চট্টগ্রাম ব্যুরো    |    
প্রকাশ : ২৩ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
চট্টগ্রাম বন্দরে বৈঠক
দুর্নীতি ও হয়রানি বন্ধের দাবি ব্যবসায়ীদের
২৪ ঘণ্টা সেবা দিতে প্রস্তুত হচ্ছে বন্দর-কাস্টম : এনবিআর * ৯ জন এসি-ডিসি ও ৯৪ জন এআরও নিয়োগ
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন হয়রানি, অনিয়ম ও সংকট দূর করার দাবি জানিয়েছেন। বন্দরে জাহাজ জট ও পণ্য জটে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য লাটে উঠছে বলে মন্তব্য করেছেন তারা। একইভাবে মানবসৃষ্ট নানা জটিলতার কারণে বন্দর-কাস্টমসে ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ তুলেছেন। অফডকের অনিয়মের বিষয়টিও উঠে এসেছে তাদের বক্তব্যে। বিএসটিআই, কোয়ারেন্টাইন বিভাগের হয়রানির বিষয়টিও বাদ যায়নি আলোচনা থেকে। শনিবার দুপুরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমানের উপস্থিতিতে কাস্টম হাউসের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় এ বৈঠক। আলোচ্য সংকট সমাধানে সরকার ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ারও আহ্বান জানান ব্যবসায়ীরা।
কাস্টম কমিশনার এএফএম আবদুল্লাহ খানের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, চট্টগ্রাম কাস্টম ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখতেই হবে। এটা প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা। সুতরাং এটা নিয়ে কোনো ধরনের কার্পণ্য করা যাবে না। কাস্টমসের জনবল সংকট কাটাতে এরই মধ্যে ৯৪ জন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) এবং এসি (সহকারী কমিশনার) ও ডিসি (উপ-কমিশনার) পর্যায়ের ৯ কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তারা শিগগিরই কাজে যোগ দেবেন।
বন্দর-কাস্টম ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২৪ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক আহ্বান করেছে। ওই বৈঠকে ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার ক্ষেত্রে বন্দরের কোনো সমস্যা আছে কিনা; থাকলে তা কিভাবে সমাধান করা যায় সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
শনিবারের বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব অশোক মাধব রায় বিশেষ অতিথি ছিলেন। বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম খালেদ ইকবাল, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বারের সহসভাপতি ও বিজিএমইএ পরিচালক এএএম মাহবুব চৌধুরী, বিজিএমইএ’র জিবি মেম্বার মাহফুজুল হক শাহ, চট্টগ্রাম চেম্বার পরিচালক অঞ্জন শেখর দাশ, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু, শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন পরিচালক সাহেদ সরওয়ার, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক ওয়াহিদ আলম। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনাকালে মেট্রোপলিটন চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও মাহবুব চৌধুরী বলেন, কাস্টম হাউস ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা কোনো ব্যাপারই নয়। এজন্য বেআইনি কাজ বন্ধ ও মানবসৃষ্ট জটিলতা রোধ করতে হবে। এনবিআর চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, বন্দর থেকে যে সংস্থা পণ্য ডেলিভারি দেবে সেই ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার এবং যে নেবে সেই সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের লোক থাকলেই হয়। এখানে ব্যাংকগুলো বা শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অফিস ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখতে বলা হচ্ছে। এটার কোনো প্রয়োজন নেই। ঢাকায় ব্যাংক থেকে আমদানি পণ্যের যে ডকুমেন্ট যুক্ত করা হয় তার স্বাক্ষর ‘ভেরিফাই’ করতে চট্টগ্রামে আবারও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখায় যেতে হচ্ছে আমদানিকারকদের। আইনে এ ধরনের বাধ্যবাধকতাও নেই। ভেরিফাইংয়ের নামে ৪০০ টাকা আদায়ের জন্যই এমন জটিলতা তৈরি করা হয়েছে। এটা মানবসৃষ্ট জটিলতা। এসআরও ১৮/২০০৮ এ স্পষ্ট বলা আছে, ফরোয়ার্ডার পণ্য ডেলিভারি দেবে। এখানে ব্যাংক বা শিপিং কোম্পানিগুলোর কোনো কাজ নেই। পণ্য খালাস বা ডেলিভারির ক্ষেত্রে সামন্ত যুগের যেসব প্রথা বা সিদ্ধান্ত রয়েছে তার পরিবর্তন আনতে হবে। মাহবুব চৌধুরীর এ বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেন এনবিআর চেয়ারম্যান। বন্দরে জাহাজ জট অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছে গেছে উল্লেখ করে চেম্বার প্রতিনিধি অঞ্জন শেখর দাশ বলেন, বহির্নোঙ্গরে একটি জাহাজকে ১০ থেকে ১৫ দিন অবস্থান করতে হচ্ছে। বন্দর ত্যাগ করতে সব মিলিয়ে প্রায় ২০ দিন সময় চলে যাচ্ছে। ফলে সি শিপমেন্ট না করে এয়ারশিপমেন্ট করতে হচ্ছে। অতিরিক্ত টাকা খরচ করেও বায়ার হারাতে হচ্ছে। একজন রফতানিকারকের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ওই ব্যবসায়ী জাহাজে পণ্য পাঠাতে না পেরে এয়ার শিপমেন্ট করেছেন। কিন্তু এরপরও বায়ার আর অর্ডার দেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। ফলে অনেক দেশে এয়ার শিপমেন্ট করা যাচ্ছে না। এতে দেশের অর্থনীতি পিছিয়ে পড়ছে। এছাড়া দিনের পর দিন পড়ে থাকায় কোটি কোটি টাকা ডেমারেজ গুনতে হচ্ছে আমদানিকারকদের। শিল্পকারখানার কাঁচামাল যথাসময়ে খালাস নিতে না পারায় ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন।
আরেক ব্যবসায়ী বলেন, বেসরকারি ডিপোতে ইকুইপমেন্ট সংকট রয়েছে। কোনো কোনো ডিপো ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত কনটেইনার নিয়ে জট পাকায়। আবার কোনো কোনো ডিপো খালি পড়ে থাকে। সেখানে আবার ২৪ ঘণ্টা কাস্টমস কর্মকর্তারা থাকেন না। বাসায় গিয়ে ফাইল সই করে আনতে হয়। প্রত্যুত্তরে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, এখন থেকে বাসায় গিয়ে ফাইল স্বাক্ষর করে আনতে হবে না। অফডকে ২৪ ঘণ্টা কাস্টমস কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু বলেন, বন্দর-কাস্টম ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা হলেও লজিস্টিক সাপোর্ট না থাকলে সেবা পাওয়া যাবে না। দ্রুত জাহাজ জট নিরসন, বন্দরের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ক্রয়, নিলাম পণ্যের কনটেইনার দ্রুত খালাস, তাৎক্ষণিক পণ্য ডেলিভারি, স্ক্যানারের সংখ্যা বৃদ্ধি ও দক্ষ কর্মচারী, কাস্টমসের লোকবল সংকট দ্রুত নিরসন করতে হবে।
সভায় চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম খালেদ ইকবাল বলেন, নতুন একটি ইয়ার্ডে অকশানের কনটেইনার সরিয়ে নেয়ার পাশাপাশি পুরোদমে নাইট নেভিগেশন চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এফসিএল কনটেইনার ডেলিভারি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। এনসিটির ৮০ শতাংশ যন্ত্র ক্রয়ের সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। ফলে ২৪ ঘণ্টা সেবা পেতে কোনো সমস্যা হবে না। তবে এক্ষেত্রে ব্যাংকের সহযোগিতা দরকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত