হতে হয়, সরকারের অনুমতি ছাড়াই স্থানীয় সরকার প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা ও জামিন নাটকে নানা অনিয়মের আশ্রয় নেয়া হয়েছে।

অস্বীকার করার উপায় নেই, আমাদের প্রশাসন ব্যবস্থা কিছুটা ত্রুটিযুক্ত। এখানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সততা ও মেধার মূল্যায়ন হয় না। সরকারদলীয় প্রভাবশালীদের স্নেহভাজন হলেই জুটে সুযোগ-সুবিধা ও পদোন্নতি। বরিশালের ঘটনাটিতেও তার ছাপ রয়েছে। তবে হেনস্তার শিকার ইউএনও স্রোতের বিপরীতে অবস্থান নেয়ার কারণে সাধুবাদ পাবেন অবশ্যই। বহু অনিয়ম, এমনকি খোদ প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষুব্ধ করা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া গেলে তা প্রশাসন তথা দেশের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে। কারণ এতে রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সংস্থার সমন্বয়হীনতাও দেখা গেছে। আশার কথা, ইউএনওকে হেনস্তার ঘটনায় সবাই সোচ্চার হয়েছে এবং মামলার বাদীর বিরুদ্ধে সাময়িক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত