যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা আজ শুরু
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আজ শুরু হচ্ছে। এতে সর্বমোট ১৬ লাখ ৫১ হাজার ৫২৩ পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এ বছর দু’যুগের রেকর্ড ভেঙে প্রথমবারের মতো এমসিকিউ প্রশ্নের পরীক্ষা শুরুতেই নেয়া হচ্ছে। ১৯৯২ সালে এ পদ্ধতি চালুর পর থেকেই প্রথমে রচনামূলক প্রশ্নের পরীক্ষা নেয়া হচ্ছিল। কিন্তু একশ্রেণীর অসাধু শিক্ষক নির্ধারিত সময়ের আগে প্রশ্নের প্যাকেট খুলে এমসিকিউ প্রশ্নের সমাধান লিখিতভাবে সরবরাহ করছেন বলে সরকার প্রমাণ পেয়েছে। এ কারণে এ ধরনের অনৈতিক সুযোগ বন্ধের জন্য এবার শুরুতেই এ পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে।
এরপরও পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক বা কেউ যাতে কোনোভাবেই কোনো ধরনের দুর্নীতি করতে না পারেন, সে জন্য ব্যাপক নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৫টি মনিটরিং টিম রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করবে। বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড আলাদাভাবে ভিজিলেন্স টিম গঠন করেছে। এছাড়া ইতিপূর্বে সারা দেশেই জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে কঠোর নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী নিজেও আজ যাবেন ফার্মগেটে অবস্থিত তেজগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, শিক্ষকদের দ্বারা নকলের অভিযোগ প্রায় সারা দেশ থেকেই কমবেশি আসছে। তবে এ ক্ষেত্রে এগিয়ে ঢাকাসহ বড় শহরগুলোর কিছু সেরা স্কুল। এ কারণে ঢাকা মহানগরীর স্কুলগুলো মনিটরিংয়ের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে গঠিত ৫টি টিমের প্রত্যেকটিতে ৫ জন করে সদস্য আছেন। টিমগুলোর কাছে ১৮টি প্রশ্ন সংবলিত ফরম দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন শেষে তাদের এসব প্রশ্নের উত্তর সংবলিত প্রতিবেদন অতিরিক্ত সচিব চৌধুরী মুফাদ আহমেদের কাছে দাখিল করতে হবে। এসব প্রশ্নের মধ্যে ৯টি আছে কেন্দ্র ও পরীক্ষার্থী সংক্রান্ত। এছাড়া আসন ব্যবস্থা, নকল প্রবণতা ও তা প্রতিরোধে কর্তৃপক্ষের ভূমিকা, কক্ষ পরিদর্শকের তৎপরতা, উত্তরপত্রের নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্যবস্থা ইত্যাদি। নাম প্রকাশ না করে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, তারা রাজধানীর তথাকথিত নামকরা এবং বাণিজ্যিক স্কুলগুলোর প্রতি বেশি নজর রাখবেন। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেই নকল সরবরাহের অভিযোগ বেশি পাওয়া গেছে।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘নকল ও দুর্নীতিমুক্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠানে আমরা বদ্ধপরিকর। এ জন্য প্রত্যেক কেন্দ্রের সঙ্গে বোর্ডগুলো অনলাইন সম্পর্ক স্থাপন করেছে। বোর্ডের মনিটরিং সেলের বাইরে মন্ত্রণালয়েও আলাদা সেল কাজ করছে।’ তিনি বলেন, ‘কতিপয় শিক্ষক নামধারী ব্যক্তি ব্যক্তিগত স্বার্থে ছাত্রছাত্রীদের প্রশ্ন বলে দেয়। এটা হতে পারে কোচিংয়ের স্বার্থে। অথবা সংশ্লিষ্ট ছাত্রছাত্রীরা ওই শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়েছে। কিন্তু আমরা এটা বরদাস্ত করি না। এ কারণে পরীক্ষা আগে নিয়ে আসা হয়েছে। এরপরও যদি কেউ অপকর্ম করার চেষ্টা করে, তাহলে এ ধরনের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, শুরুতে হবে এমসিকিউ পরীক্ষা। পরের দু’ঘণ্টায় নেয়া হবে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা। দুই পরীক্ষার মধ্যে ১০ মিনিট সময়ের ব্যবধান থাকবে।’
এবার মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে আট লাখ ৪২ হাজার ৯৩৩ ছাত্র এবং আট লাখ আট হাজার ৫৯০ ছাত্রী। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে নিয়মিত ছাত্রছাত্রী ১৪ লাখ ৭৪ হাজার ৯২৭ জন। বাকিরা গত বছর ফেল করা কিংবা মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থী। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে আছে- আটটি সাধারণ বোর্ডের অধীনে এসএসসিতে ১৩ লাখ চার হাজার ২৭৪, মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে দাখিলে দুই লাখ ৪৮ হাজার ৮৬৫ এবং কারিগরি বোর্ডের অধীনে এসএসসি ভোকেশনালে ৯৮ হাজার ৩৮৪ জন।
এবার ২৮ হাজার ১১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় বসছে। মোট পরীক্ষা কেন্দ্র ৩ হাজার ১৪৩টি। এর মধ্যে বিদেশে (মধ্যপ্রাচ্য) আটটি কেন্দ্রে এবার পরীক্ষার্থী আছে ৪০৪ জন। এর মধ্যে ২০১ ছাত্র এবং ২০৩ ছাত্রী।
শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে ৮ মার্চ পর্যন্ত চলবে তত্ত্বীয় পরীক্ষা। ব্যবহারিক পরীক্ষা হবে ৯ মার্চ। শেষ হবে ১৪ মার্চ। এবারও পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যেই ফল প্রকাশ করা হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।
এবারের এই পরীক্ষায় প্রথমবারের মতো সাতজন অটিস্টিক শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসব শিক্ষার্থীর সঙ্গে করে একজন অভিভাবক বা শিক্ষক বা সাহায্যকারী নিতে পারবে। এছাড়া তাদের জন্য বাড়তি ৩০ মিনিট সময় রাখা হয়েছে। ডাউন সিনড্রোম বা সেরিব্রালপালসি আক্রান্তরাও এই একই সময় পাবে। তবে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীসহ অন্য প্রতিবন্ধীরা আগের মতোই বাড়তি ২০ মিনিট পাবে।




আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত