রাশেদ রাব্বি ও নাসির উদ্দিন রকি    |    
প্রকাশ : ২১ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
স্বাস্থ্য অধিদফতরের চরম গাফিলতি
টিকাই পৌঁছেনি ৪৮ আদিবাসী পল্লীতে!

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডসহ পাঁচ উপজেলার অর্ধশত আদিবাসী পল্লীর কমপক্ষে ১৫ হাজার মানুষ যে কোনো সময় হাম ও যক্ষ্মাসহ ১০টি মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হতে পারেন- এমন আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। তাদের মতে, এসব রোগ প্রতিরোধে নির্ধারিত সময়ে যেসব টিকা নেয়ার কথা ছিল, ওইসব এলাকার বাসিন্দাদের তা কোনো দিনও দেয়া হয়নি। এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকেও নেয়া হয়নি তেমন কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ। তবে সম্প্রতি সীতাকুণ্ডে হামে আক্রান্ত হয়ে ৯ শিশুর মৃত্যু হলে বুধবার ওই এলাকায় টিকাদান কেন্দ্র ও স্বাস্থ্য কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।

উল্লিখিত দুটিসহ ১০টি রোগ থেকে শিশুদের বাঁচাতে সরকার বিনামূল্যে ‘সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি’র মাধ্যমে সারা দেশে টিকা দিয়ে থাকে। বাকি আটটি রোগ হল- ডিপথেরিয়া, ধনুষ্টংকার, হুপিংকাশি, পোলিও, হেপাটাইটিস-বি, হিমো-ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি ও রুবেলা। এছাড়া মা ও গর্ভের শিশুর নিরাপত্তায় ১৫-৪৯ বছরের মহিলাদের ৫ ডোজ টিটি টিকা প্রদান করা হয়ে থাকে। কিন্তু চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, মিরসরাই, হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়া- এ পাঁচটি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকার আটটি আদিবাসী পাড়ায় কোনো দিনও সরকারের টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আসেনি। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংশ্লিষ্টদের চরম অবহেলার কারণেই মূলত এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। যার পরিণতিতে অকালে ঝরে গেছে সীতাকুণ্ডের ত্রিপুরাপাড়ার নয় শিশু।

যুগান্তরের অনুসন্ধানে জানা গেছে, উল্লিখিত এলাকায় বছরের পর বছর সরকারি টিকাদান কর্মসূচি হয় না। অধিকাংশ এলাকার লোকজন জানেনও না যে শিশুর জন্মের পর থেকে বিভিন্ন টিকা দিতে হয়। শুধু আদিবাসী পল্লী নয়, কোনো কোনো বাঙালি অধ্যুষিত পরিবারেও পৌঁছেনি টিকাদান কর্মসূচি। এসব এলাকার অনগ্রসর বাসিন্দারা অসুখ-বিসুখের জন্য নির্ভর করেন পাহাড়ি লতা-পাতা, কবিরাজ এবং ঝাড়-ফুঁকের ওপর। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরাও এসব এলাকায় টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনায় তেমন আগ্রহী নন। মাঝেমধ্যে কর্মসূচির আয়োজন করা হলেও এলাকাবাসীর কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। তবে সীতাকুণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর পর সরকারের কার্যকরী পদক্ষেপে ঠিকই সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। আগে এ ধরনের সচেতনতামূলক পদক্ষেপ নেয়া হলে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না মন্তব্য জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, দেশের সব মানুষকে সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার আওতায় আনতে প্রতি বছর মাইক্রো প্ল্যান করা হয়। কিন্তু চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ত্রিপুরাপাড়া কখনোই কোনো মাইক্রো প্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ফলে এলাকাটি বরাবরই থেকে গেছে স্বাস্থ্যসেবার বাইরে। যদিও অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ নয় শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি যুগান্তরকে বলেন, এলাকাটি মাইক্রো প্ল্যানের বাইরে থাকার কারণে উক্ত এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত মাঠপর্যায়ের ছয় স্বাস্থ্যকর্মীকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে। অন্য কোনো এলাকা মাইক্রো প্ল্যানের বাইরে আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব চিহ্নিত করতে সব বিভাগীয় পরিচালক, সিভিল সার্জন এবং টিএইচওদের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

এদিকে ৯ শিশুর মৃত্যুর দায় স্বাস্থ্য অধিদফতর এড়াতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন খোদ অধিদফতরের পরিচালক (প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা) ডা. খালেদা ইসলাম। তিনি যুগান্তরকে বলেন, যে মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব, সে মৃত্যুর দায় কেউ এড়াতে পারে না। টিকা না দেয়ায় এ এলাকার মানুষ এসব রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কতটা জানতে চাইলে তিনি বলেন, টিকা গ্রহীতাদের চেয়ে ওই এলাকায় বসবাকারীদের এসব রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেকগুণ বেশি।

টিকাবঞ্চিত অবহেলিত জনপদের চিত্র : চট্টগ্রামের ৫টি উপজেলায় (সীতাকুণ্ড, মিরসরাই, হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়ায়) ৪৮টি আদিবাসী পাড়া রয়েছে। সেখানে বাস করে প্রায় তিন হাজার পরিবার। সদস্য সংখ্যা ১৫ হাজারের বেশি। এরমধ্যে ফটিকছড়ি উপজেলার চারটি ইউনিয়ন- সুয়াবিল, হারুয়ালছড়ি, ভূজপুর ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের ১৩টি ত্রিপুরাপাড়ায় প্রায় এক হাজার পরিবার রয়েছে। এসব পরিবারে বসবাস করেন ৪ হাজার লোক। সীতাকুণ্ডের চারটি ইউনিয়ন- বারইয়ার ঢালা, বাঁশবাড়িয়া, কুমিরা, সোনাইছড়ি এবং সীতাকুণ্ড পৌরসভায় ৮টি ত্রিপুরাপাড়ায় রয়েছে ৪০০ পরিবার। এখানে আছেন দেড় হাজার মানুষ। মিরসরাই উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের ৮টি ত্রিপুরাপাড়ায় অন্তত ৬০০ পরিবার রয়েছে। এখানে আড়াই হাজারের মতো লোকের বসবাস। হাটহাজারী উপজেলায় ২টি ত্রিপুরাপাড়ায় ১১০টি পরিবার রয়েছে। এখানে জনসংখ্যা সাড়ে ৪০০। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রাজানগর, ইসলামপুর, সড়ফভাটা ও চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নে ২০টি পাড়ায় ৯০০ আদিবাসী (ত্রিপুরা, চাকমা ও মারমা) পরিবার রয়েছে। পরিবারগুলোতে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার লোক বসবাস করেন। কিন্তু এদের সবাই বছরের পর বছর সরকারি টিকা বা স্বাস্থ্যসেবা পাননি বলে যুগান্তরের অনুসন্ধানে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) চট্টগ্রামের সাবেক সভাপতি ডা. শেখ শফিউল আজম যুগান্তরকে বলেন, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা যেখানে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়ার জন্য কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠাসহ নানা উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে সেখানে চট্টগ্রামে অর্ধশত আদিবাসী পল্লীতে টিকাদান কর্মসূচি না চলা বা এখানকার বিশাল জনগোষ্ঠী স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত থাকার ঘটনা দুঃখজনক। আর এ অবহেলা ও উদাসীনতার কারণেই সীতাকুণ্ডের ত্রিপুরাপাড়ায় ৯ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি মনে করেন। এ ঘটনার জন্য শুধু মাঠকর্মীদের ‘শাস্তিমূলক বদলি’ করে দায় সারা হয়েছে মন্তব্য করে বলেন, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনাকারী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাদের অবহেলা রয়েছে তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি আদিবাসি পল্লীসহ দুর্গম আর যেসব এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছেনি, সেসব এলাকায় দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকে।

সরেজমিন খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, সীতাকুণ্ডের ত্রিপুরা পল্লীর বাসিন্দা গুনাধন ত্রিপুরা (৪০) তার স্ত্রী নিরুবালা ত্রিপুরা (৩৫)। তাদের চার ছেলেমেয়ের মধ্যে রতন ত্রিপুরা (৯), শাকিল ত্রিপুরা (৭) ও সজীব ত্রিপুরা (৫)। হামে আক্রান্ত হওয়ার পর তাদের ভর্তি করা হয় ফৌজদারহাটে অবস্থিত বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেক্সাস ডিজিজ (বিআইটিআইডি) হাসপাতালে। হাসপাতালে কথা হয় গুনাধন ত্রিপুরার সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে জানান, ‘তাদের চার ছেলেমেয়ে ধাত্রীর মাধ্যমে ঘরে জন্ম হয়েছে। কখনও তাদের সন্তানদের টিকা দেয়া হয়নি। এমনকি কোনো পাস করা ডাক্তারের কাছেও তাদের চিকিৎসা করানো হয়নি। কঠিন অসুখে তারা রোগের ধরন বলে হোমিওপ্যাথি ওষুধ নিতেন। এছাড়া অসুখে তাদের প্রধান ভরসা ছিল ঝাড়ফুঁক।’ শুধু গুনাধন ত্রিপুরাই নন; সোনাইছড়ি ইউনিয়নের এ ত্রিপুরা পল্লীর সব বাসিন্দাদের ভরসা ছিল হোমিওপ্যাথি এবং ঝাড়ফুঁক। এখানে ঘরে প্রসব করাতে গিয়ে মারা গেছে ত্রিপুরাদের অনেক সন্তান। এ ত্রিপুরা পল্লীতে রয়েছে ৬৫টি পরিবার। এসব পরিবারে ২৭০ জন বাসিন্দা রয়েছে। এরমধ্যে ১১৫ জন মহিলা এবং ১৫৫ জন পুরুষ। এখানে ১৫ বছরের নিচে শিশু রয়েছে ৮৯ জন। এরমধ্যে ৫ বছরের নিচে শিশু রয়েছে ১৪ জন এবং ১ বছরের নিচে রয়েছে ৩ জন। এদের কাউকে জন্মের পর হাসপাতালে নেয়া হয়নি। স্বাস্থ্যকর্মীরা মাঝে-মধ্যে গেলেও তাদের কাছ থেকে চিকিৎসা নিতে অনাগ্রহ ছিল আদিবাসীদের। এ কারণে স্বাস্থ্যকর্মীরাও আর দায়িত্ব পালনে অনাগ্রহী ছিল। যদিও ঘটনার পর এখন এলাকায় টিকাদান কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। বুধবার চট্টগ্রাম স্বাস্থ্য বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে এ এলাকায় টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। সূত্র বলছে, আগে এভাবে টিকাদান কর্মসূচি চালালে ৯ কোমলমতি শিশুর মৃত্যুর ঘটনা এড়ানো যেত।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের মিরসরাই শাখার সাধারণ সম্পাদক সুরেন বাবু ত্রিপুরা যুগান্তরকে জানান, ‘মিরসরাইয়ে ৩টি ইউনিয়নে ৮টি ত্রিপুরাপাড়ায় অন্তত ৬০০ পরিবার রয়েছে। এ ৮টি পাড়া রয়েছে মিরসরাই সদর ইউনিয়নে, খৈয়াছড়া এবং মিরেরহাট ইউনিয়নে। সবক’টি পাড়ায় দুর্গম পাহাড়ে অবস্থিত। মিরসরাই সদর ইউনিয়নে যেসব ত্রিপুরা পরিবার বসবাস করে তাদের কেউ কেউ টিকা নিয়ে থাকে। তবে অন্য কোনো রোগের চিকিৎসা পায় না। এ ত্রিপুরাপাড়ায় যাতায়াত কিছুটা সুবিধার কারণে স্বাস্থ্যকর্মীরা মাঝে-মধ্যে আসেন। এরপরও এখানে কোনো কোনো অভিভাবক তাদের শিশুদের টিকা দেয়ানো থেকে বিরত রাখেন। স্বাস্থ্যকর্মী এলে তাদের সন্তানদের লুকিয়ে রাখেন কিংবা কিছুক্ষণের জন্য বাইরে কোথাও পাঠিয়ে দেন। স্বাস্থ্যকর্মীরা চলে গেলে আবার ফিরে আসে। টিকা সম্পর্কে ত্রিপুরাপাড়ার বাসিন্দাদের জনসচেতনতার অভাবে এমনটাই হচ্ছে। তবে করেরহাট এবং খৈয়াছড়া ইউনিয়নে বসবাসকারী ত্রিপুরাদের মাঝে স্ব্যাস্থ্যসেবা খুব একটা পৌঁছেনি। ওই দুই ইউনিয়নের দুর্গম এলাকায় বসবাসকারী ত্রিপুরাসহ বসবাসকারী পরিবারগুলোর শিক্ষার হার একেবারেই কম। তারা এখনও পুরাতন ধ্যান-ধারণা নিয়ে চলেন।’

সীতাকুণ্ড আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্র ত্রিপুরা যুগান্তরকে জানান, ‘সীতাকুণ্ডের পাঁচটি ইউনিয়নে ৮টি ত্রিপুরাপাড়া আছে। এরমধ্যে প্রায় ৪০০ পরিবার বসবাস করে। বসবাসকারী সব ত্রিপুরাই দিনমজুর। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী ত্রিপুরাপাড়ায় এখনও ঠিকভাবে চিকিৎসা সেবা পৌঁছেনি। কেন তারা সন্তানদের টিকা দেয়াবেন তাও তারা জানেন না। অধিকাংশই মনে করেন, ‘টিকা দিলে ব্যথা পাবে এবং এ টিকা সন্তানদের ক্ষতি করতে পারে- এমন ধারণা থেকে তারা টিকা নেন না।’

ফটিকছড়ি আদিবাসী ফোরামের সভাপতি হরিচন্দ্র ত্রিপুরা জানান, ‘এখানে বসবাসকারী আদিবাসীরা অত্যন্ত গরিব। সবাই খেটে খাওয়া মানুষ। যেদিন টিকা দেয়া হয় এর আগে স্থানীয় একটি মসজিদের মাইকে বলে দেয়া হয়। এতে যাদের ইচ্ছা হয় তারা টিকা নিতে যান। তবে এখানকার বাসিন্দারা অসুস্থ হলে মনে করেন তাকে ‘জাদু’ করেছে। এজন্য তারা কবিরাজের (বৈদ্য) কাছে গিয়ে ঝাড়ফুঁক করেন।’

নতুন করে আক্রান্ত আরও ১১ জন : সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ত্রিপুরাপাড়ায় নতুন করে আরও দুই পরিবারের ৯ জনসহ ১১ জন হামে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের বৃহস্পতিবার সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটে অবস্থিত বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেক্সাস ডিজিজ (বিআইটিআইডি) হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। বিআইটিআইডির সহকারী অধ্যাপক মামুনুর রশিদ যুগান্তরকে জানান, ‘বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত ত্রিপুরাপাড়া থেকে হামে আক্রান্ত ৯৪ জন ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৫৩ জনকে চমেক হাসপাতালে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে ১৭ জন চিকিৎসাধীন আছেন। বৃহস্পতিবার ৩ জনসহ গত ৩ দিনে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ২৪ জন। এর বাইরেও প্রথমদিকে চমেক হাসপাতালে সরাসরি ১০ থেকে ১২ জন ভর্তি হয়। সব মিলিয়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা একশ’ ছাড়িয়ে যাবে।’

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী যুগান্তরকে বলেন, ‘সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ত্রিপুরা পল্লীর মতো আর কোনো এলাকার বাসিন্দারা টিকা নেয়া থেকে বিরত আছেন কিনা কিংবা টিকাদান কর্মসূচির বাইরে আছেন কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। টিকাদানে দায়িত্বে অবহেলার কারণে ৬ স্বাস্থ্যকর্মীকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে। ‘হামে’ আক্রান্ত ত্রিপুরা পল্লীতে বুধবার একটি স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এ পল্লীর শিশুদের সব রোগের টিকা দেয়া হবে। এছাড়া ৩০ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং ১০ হাজার ওরস্যালাইন বিতরণ করা হয়েছে।’


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত