প্রকাশ : ২৬ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি
শিক্ষার্থীদের ব্যয়-ভোগান্তি কমাতে হবে
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা সামনে রেখে ফের বাড়তি ব্যয় ও সীমাহীন ভোগান্তির চিন্তায় অভিভাবক-শিক্ষার্থীরা শিউরে উঠলেও পরিস্থিতির উত্তরণে আশার কোনো আলো দেখা যাচ্ছে না। এবারও উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য রাত-দিন ঘুম-বিশ্রাম বাদ দিয়ে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দৌড়ঝাঁপ করতে হবে শিক্ষার্থীদের। পাশাপাশি মাত্রাতিরিক্ত আবেদন ফি, গাড়ি ও হোটেল ভাড়া এবং খাওয়া-দাওয়ার খরচ তো থাকছেই ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে। যেখানে তৃতীয় বিশ্বের দেশ হিসেবে শিক্ষা আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার, সেখানে উচ্চশিক্ষার শুরুতেই লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবককে এমন নাজেহাল পরিস্থিতিতে ফেলা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। জানা যায়, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি ও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ২০০৮ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গুচ্ছ পদ্ধতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার উদ্যোগ নেয়। সেক্ষেত্রে সব কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির জন্য গুচ্ছ আকারে পরীক্ষা নেয়ার কথা। শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহল বিষয়টিকে স্বাগত জানালেও দীর্ঘ ৯ বছরেও সেটা বাস্তবায়িত না হওয়া দুঃখজনকই বটে।
গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা না নেয়ার পেছনের কারণ যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শীর্ষকর্তাদের পরীক্ষার দায়িত্ব পালনের সুযোগে বাড়তি আয়, তা সহজেই অনুমেয়। এজন্যই প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ইচ্ছামতো ভর্তি ফি নির্ধারণ করে ছাত্রদের পকেট কাটছে। যে দেশে বেশির ভাগ মানুষের নুন আনতে পান্তা ফুরোয় অবস্থা, সেখানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ইউনিটে ভর্তির ফি বাবদ বিজ্ঞানের একজন শিক্ষার্থীকে সাড়ে ২১ হাজার ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে ৩০ হাজার টাকা গুনতে হবে, যা কেবল অযৌক্তিক নয়, অমানবিকও। বিষয়টি বিবেচনার দাবি রাখে। আমরা মনে করি, ভর্তি পরীক্ষাকে আয়ের উৎস না বানিয়ে ভর্তুকিপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিনা ফি’তে বা নামমাত্র ফি’তে পরীক্ষা নিতে পারে। একইসঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব গুচ্ছ পদ্ধতির পরীক্ষার দিকে এগিয়ে যাওয়া উচিত। বিষয়টি যে কঠিন কিছু নয়, তা ছাত্রছাত্রীদের কাছে সবচেয়ে কাক্সিক্ষত মেডিকেল ভর্তির কেন্দ্রীয় গুচ্ছ পরীক্ষা পদ্ধতি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।
দেশকে উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে নিতে হলে শিক্ষার সুযোগ অবাধ ও সহজ করতে হবে। সেক্ষেত্রে ভর্তিতে ভোগান্তি ও ব্যয় কমানোর বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেয়ার বিকল্প নেই। ইউজিসি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সর্বোপরি সরকারের শীর্ষ মহল সদিচ্ছা নিয়ে এগিয়ে এলেই কেবল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা বাস্তবায়ন এবং ভর্তিচ্ছুদের ব্যয়-ভোগান্তি লাঘব করা সম্ভব।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত