উবায়দুল্লাহ বাদল ও আকতার ফারুক শাহিন    |    
প্রকাশ : ২৩ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
ইউএনও ইস্যুতে তোলপাড়
পরীক্ষায় নকলের দায়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার ছেলেকে বহিষ্কার ও অসদাচরণের জন্য ৬ মাসের কারাদণ্ড, যথাযথভাবে সরকারি বরাদ্দের ব্যয় নিশ্চিত এবং সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা গড়তে না দেয়ার কারণেই ক্ষুব্ধ ছিলেন স্থানীয় নেতারা * প্রশাসনজুড়ে ক্ষোভ অসন্তোষ, দুই ডিসি, এসপি ও সংশ্লিষ্ট বিচারকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি প্রশাসন ক্যাডারের
জামিন আবেদন নামঞ্জুরের পর ইউএনও তারিক সালমনকে বুধবার কারাগারে নেয়া হয় -সংগৃহীত

স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের নানা দুর্নীতি ও অপকর্মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়াই কাল হয়েছে আগৈলঝাড়া উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা গাজী তারিক সালমনের। আগৈলঝাড়ায় দায়িত্ব পালনকালে পরীক্ষায় নকলের দায়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার ছেলেকে বহিষ্কার এবং অসদাচরণের কারণে ছয় মাসের কারাদণ্ড, সরকারি বরাদ্দের যথাযথ ব্যয় নিশ্চিত করা, সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা গড়তে না দেয়ার কারণেই মূলত সালমনের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন তারা।

পঞ্চম শ্রেণীর এক শিশুর আঁকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি দিয়ে স্বাধীনতা দিবসের আমন্ত্রণপত্র ছাপানোয় মামলার আসামি হন বরিশালের আগৈলঝাড়ার সাবেক ইউএনও গাজী তারিক সালমন। বর্তমানে তিনি বরগুনা সদরের ইউএনও। গত বুধবার বরিশাল মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে আবেদন নাকচ করে তাকে হাজতে পাঠানো হয়। তবে দুই ঘণ্টা পর আবার জামিন দেন একই বিচারক।

এ ঘটনার পরপরই প্রশাসনজুড়ে বিরাজ করছে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ। তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন তীব্র নিন্দা জানিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানায়। এমন পরিস্থিতিতে মামলার বাদী বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ওবায়েদ উল্লাহ সাজুকে দল থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। এছাড়া শনিবার প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তাদের ওই অ্যাসোসিয়েশন জরুরি বৈঠক করে বরিশাল ও বরগুনার ডিসির প্রত্যাহার, পুলিশ সুপার ও সংশ্লিষ্ট বিচারকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে। তবে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, ওই ইউএনও’র বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা হয়নি এবং তাকে গ্রেফতার করা হয়নি।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম শনিবার বেসরকারি নিউজ চ্যানেল যমুনা টিভিকে বলেন, যারা আওয়ামী লীগে পেছনের দরজা দিয়ে ঢুকেছে এটি তাদের পরিকল্পিত কাজ। তারা চেয়েছে প্রশাসনের সঙ্গে আওয়ামী লীগের একটা দূরত্ব তৈরি হোক। এটিই তারা করতে চেয়েছে তা স্পষ্ট ও প্রমাণিত। একজন প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করতে হলে বা আইনগত ব্যবস্থা নিতে হলে সরকারের অনুমতি নিতে হয়। প্রশ্ন হল তারা কার অনুমতি নিয়েছে? এ ক্ষেত্রে সিএমএমেরও দায়িত্বহীনতা রয়েছে। এটি তো জামিনে আমলযোগ্য অপরাধ, কেন করা হল না তা দেখা হবে। পুলিশের আচরণও গ্রহণযোগ্য নয়। তারা এ ধরনের আচরণ করতে পারেন না। সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম শনিবার যুগান্তরকে বলেন, ‘বরগুনা সদরের ইউএনও’র বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’ স্থানীয় জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপার (এসপি) ভূমিকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সবারই কিছু গাফিলতি রয়েছে বলে মনে হয়েছে। সে বিষয়গুলোও দেখা হচ্ছে। সবকিছুরই প্রক্রিয়া চলছে।’

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোজাম্মল হক খান যুগান্তরকে বলেন, জামিনযোগ্য মামলায় কেন জামিন হল না। আবার দুই ঘণ্টা পর কেন জামিন দেয়া হল তা রহস্যজনক। এটা ঠিক নয়। আমরাও কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করব। যা করা হয়েছে তার পেছনে রাজনৈতিক নেতারা রয়েছে, যারা সেখানকার ভূমিদস্যু, সরকারি সম্পত্তি অবৈধভাবে ব্যবহার করতে চায়। আগৈলঝাড়ার ইউএনও থাকাবস্থায় সেখানকার স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে স্বার্থের দ্বন্দ্ব ছিল, যার জেরে এটি হয়েছে।

জামিন ও পুলিশের ভূমিকা প্রসঙ্গে জনপ্রশাসন সচিব বলেন, ‘আদালতের বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করব না। পুলিশের বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট বিভাগ দেখবে। তবে বিচারককে আরও দক্ষ হওয়া উচিত ছিল। একজন বিচারকের বিবেচনাবোধ তো সকাল-বিকাল বদলানো আশা করি না।’

ডিসি-এসপির বিষয়ে বলেন, ‘আমরা আমাদের কাজ করছি। পুলিশের বিষয়টি তারাই দেখুক। আমরা আমাদেরটা দেখব।’

এদিকে ঘটনার শিকার বরগুনা সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাজী তারিক সালমন বলেন, কোনো অপরাধ না করা সত্ত্বেও আমার প্রতি যে অবিচার করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে দেশবাসী জেগেছে। জামিন নামঞ্জুর হওয়া এবং পুলিশের আচরণ প্রসঙ্গে অনুভূতি জানতে চাইলে তরুণ এই আমলা বলেন, আমার সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, যেন আমি কোনো দাগি আসামি। হাতকড়া পরানো না হলেও পত্রপত্রিকায় যেভাবে ছবি এসেছে, তাতে মনে হয়েছে আমাকে হাতকড়া পরানো হয়েছিল। তবে আমি পুলিশ সদস্যদের অনুরোধ করেছিলাম যে, আমাকে ধরার প্রয়োজন নেই। আমি তো এখান থেকে পালিয়ে যাচ্ছি না। আমি একজন সরকারি কর্মকর্তা। তারা আমাকে বলেছিলেন যে, সেটা তাদের দায়িত্ব।

জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর চাকরি থেকে চলে যাওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নেন এই অভিমানী কর্মকর্তা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই চাকরিতে আমি আর থাকব না। আমি পড়াশোনায় নিমগ্ন হব। আমার স্ত্রীকে খবর পাঠাতে বলি। আমি যেহেতু কারাগারে যাচ্ছি সেখানে কিছু বই পাঠাতে। যাতে বই পড়ে সময় কাটাতে পারি।

কেন তাকে মামলায় জড়ানো হল- প্রশ্ন করা হলে গাজী তারিক সালমন বলেন, বরিশালের আগৈলঝাড়ার ইউএনও দায়িত্ব পালন করি ৮ মাস। বেশ কিছু মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছি, যেটাতে ক্ষমতাসীনদের স্বার্থ ক্ষুণœ হয়েছে। সেখানে পরীক্ষা কেন্দ্রে নকলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিই। সরকারি যেসব বরাদ্দ আসে, সেগুলো যেন যথাযথভাবে ব্যয় হয়, সেজন্য একদম কঠোর অবস্থানে ছিলাম। এসব কারণে কিছু জনপ্রতিনিধি আমার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন।

আওয়ামী লীগ নেতার পুত্রের কারাদণ্ড : ঘটনাটি চলতি বছরের মে মাসের ৯ তারিখ। আগৈলঝাড়া শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত কলেজে ডিগ্রি পরীক্ষা চলাকালে নকলের দায়ে পরীক্ষার্থী আল রাজিন ওরফে পিয়ালকে বহিষ্কার করেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিক সালমন। এ সময় পিয়াল ইউএনওসহ অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করলে তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন ইউএনও তারিক। আলোচ্য পিয়াল আগৈলঝাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রইসের পুত্র। তিনি এলাকায় একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। কখনও কখনও নিজেকে বঙ্গবন্ধু পরিবারের আত্মীয় বলেও দাবি করেন। যদিও এই দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ মেলেনি। পুত্র পিয়ালের এভাবে পরীক্ষার হল থেকে বহিষ্কার এবং কারাদণ্ডের ঘটনায় দারুণভাবে ক্ষেপে যান রইস। এই ক্ষোভ থেকেই তারিক সালমনকে বিপদে ফেলার পথ খোঁজা শুরু হয় বলে সবার ধারণা। এক্ষেত্রে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার হয় ২৬ মার্চ উদযাপনে উপজেলা প্রশাসনের ছাপানো দাওয়াত কার্ডে জাতির জনকের ছবি ব্যবহারের বিষয়টি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উন্নয়ন প্রকল্পের কাজকর্মসহ আরও নানা বিষয় নিয়ে রইসসহ সেখানকার স্থানীয় কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে আগে থেকেই বৈরিতা ছিল ইউএনও তারিকের। যে কারণে তাকে যে কোনো উপায়ে হেনস্তা করার জন্য পথ খুঁজছিল তারাও। বিষয়টি নিয়ে আলাপকালে এসব ঘটনার সঙ্গে নিজের যে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা রইস। যুগান্তরকে তিনি বলেন, ‘পরীক্ষার ঘটনা ৯ মে। আর মামলা হয়েছে ৭ জুন। দুটি ঘটনাকে এক করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। আমার ছেলে অন্যায় করেছে। তাই তাকে শাস্তি দেয়া হয়েছে। পিতা হয়ে আমি কেন তার পক্ষে কথা বলব?’ বঙ্গবন্ধু পরিবারের সঙ্গে আত্মীয়তা প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমার বাড়ি আর জাতির জনকের বোনের শ্বশুরবাড়ি একই জায়গায়। তারা আমার আত্মীয়।’ কি রকম আত্মীয় প্রশ্ন করলে অবশ্য কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

শোকজ করা হয়েছিল তারিক সালমনকে : চলতি বছরের ৩ এপ্রিল আগৈলঝাড়ায় কর্মরত থাকাবস্থায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছিল সালমনকে। বরিশালের জেলা প্রশাসক ড. গাজী সাইফুজ্জামান দিয়েছিলেন ওই নোটিশ। নোটিশে ২৬ মার্চের অনুষ্ঠানের দাওয়াতপত্রে জাতির জনকের বিকৃত ছবি ছাপার অভিযোগ তুলে তার বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়। নোটিশের জবাব দিতে বলা হয় ৭ দিনের মধ্যে। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক সাইফুজ্জামান বলেন, ‘তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনার মো. গাউসের নির্দেশক্রমে ওই নোটিশ দেয়া হয় তাকে। বিভাগীয় কমিশনার তখন আমাকে বলেছিলেন, তাকে নাকি কেউ এ ব্যাপারে অভিযোগ করেছে। নির্দেশ অনুযায়ী আমি তারিক সালমনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠাই। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সে নোটিশের জবাব দিলে তা ফরোয়ার্ড করে বিভাগীয় কমিশনার মহোদয়কে পাঠানো হয়।’ ফরোয়ার্ডিং লেটারে তার জবাব প্রসঙ্গে আপনার কোনো মন্তব্য ছিল কিনা জানতে চাইলে নাসূচক উত্তর দেন তিনি। প্রশাসনের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, জেলা প্রশাসক কিছু না লিখলেও তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনার মো. গাউস এ ব্যাপারে যে চিঠি মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরে পাঠান তাতে তারিক সালমনের দেয়া জবাব সন্তোষজনক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে যোগাযোগ করা হলে অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদায় বর্তমানে সচিবালয়ে কর্মরত মো. গাউস সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওই এলাকার কিছু আওয়ামী লীগ নেতারা বিষয়টি নিয়ে আমার কাছে অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আমি জেলা প্রশাসককে বলি তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে। তার দেয়া জবাব যথাযথ না হওয়ায় উত্তর সন্তোষজনক নয় বলে আমি মন্তব্য করেছি।’ কি কারণে জবাব সন্তোষজনক নয়- তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ছবি নিয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই। তবে জাতির জনকের ছবি নিমন্ত্রণপত্রের শেষ পাতায় ছাপানোয় আমার কাছে আইনের লঙ্ঘন বলে মনে হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বা নেয়ার সুপারিশও করা হয়নি।’ মো. গাউস এভাবে বললেও এর কিছুদিন পরই অর্থাৎ মে মাসের ২৭ তারিখ আগৈলঝাড়া থেকে বদলি করা হয় তারিক সালমনকে। ওই উপজেলায় যোগদানের মাত্র ৯ মাসের মাথায় আসে এই বদলির আদেশ। পরে জুন মাসে তিনি বরগুনা সদর উপজেলার ইউএনও পদে যোগদান করেন।

অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন : গাজী তারিক সালমনকে হেনস্থ করার ঘটনায় বরিশালের জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান ও বরগুনার জেলা প্রশাসক ড. মহা. বশিরুল আলমের অপসারণ দাবি করেছে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মামলার বিচারক ও পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানায় সংগঠনটি। সংগঠনের সহসভাপতি ও সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে শনিবার বিকালে এক জরুরি বৈঠকে এ দাবি জানানো হয় বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সদস্য যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, রাজধানীর ইস্কাটনের অ্যাসোসিয়েশন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের পুরো সময় ছিল গাজী তারিক সালমানের হয়রানির বিষয় নিয়ে আলোচনা। প্রায় অভিন্ন সুরে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা দাবি জানান, এটি কোনোভাবেই কাম্য নয় যে, একজন কর্মকর্তা সরকারি দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালনের অপরাধে তাকে জেলে যেতে হবে। আর আমাদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তা চেয়ে চেয়ে দেখবেন। এ ধরনের কর্মকর্তাদের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখতে চান না তারা। মামলার সংশ্লিষ্ট বিচারক ও পুলিশের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয় বৈঠকে। এ সময় সংগঠনের মহাসচিব কবির বিন আনোয়ারসহ কার্যনির্বাহী কমিটির বেশির ভাগ সদস্যই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন : ওদিকে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম বিপিএম-বার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ভিত্তিহীন অভিযোগে কর্মরত একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের এবং পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট মহলগুলোর উদাসীনতার কারণে উক্ত কর্মকর্তাকে যে ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে তা অগ্রহণযোগ্য এবং নিন্দনীয়। বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন ইউএনও গাজী তারিক সালমানের প্রতি পূর্ণ সহানুভূতি ও সহমর্মিতা প্রকাশ করছে। কতিপয় মহল থেকে ‘পুলিশ কিভাবে মামলা নিল? পুলিশ মামলা নিল কেন? পুলিশ তাকে কেন গ্রেফতার করল?’ এ ধরনের প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সুস্পষ্ট বক্তব্য হল এই যে, বর্ণিত বিষয়ে কোনো থানায়ই কোনো মামলা রুজু হয়নি এবং পুলিশ গাজী তারিক সালমনকে (ইউএনও) গ্রেফতারও করেনি।

জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন : এ ছাড়া জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব এবং আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচারবিষয়ক সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক যুগান্তরকে বলেন, বিচারাধীন বিষয় নিয়ে বলার কিছু নেই। আইন মন্ত্রণালয় বা জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে কিছু বলা সম্ভব নয়। তা ছাড়া এমন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি যা নিয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে বিবৃতি বা কোনো পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা দেখছে। এর বাইরে আমার কোনো বক্তব্য নেই।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত