যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
অভিজ্ঞতা ছাড়াই বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ পেল এস আলম গ্রুপ
পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই অবকাঠামো নির্মাণ শুরু
বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে কোনো অভিজ্ঞতা নেই। তা সত্ত্বেও এস আলম গ্রুপকে ১ হাজার ২২৪ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বৃহৎ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ দেয়া হয়েছে। চীনের ঋণ সহযোগিতায় চট্টগ্রামে কয়লাভিত্তিক এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করবে দেশীয় এ গ্রুপটি। দুই দশমিক চার বিলিয়ন ডলারের এ প্রকল্পে ৭৫ শতাংশ ঋণ দেবে চীন। যার পরিমাণ এক দশমিক ৭৩৯ বিলিয়ন ডলার। আমদানি করা কয়লায় চলবে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি। উৎপাদনে যাওয়ার পর সরকার এ কোম্পানির কাছ থেকে ৬ টাকা ৬১ পয়সা দরে বিদ্যুৎ কিনবে।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে এ বিষয়ে নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) মধ্যে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) ও নির্মাণ চুক্তি (আইএ) স্বাক্ষর হয়। বিদ্যুৎ ভবনে অনুষ্ঠিত সভায় পিডিবির পক্ষে কোম্পানি সচিব মাজহারুল হক ও এস আলম গ্র“পের পক্ষে চেয়ারম্যান সাইফুল আলম চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। সোমবার দুপুরে কয়লাভিত্তিক এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রতিবাদ করতে গেলে এলাকাবাসীর সমাবেশ ও মিছিলে পুলিশ গুলি করে। এতে পাঁচজন নিহতসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৩১ অক্টোবর এস আলম গ্রুপ এ প্রকল্পটির জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের অনুমোদন পায়। এর ২৭ মাস পর চুক্তি হলেও প্রকল্পের পরিবেশগত ছাড়পত্র এখনও তারা পায়নি। বলা হচ্ছে, ইআইএ (এনভাইরনমেন্টাল ইমপেক্ট অ্যাসেসমেন্ট) রিপোর্ট পরিবেশ অধিদফতরে জমা হয়েছে।
এস আলম গ্রুপের সঙ্গে এ প্রকল্পে চীনের দুটি কোম্পানিও জড়িত রয়েছে। তারা হল : সেপকো থ্রি ইলেকট্রিক পাওয়ার কনসট্রাকশন কর্পোরেশন ও এইচটিজি ডেভেলপমেন্ট গ্রুপ কোম্পানি। উদ্যোক্তাদের প্রতিষ্ঠিত এসএস পাওয়ার লিমিটেড ১ ও ২ নামে দুই কোম্পানি এক হাজার ২২৪ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এখানে ৬১২ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট স্থাপন করা হবে।
প্রতি টন কয়লার প্রাথমিক দর ১২০ ইউএস ডলার ধরে বিদ্যুতের দাম ঠিক করা হয়েছে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের অনুমোদিত দর (লেভেলাইড ট্যারিফ) ধরা হয়েছে ৬ টাকা ৬১ পয়সার মতো (৮.২৫৯ সেন্ট)। উৎপাদন শুরু হওয়ার পর প্রকল্প ব্যয় ও জ্বালানি মূল্যের ওপর নির্ভর করে এ দাম আরও বাড়তে পারে। সরকারের সঙ্গে এভাবেই চুক্তি হয়েছে।
মোট শেয়ারের মধ্যে ৭০ শতাংশ থাকছে এস আলম গ্র“পের কাছে। সেপকোর কাছে থাকছে ২০ শতাংশ এবং এইচটিজি ডেভেলপমেন্টের হাতে থাকছে বাকি ১০ শতাংশ শেয়ার। সেপকোই প্রকল্পের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে। গত বছরের ২৯ জুন সেপকোর সঙ্গে চুক্তি হয়।
জানা গেছে, সরকারের সঙ্গে চুক্তি কার্যকরের দিন থেকে ৪৫ মাসের মধ্যে কেন্দ্রটি থেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। এস আলম গ্র“পের দেয়া তথ্যমতে, ২০১৯ সালের নভেম্বরে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করতে পারবে তারা। প্রকল্পের জন্য চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গণ্ডামারা পশ্চিম বড়ঘোনায় ইতিমধ্যে ৬০০ একর জমি কেনা হয়েছে। সম্প্রতি এখানে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরু হলে এলাকাবাসী তাদের কিছু যৌক্তিক কারণ তুলে ধরে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেন।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত