যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
২০০ পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীর তালিকা প্রকাশ
একাত্তরে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে যুদ্ধাপরাধ করেছে এমন ২০০ জনের তালিকা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলন। এ তালিকায় রয়েছে একজন লেফটেন্যান্ট জেনারেল, পাঁচজন মেজর জেনারেল, ২০ জন ব্রিগেডিয়ার, পাঁচজন কর্নেল, ৩৯ জন লেফটেন্যান্ট কর্নেল, ৪৫ জন ক্যাপ্টেন, ৮১ জন মেজর, দু’জন লেফটেন্যান্ট, তিনজন বিমানবাহিনীর ও তিনজন নৌবাহিনীর কর্মকর্তা।
মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় স্বাধীনতা হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তালিকা প্রকাশ করেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা এ সংগঠনের আহ্বায়ক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান। তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলনের ঘোষিত কর্মসূচি সফলতার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
নৌমন্ত্রী বলেন, ২০০ জনের এ তালিকার মধ্যে গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের ঘটনাগুলোর নীলনকশা প্রণয়ন ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নেতৃত্বের অভিযোগে অভিযুক্ত ৬৮ জন। জেনেভা কনভেনশনসহ আন্তর্জাতিক সব যুদ্ধনীতি লংঘন করে সরাসরি গণহত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগে অংশ নেয় ১১৮ জন। ব্যাপক গণহত্যায় অংশ নেয় ১৪ জন। এই ১৪ জনের মধ্যে পাকিস্তান নৌবাহিনীর তিনজন এবং বিমানবাহিনীর তিনজন কর্মকর্তা রয়েছে।
তিনি বলেন, “আমাদের আন্দোলন ও দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল’ উল্লিখিত পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধী সেনাদের বিচারের প্রাথমিক পদক্ষেপ নিয়েছে। এ উদ্যোগকে অভিনন্দন জানাই। একই সঙ্গে ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক গঠিত তথ্য সংগ্রহ কমিটিকে আমাদের পক্ষ থেকে সাধ্য অনুযায়ী সহযোগিতা প্রদান করব।”
২০০ জনের তালিকা প্রকাশের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলন ১৯৫ জন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তার বিচারের দাবি জানিয়ে আসছে। পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের তথ্য সংগ্রহের সময় আরও পাঁচ কর্মকর্তার সন্ধান পেয়েছি। এর ফলে ১৯৭১ সালে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী পাকিস্তান সেনা সদস্যদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২০০ জন।’
নৌমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ঘোষিত দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম জামায়াতে ইসলামকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা। জামায়াতে ইসলামকে সংগঠন হিসেবে বিচার করা এবং যুদ্ধাপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা ও তাদের সপরিবারে নাগরিকত্ব বাতিল করার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ অ্যাক্ট ১৯৭৩ সংশোধনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের আরেকটি দাবি হচ্ছে- মুক্তিযুদ্ধ, গণহত্যা, নির্যাতন ও গণআন্দোলনের অবমাননা বা অস্বীকারকারী, মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব ও শহীদদের অপমান করে বক্তব্য প্রদানের বিরুদ্ধে পাশ্চাত্যের ‘জেনোসাইড ডিনায়াল ল’-এর আদলে আইন প্রণয়ন করা। এই আইন প্রণয়নের ঘোষণা ইতিমধ্যে আইনমন্ত্রী দিয়েছেন। এই পদক্ষেপকে আমাদের আন্দোলনের প্রাথমিক বিজয় বলে মনে করছি।’
সংবাদ সম্মেলনে শাজাহান খানের সঙ্গে ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক আবেদ খান, চলচ্চিত্র পরিচালক কাজী হায়াৎ, মুক্তিযোদ্ধা ইসমত কাদির গামা, অধ্যাপক আবদুল মান্নান চৌধুরী, অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী, মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক মিয়া, ওসমান আলী, কামাল পাশা চৌধুরী প্রমুখ।
২০০ পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধী হল : তৎকালীন লে. জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী, মেজর জেনারেল নজর হোসাইন শাহ, মোহাম্মদ হোসাইন আনসারি, মোহাম্মদ জামশেদ, কাজী আবদুল মজিদ খান ও ফরমান আলী খান।
বিগ্রেডিয়ার আবদুল কাদির খান, আরিফ রাজা, আত্তা মোহাম্মদ খান মালিক, বশির আহমেদ, ফাহিম আহমেদ খান, ইফতেখার আহমেদ রানা, মনজুর আহমেদ, মনজুর হুসাইন আতিফ, মিয়া মনসুর মুহাম্মদ, মিয়া তাসকিন উদ্দীন, মীর আবদুল নাইম, মো. আসলাম, মো. হায়াত, মো. সাফি, এনএ আশরাফ, এসএ আনসারি, সাদ উল্লাহ খান, সাঈদ আসগর হাসান, সাঈদ শাহ আবুল কাশিম ও তজাম্মল হোসাইন মালিক।
কর্নেল ও লে. কর্নেল পদমর্যাদার কর্মকর্তারা হল : ফজলে হামিদ, কে কে আফ্রিদি, মো. খান, মোহাম্মদ মোশারফ আলী, আবদুল গাফ্ফার, আফতাব কিউ কোরেশী, আবদুল রেহমান আয়ন, আবদুল হামিদ খান, আবদুল্লাহ খান, আহমেদ মুখতার খান, আমির মো. খান, আমির মো. খান, আমির নেওয়াজ খান, আমির মো. খান, এ সামস উল জামান, আশিক হোসাইন, আজিজ খান, গোলাম ইয়াছিন সিদ্দিকী, ইশরাত আলী আলভী, মোখতার আলম হিযাজি, মোস্তফা আনোয়ার, এম আরকে মির্জা, মাতলুব হোসাইন, মোহাম্মদ আকরাম, মো. আকবর, মোহাম্মদ নওয়াজ, মমতাজ মল্লিক, এমএমএম বাইজ, মো. মতিন, মাজহার হুসাইন চৌহান, মোখতার আহমেদ সাঈদ, মোস্তফাজান, ওমান আলী খান, রিয়াজ হোসাইন জাভেদ, রশিদ আহমেদ, শেখ মো. নাইম, সরাফরাজ খান মল্লিক, এসএফএইচ রিজভী, এসএইচ বোখারী, সাঈদ হামিদ সাফি, সুলতান বাদশাহ, সুলতান আহমেদ, এসআরএইচএস জাফরী, জিয়াদ আগা খান ও এমওয়াই মল্লিক।
মেজর পদপর্যাদার কর্মকর্তারা হল : আবদুল গোফরান, আনিস মাহমুদ, আরিফ জাভেদ, আত্তা মোহাম্মদ, আবদুল হামিদ, এএসপি কোরেশী, আশফাক আহমেদ চিমা, আবদুল খালেক খায়ানি, আবদুল ওয়াহেদ মুঘল, আবদুল হামিদ খাত্তাক, আহমেদ হাসান খান, আনিস আহমেদ খান, আবদুল ওয়াহিদ খান, মো. জাহাঙ্গীর, গোলাম মোহাম্মদ, গোলাম আহমেদ, গজনফার আলী নাসির, হাদী হোসাইন, হাসান মুজতবা, ইফতেখার উদ্দিন আহমেদ, ইফতেখার আহমেদ, শাহ মোহাম্মদ ওসমান ফারুকী, খুরশেদ ওমান, খুলশিদ আলী, খিজার হায়াত, মেহেল মোহাম্মদ খান, এম আবদুল্লাহ খান, মো. আফজাল, এম ইশহাক, মো. হাফিজ রাজা, মো. ইউনুস, মো. আমিন, মো. লোদী, মির্জা আনোয়ার বেগ, এমএকে লোদি, মাদাদ হোসাইন শাহ, মো. আইয়ুব খান, মো. শরিফ আরাইন, মো. ইফতিখার খান, এম ইয়াহিয়া হামিদ খান, মো. ইয়ামিন, মো. গজনফর, মো. সারওয়ার, মো. সিদ্দিকী, মো. আশরাফ, মো. আশরাফ খান, মোহাম্মদ সফদার, এমএম ইস্পাহানি, মো. জামিল, মো. শাফি, মো. আজিম কোরেশী, মো. জুলফিকার রেটরি, মুশতাক আহমেদ, নাসিরা খান, নাসির আহমেদ, রানা জহর মহিউদ্দিন খান, রিফাত মাহমুদ, রুস্তুম আলী, আরএম মমতাজ খান, সরদার খান, মোহাম্মদ আজম খান, সাইফ উল্লাহ খান, এসটি হুসাইন, এসএমএইচএস বোখারী, সাজিদ মাহমুদ, শের-উর-রেহমান, সালামত আলী, সাজ্জাদ আখতার মালিক, সেলিম এনায়েত খান, সুলতান সাউদ, সরফরাজ উদ্দীন, শুকাতুল্লাহ খাত্তাক, সুলতান শুক্র আওন, সরাফরাজ আলম, সারওয়ার খান, তাফিউর উল ইসলাম ও জাওমুল মালুক।
ক্যাপ্টেন পদমর্যাদার কর্মকর্তারা হল : আবদুল ওয়াহেদ, আফতাব আহমদ, আরিফ হোসাইন শাহ, আবরার হোসাইন, আমজাদ সাব্বির বোখারী, আসাফ আহমেদ, আবদুল কাহহার, আশরাফ মির্জা, আবদুল রশিদ নাইয়ার, আমান উল্লাহ, আজিজ আহমেদ, গলফরাজ খান আব্বাসি, ইকরামুল হক, ইজাম আহমেদ চিমা, ইফতেখার আহমেদ গণ্ডল, ইশহাক পারভেজ, ইকবাল শাহ, জাভেদ ইকবাল, জাহাঙ্গীর কয়োনি, কারাম খান, মানজার আমিন, মোজাফ্ফর হোসাইন নকভী, মো. সাজ্জাদ, মোহাম্মদ জাকির খান, মো. আরিফ, মো. আশরাফ, মো. ইকবাল, মো. রাফি মুনির, মো. জামিল, নাঈম সিদ্দিক, শের আলী, সালমান মাহমুদ, শামসেদ সারওয়ার, শহীদ রেহমান, সালেহ হোসাইন, শওকত নওয়াজ খান ও জাহিদ জামান।
এ ছাড়া যুদ্ধপরাধীর তালিকায় রয়েছে : মেজর ফায়েজ মাহমুদ, নাদির পারভেজ খান ও মিয়া ফকরুদ্দীন, ক্যাপ্টেন হেদায়েত উল্লাহ খান, মো. সিদ্দিকী, হাসান ইদ্রিস ও খলিল-উর রহমান।
পাকিস্তান বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা হল : ইনাম-উল হক খান, এমএ মজিদ বেগ ও খলিল আহমেদ। নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা হল : মোহাম্মদ শরীফ, ইকরামুল হক মল্লিক ও খতিব মাসুদ হুসাইন।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত