যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সভা : কেন্দ্রীয় কাউন্সিল ১৬ এপ্রিল
মন্ত্রিসভা থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত
কো-চেয়ারম্যান ও মহাসচিব অনুমোদন
মন্ত্রিসভা থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি। এছাড়া আগামী ১৬ এপ্রিল কেন্দ্রীয় কাউন্সিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। রোববার পার্টি চেয়ারম্যানের বনানীর কার্যালয় রজনীগন্ধায় অনুষ্ঠিত দলের প্রেসিডিয়ামের সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকে কো-চেয়ারম্যান হিসেবে জিএম কাদের এবং মহাসচিব পদে এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারকে নিয়োগ দেয়ার বিষয়টিও অনুমোদন করেন প্রেসিডিয়ামের সদস্যরা। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয়া হয় পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ওপর।
বেলা পৌনে ১২টায় প্রেসিডিয়ামের সভা শুরু হয়। বৈঠক চলে আড়াইটা পর্যন্ত। পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এতে সভাপতিত্ব করেন। সভায় দলের ৩৭ জন প্রেসিডিয়াম সদস্যদের মধ্যে ২৭ জন উপস্থিত ছিলেন। ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য রওশন এরশাদ উপস্থিত ছিলেন না বলে জানিয়েছেন। রওশন এরশাদের প্রেসিডিয়ামের সভায় অনুপস্থিত থাকা সম্পর্কে দলের কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, জাতীয় পার্টিতে এরশাদ আমাদের পিতার মতো। রওশন এরশাদ আমাদের মাতার মতো। উনি (রওশন এরশাদ) অফিসিয়াল কাজে ব্যস্ত থাকায় আজকের বৈঠকে আসতে পারেননি।
সভায় মন্ত্রিসভা থেকে বেরিয়ে আসার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে জানিয়ে জিএম কাদের বলেন, প্রেসিডিয়ামের সদস্যদের সবাই প্রকৃত বিরোধী দলের ভূমিকা নিতে মন্ত্রিত্ব ছাড়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন পার্টির চেয়ারম্যান।
বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে দলটির নবনিযুক্ত মহাসচিব সাবেক মন্ত্রী এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এসব সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বলেন, আজকের সভায় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ কর্তৃক নিয়োগকৃত দলের কো-চেয়ারম্যান হিসেবে জিএম কাদের ও মহাসচিব হিসেবে তার নিয়োগকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য আমরা সংসদে এবং সংসদের বাইরে কার্যকর ভূমিকা রাখতে চাই। এজন্য জাতীয় পার্টিকে তৃণমূল থেকে সংগঠিত করার উদ্যোগ নেয়া হবে। আগামী ১৬ এপ্রিল দলের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে এক মাসের মধ্যে ৪০ জেলার কাউন্সিল সম্পন্ন করা হবে।
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, জিএম কাদের এবং পার্টির নবনিযুক্ত মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার ছাড়াও প্রেসিডিয়াম সদস্য এমএ সাত্তার, গোলাম হাবিব দুলাল, আবুল কাশেম, এমএ মান্নান, শেখ সিরাজুল ইসলাম, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, সুনীল
শুভরায়, এসএম ফয়সল চিশতী, মীর আবদুস সবুর আসুদ, হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, আলহাজ সাহিদুর রহমান ট্যাপা, শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, অধ্যাপিকা মাসুদা এম রশিদ চৌধুরী, সৈয়দ মোহাম্মদ আবদুল মান্নান, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা, হাবিবুর রহমান, মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, আজম খান, এটিইউ তাজ রহমান, সোলায়মান আলম শেঠ প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
তবে প্রেসিডিাম সদস্য তিন মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মশিউর রহমান রাঙা, মুজিবুল হক চুন্নু এবং বিরোধী দলের চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, কাজী ফিরোজ রশিদ, ফখরুল ইমামসহ দলের ৮ জন প্রেসিডিয়াম সদস্য বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন। ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মুজিবুল হক চুন্নু, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু ঢাকার বাইরে এবং প্রেসিডিয়ামের আরেক সদস্য দেশের বাইরে থাকায় বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেননি। প্রেসিডিয়ামের আরেক সদস্য এমএ হান্নান মানবতাবিরোধী অপরাধে আটক হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
এর আগে প্রেসিডিয়াম সভায় সূচনা বক্তব্যে পার্টি চেয়ারম্যান এরশাদ বলেন, ‘আমরা অনেকদিন পর প্রেসিডিয়াম বৈঠকে বসেছি। গত দু’বছরে আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে এ ধরনের বৈঠক হয়নি। এখন এমন একটা পরিস্থিতি যাচ্ছে যে, আমাদের ভবিষ্যৎ করণীয় ঠিক করতে হবে। যাতে পার্টিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি। আমার বয়স হয়েছে।’ এ সময় তিনি আরও বলেন, জিএম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান করার বিষয়ে আমি রওশনের কাছে মতামত চেয়েছি। তিনি আমার সঙ্গে একমত হয়েছেন। বলেছেন, তুমি ওকে (কাদের) গড়ে তোলো। এ সময় তিনি কো-চেয়ারম্যান হিসেবে জিএম কাদেরকে সবার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক পরিচয় করে দেন। বৈঠকে প্রেসিডিয়ামের একজন সদস্য রওশন এরশাদের সঙ্গে দূরত্ব কমাতে তাকে পরামর্শ দেন। জবাবে এরশাদ বলেন, ‘আমার সঙ্গে তার কোনো দূরত্ব নেই। আমি প্রত্যেকটা কাজ রওশনকে জানিয়ে করি। সে আমার সঙ্গে মাঝে মাঝে অভিমান করে। এটা সাময়িক।’
বৈঠক সূত্র জানায়, এরশাদের পরেই বক্তব্য দেন মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। পুনরায় মহাসচিবের দায়িত্ব দেয়ায় তিনি এরশাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এরপর একে একে সব প্রেসিডিয়াম সদস্য বক্তব্য দেন। প্রেসিডিয়ামের বেশির ভাগ সদস্য মন্ত্রিসভা থেকে বেরিয়ে আসার ব্যাপারে মত দেন। এ সময় ২ মাস পরপর প্রেসিডিয়াম বৈঠক করার সিদ্ধান্তও নেয়া হয় বৈঠকে।
বৈঠকে সবার শেষে বক্তব্য দেন দলের কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের। তিনি বলেন, ‘আমি এরশাদের মতো নেতা হতে পারব না। তবে তিনি যেভাবে বলবেন আমি সেভাবেই কাজ করে যাব। জরুরি ক্ষেত্রে হয়তো নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নেব।’ রওশন এরশাদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি কোনোদিন উনাকে ছোট করতে পারি না। উনি আমার নেতার স্ত্রী। আমার মায়ের মতন।’ জিএম কাদের বলেন, ‘আমাদের জনসমর্থন অনেকটা হারিয়ে গেছে। সেটাকে ফেরাতে হবে।’ তিনি এরশাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এরশাদের বিকল্প আর হবে না। তিনি আমাদের ফিক্স ডিপোজিট।
বৈঠকের পর গণমাধ্যমের সামনে আসেন জিএম কাদের ও রুহুল আমিন হাওলাদার। এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, বহু চড়াই-উতরাই পার করে জাতীয় পার্টি এ পর্যায়ে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পার্টিকে শক্তিশালী করার কথাও জানান হাওলাদার। তিনি বলেন, ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমরা প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় মনিটরিং সেল গঠন করব। এছাড়া খুব শিগগির জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের আয়োজন করা হবে।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত