প্রকাশ : ২৪ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
সম্ভাবনার আলো এখন অন্ধকার
নিতেই হবে সিদ্দিকুরের এ পরিণতির দায়
সিদ্দিকুরের চোখে আলো ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। চিকিৎসকদের এ আশংকা সত্যি হলে সরকারি তিতুমীর কলেজের মেধাবী ছাত্র সিদ্দিকুর রহমান ও তার পরিবারকে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে, যা মেনে নেয়া কষ্টকর। প্রশ্ন হল, সিদ্দিকুরের এ পরিণতি কি এড়ানো সম্ভব ছিল না? আমরা মনে করি, পুলিশ যদি ন্যূনতম সহনশীলতার পরিচয় দিত, তাহলে এমন মর্মান্তিক পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটত না। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির অনুমতি দেয়া হয়েছিল। তবে তারা সেখানে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে জনদুর্ভোগের সূচনা ঘটালে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস শেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। জনদুর্ভোগ কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে, এতে কারও দ্বিমত থাকার কথা নয়। বস্তুত এটাই তাদের দায়িত্ব। তবে দায়িত্ব পালনের নামে পুলিশের উদ্ধত, অসহিঞ্চু ও মারমুখী আচরণ কতটা গ্রহণযোগ্য, সেটা ভেবে দেখা দরকার।
পুলিশের অমানবিক আচরণের শিকার হয়ে শুধু চোখের আলো নয়, একইসঙ্গে দরিদ্র একটি পরিবারের আশা-আকাক্সক্ষা ও একমাত্র অবলম্বন সিদ্দিকুরের ভবিষ্যৎও ধূসর হয়ে উঠেছে। এ ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো দায় রয়েছে কিনা, সে প্রশ্ন ওঠা অযৌক্তিক নয়। এ বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, কবি নজরুল ইসলাম কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও মিরপুর বাঙলা কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়েছে। অথচ এখন পর্যন্ত পাঠ্যসূচি, পাঠ্যক্রম, পরীক্ষার দিন, তারিখ ও পদ্ধতি কিছুই ছাত্রদের জানানো হয়নি। সঙ্গত কারণেই ছাত্ররা তাদের লেখাপড়া ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ভুগছিল। দুঃখজনক হল, বিষয়টি নিয়ে ছাত্ররা নিজ নিজ কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে ধরনা দিয়েছে। কিন্তু কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। ফলে তারা বাধ্য হয়ে আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যদি তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করত, তাহলে ছাত্রদের আন্দোলনে নামার প্রয়োজন পড়ত না। সময়ের কাজ সময়ে না করার এ প্রবণতা থেকে বের হওয়া জরুরি। তা না হলে শুধু সিদ্দিকুর নয়, আরও অনেককে একই পরিণতি বরণ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে এ ভূমিকা পালন করতে গিয়ে তারা যেন নিরপরাধ কারও স্বপ্নভঙ্গের কারণ হয়ে দেখা না দেয়, সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত বলে আমরা মনে করি।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত