মহাদেব সাহা    |    
প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
আত্ম-আবিষ্কারে একুশের চেতনা

একুশের চেতনার কথা আমরা দীর্ঘকাল বলেছি, বলছি এবং আরও দীর্ঘকাল বলতে হবে। একুশের চেতনা হচ্ছে, বাঙালি জাতির আত্ম আবিষ্কারের মহৎ অনুপ্রেরণা। এ অনুপ্রেরণার মধ্য দিয়েই আমাদের স্বাধীনতার চেতনার জন্ম হয়। একুশের চেতনা বাঙালি জাতির গৌরব। একটি জাতির ইতিহাস সৃষ্টির মতো এমন গৌরবের চেতনা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। প্রতিবেশী দেশের আসাম প্রদেশেও বরাক উপত্যকায় বাংলা ভাষার দাবিতে ১৯ মে-র আন্দোলন হয়েছিল বটে তবে একুশের ইতিহাস সৃষ্টির মতো ব্যাপকতা বা বিস্তৃতি লাভ করেনি। যতদিন বাঙালি জাতির এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন থাকবে, অগ্রযাত্রার প্রেরণা থাকবে, মানবিক মূল্যবোধের সংকটের বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রয়োজন থাকবে ততদিন একুশের চেতনার গুরুত্ব শেষ হবে না। একুশের চেতনার প্রয়োজন শেষ হবে না। একুশের চেতনা আমাদের জীবনের সব সংকট মোচনের কাজে বড় প্রেরণা জোগাবে।

ভাষার জন্য, দেশের জন্য একুশের শহীদদের যে মহৎ আত্মোৎসর্গ সেই অপরিমেয় আত্মত্যাগের কতটা আমরা ধারণ করতে পারছি সেটা একটা প্রশ্ন বটে কিন্তু একুশের চেতনা যে এ দেশের মানুষের আত্মপরিচয় আবিষ্কারের পথ দেখিয়েছে তার কোনো তুলনা নেই। এ দেশের মানুষ তীব্রভাবে উপলব্ধি করল- আমি বাঙালি, বাংলা আমার মাতৃভাষা, আমি এ ভাষায় কথা বলি- এটাই আমার পরিচয়। বাঙালি জাতি নিজের পরিচয়কে আবিষ্কার করেছে একুশের চেতনার মধ্য দিয়ে। বাংলা ও বাঙালির আবহমান সংগ্রামে একুশের চেতনা এক অন্যতম আয়ুধ। মানুষ যতক্ষণ থাকবে, সমাজ যতক্ষণ থাকবে ততক্ষণ একটি থেকে আরেকটি সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সে প্রবাহিত হবে। একুশের চেতনায় বাংলা ভাষার যে সংগ্রাম সে সংগ্রামও অব্যাহত স্রোতোস্বিনী নদীর মতো। বাংলা ভাষার সে সংগ্রামের অনেক পর্যায় আমরা পার হয়ে এসেছি, এ ভাষার অনেক উন্নতি ঘটেছে, সমৃদ্ধি ঘটেছে; সেদিক থেকে এ সংগ্রাম এখনও শেষ হয়নি এটা অবিরাম চলতেই থাকবে। আরও বহু স্তরে এ ভাষাকে প্রসারিত করতে হবে। জীবনের সর্বস্তরে সঞ্চারিত করতে হবে ভাষার শক্তিকে।

আমরা শহুরে লোকেরা আঞ্চলিক ভাষাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করি কিন্তু ভাষাকে বাঁচিয়ে রাখে লোকায়ত সংস্কৃতির মধ্যে যারা আছেন তারাই। আমরা আঞ্চলিক ভাষা শুনে নাক সিটকাই, আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতে চাই না; একেবারে শুদ্ধ ভাষাচর্চার কথা বলি- আমি তা মনে করি না। আমি মনে করি, ভাষার এ আঞ্চলিকতার মধ্য দিয়ে ভাষা জীবন্ত এবং বেঁচে থাকে। এখানেই ভাষার প্রাণশক্তি। আঞ্চলিকতার মধ্য দিয়ে ভাষার প্রাণস্পন্দন টের পাওয়া যায়, ভাষাকে স্পর্শ করা যায়, ভাষার গন্ধ পাওয়া যায়- ভাষা যে জীবন্ত সেটা বোঝা যায়। আঞ্চলিক ভাষার যে মিষ্টতা তা আমার কাছে অতুলনীয় মনে হয়। বাংলা ভাষাকে বুকের ভেতর আগলে রেখেছিল এ দেশের সাধারণ মানুষ; এখনও তারাই আগলে রাখছে বাংলা ভাষাকে।

এবারের বইমেলায় আমার তিনটি কবিতার বই বেরুচ্ছে, ‘মধুর মুহূর্তগুলো চলে যায়’ এবং ‘পৃথিবীর চোখে জল’ মাওলা ব্রাদার্স থেকে আর ‘হাতে অমৃতকুম্ভ, পান করি বিষ’ অনন্যা থেকে।

অনুলিখন : শুচি সৈয়দ


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত