পিরোজপুর প্রতিনিধি    |    
প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
শিশু ইতি ধর্ষণ ও হত্যা
মামাতো ভাইসহ দু’জনের ফাঁসির আদেশ
নিহত বড় বোনের ছবি গলায় ঝুলিয়ে আদালতে তৌহিদুল

পিরোজপুরে তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী ফাতেমা আক্তার ইতিকে (৯) ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে তার এক মামাতো ভাইসহ দু’জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার পিরোজপুরের জেলা ও দায়রা জজ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. গোলাম কিবরিয়া দেড় বছর আগের এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি দুই আসামির প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা এবং ওই অর্থ আদায় করে তা ইতির মা-বাবাকে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হল- ইতির মামাতো ভাই জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার মেহেদি হাসান স্বপন (২২) ও তার বন্ধু সুমন জোমাদ্দার (২০)। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

বিচারক রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেন, ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এ দেশে স্বপন ও সুমনের মতো জঘন্য অপরাধীদের বেঁচে থাকার সুযোগ দেয়া হলে এ ধরনের অপরাধীরা অপরাধ কর্মে উৎসাহিত হবে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মঠবাড়িয়া উপজেলার ঝাটিবুনিয়া গ্রামের ফুলমিয়ার মেয়ে ইতি উপজেলার বুখাইতলা বান্ধবপাড়া গ্রামে নানা আবদুর রব মাস্টারের বাড়িতে থেকে স্থানীয় হাতেম আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করত। ২০১৪ সালের ৫ অক্টোবর সকালে ইতি তার নানার একটি গরু স্কুলমাঠে ঘাস খাওয়াতে নিয়ে যায়। দুপুরের পরও ইতি ফিরে না আসায় বাড়ির লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। পরদিন দুপুরে প্রতিবেশী শাহজাহান জমাদ্দারের মেহগিনি ও চাম্বল বাগানে ওড়না পেঁচানো ক্ষত-বিক্ষত মৃতদেহ দেখতে পাওয়া যায়।

ময়নাতদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, ইতিকে ধর্ষণ শেষে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত শেষে ইতির মামাতো ভাই স্বপন ও তার বন্ধু সুমনকে গ্রেফতার করে। পরে সুমন জবানবন্দিতে দোষ স্বীকার করে বলে, বন্ধু স্বপনের প্ররোচনায় দু’জনে মিলে ইতিকে বাগডাশ (মেছো বাঘ) দেখানোর কথা বলে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী পাশের চাম্বল বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে ইতিকে ধর্ষণের পর ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

পিরোজপুর আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের পিপি আবদুর রাজ্জাক খান বাদশা জানান, মামাতো ভাই স্বপন ইতির বড় বোন বিথিকে বিয়ে করতে চেয়েছিল। এতে বিথির পরিবার রাজি না হওয়ায় স্বপন প্রতিশোধ নিতে বন্ধু সুমনকে নিয়ে পরিকল্পনা করে ইতিকে ধর্ষণ করে হত্যা করলে ইতির বাবা এবং নানা বাড়ির লোকজন এ নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। আর এ সুযোগে স্বপন বিথিকে অপহরণ করে পালিয়ে যাবে।

মামলায় সর্বমোট ১৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক দু’আসামি মেহেদি হাসান স্বপন ও সুমন জোমাদ্দারকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দেন।

মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ইতির বাবা ফুল মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, রায় দ্রুত কার্যকর হলেই ইতির আত্মা শান্তি পাবে।

মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, রায়ের খবর পেয়ে উপজেলার কেএম লতীফ ইন্সটিটিউশনের প্রধান শিক্ষক মোস্তফা জামান খান বলেন, এতে অপরাধীরা এ ধরনের অপরাধ করতে ভয় পাবে।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা স্টেপস মঠবাড়িয়ার মাঠসমন্বয়কারী ইসরাত জাহান মমতাজ বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুত রায় কার্যকর হলে বাংলাদেশের অসংখ্য ইতির বাবা-মায়ের কান্না কিছুটা হলেও লাঘব হবে।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত