মিজান চৌধুরী    |    
প্রকাশ : ১১ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
রিজার্ভ উদ্ধারে ৪ পদক্ষেপ
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন সংসদীয় কমিটিতে আজ উপস্থাপন
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির অর্থ ফেরত আনতে নেয়া হয়েছে চার পদক্ষেপ। এর মধ্যে ফিলিপাইনের বিচার বিভাগের (ডিওজে) কাছে আইনি সহায়তা চেয়ে অনুরোধ পত্র দিয়েছে বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস। পাশাপাশি চীন, সিঙ্গাপুর, জাপান ও ফিলিপাইনের সম্মতি আদায় করা হয়েছে রিজার্ভ উদ্ধার ও জড়িতদের শনাক্তে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যাপারে। আর ঢাকাস্থ ফিলিপাইন দূতাবাসের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে এ সংক্রান্ত দায়ের করা মামলার এজাহার ও প্রাথমিক তদন্তের প্রতিবেদন। সর্বশেষ ফিলিপাইনের নতুন সরকারের সঙ্গে আলোচনার লক্ষ্যে পাঠানো হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল।
রিজার্ভ উদ্ধারের এসব অগ্রগতি নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে পাঠানো হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে। আজ বৃহস্পতিবার কমিটির বৈঠকে তা উপস্থাপন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এ তথ্য।
এ প্রসঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. আবদুর রাজ্জাক বুধবার যুগান্তরকে বলেন, রিজার্ভ চুরির অর্থের মধ্যে মাত্র ১ কোটি ৫২ লাখ মার্কিন ডলার উদ্ধার হয়েছে। বাকি অর্থ উদ্ধারের ব্যাপারে অগ্রগতি হচ্ছে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ব্যাপারে কি পদক্ষেপ নিয়েছে তা আমরা জানতে চেয়েছি। তাদের প্রতিবেদন দেখে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সুপারিশ করবে।
জানা গেছে, রিজার্ভ উদ্ধারের জন্য ফিলিপাইন সরকার ও আরসিবিসি ব্যাংকের ওপর আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে চাপ সৃষ্টির সুপারিশ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এক্ষেত্রে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি), ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (আইএফসি), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, বিশ্বব্যাংক, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক এবং সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াই ইন্টারব্যাংকিং ফিন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশনকে (সুইফট) ব্যবহার করতে বলা হয়।
সূত্রমতে, রিজার্ভ উদ্ধারে এ পর্যন্ত কার্যক্রমের ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, চুরি হওয়া রিজার্ভের ১ কোটি ৫২ লাখ ডলার ফিলিপাইনের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট জমা দিয়েছে এন্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিলের (এএমএলসি) কাছে। এই অর্থ বাংলাদেশকে ফেরত দেয়ার আইনি কার্যক্রম গ্রহণের জন্য এএমএলসিকে নির্দেশ দেয় ফিলিপাইনের সিনটের ব্লু রিবন কমিটি। সে পরিপ্রেক্ষিত ফিলিপাইনের আদালতে মামলা দায়ের করেছে এএমএলসি। ওই মামলার কারণে উদ্ধারকৃত ১ কোটি ৫২ লাখ মার্কিন ডলার বাজেয়াপ্তকরণ সংক্রান্ত একটি অর্ডার দিয়েছেন আদালত। এ অর্থ ফেরত আনার জন্য বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস থেকে একটি চিঠি ফিলিপাইনের বিচার বিভাগের কাছে পাঠিয়েছে। পাশাপাশি তাদের বিচার বিভাগের অনুরোধে বাংলাদেশ থেকে সব ধরনের মামলার নথি, তদন্ত প্রতিবেদন ইংরেজিতে অনুবাদ করে কূটনৈতিক চ্যানেলে পাঠানো হয়েছে ফিলিপাইনে।
এছাড়া বাংলাদেশের রিজার্ভ উদ্ধারের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন দেশের তদন্ত কর্তৃপক্ষদের নেয়া কার্যক্রম সমন্বয় করতে ৩১ মে ফিলিপাইনের ম্যানিলায় একটি বৈঠক হয়। সেখানে রিজার্ভ উদ্ধার ও জড়িতদের শনাক্তকরণে উদ্যোগ নেয়ার জন্য সম্মতি আদায় করা হয় চারটি দেশের কাছ থেকে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সুইজারল্যান্ডের ব্যাসেলে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক, সুইফট ও বাংলাদেশ সমন্বয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়। সেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের প্রেসিডেন্ট ও সুইফটের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। ওই সভার সিদ্ধান্তেও পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ বাংলাদেশের রিজার্ভ উদ্ধারে ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে চিঠি দেয়া হয়।
এছাড়া কোরিয়ার বুসানে বৈঠক হয়েছে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক মান নির্ধারণকারী আন্তঃদেশীয় সংস্থা ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্কফোর্সের (এফএটিএ) প্লেনারি সভা। সেখানে বিশ্বব্যাংক, এফএটিএফ, ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন রিভিউ গ্রুপ (আইসিআরজি) ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করে। এসব সংস্থার কাছ থেকে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস পাওয়া গেছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
জানা গেছে, সর্বশেষ রাজনৈতিকভাবে আলোচনা করে চুরি হওয়া রিজার্ভের অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে ফিলিপাইনে সম্প্রতি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এক্ষেত্রে নতুন সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল ফিলিপাইনে অবস্থান করছে।
রিজার্ভ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ফিলিপাইনের সঙ্গে বাংলাদেশের অ্যান্টি মানি লন্ডারিং চুক্তি নেই। ফলে রিজার্ভ ফেরত আনতে হবে আন্তর্জাতিক চুক্তি ‘পালেরমো কনভেনশনের’ আওতায়। এই চুক্তিতে বাংলাদেশ ও ফিলিপাইন উভয়ে স্বাক্ষর করেছে। তবে আদালতের বাইরে গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে এই অর্থ ফেরত আনা হলে কম সময়ের প্রয়োজন হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতে বিষয়টি সুরাহা করতে প্রায় ৯ থেকে ১২ বছর প্রয়োজন হতে পারে। এটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। এ কারণে আদালতের বাইরে আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার ক্ষেত্রে জোর দিচ্ছে সরকার।
উল্লেখ্য, ২ ফেব্রুয়ারি ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে চুরি করে নেয়া হয়। এর মধ্যে ৬ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলারের সন্ধান পাওয়া গেছে। আর ২ কোটি ১০ লাখ ডলারের সন্ধান পাওয়া যায়নি। সন্ধান পাওয়া অর্থের মধ্যে ২ কোটি ৮০ লাখ ডলার আছে সোনেয়ার রিসোর্ট ও ক্যাসিনো ম্যানিলার হিসাবে। ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার আছে ফিলিপাইনের রেমিটেন্স কোম্পানি ফিলরেমোর হিসাবে।




আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত