যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ২৩ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
ষোড়শ সংশোধনী প্রসঙ্গে ড. কামাল হোসেন
বিচার বিভাগে হস্তক্ষেপের চেষ্টা চলছে
সবাই কি পাগল * বিচার বিভাগ রেফারির ভূমিকা পালন করে * জোট করে ভোটে যাবে গণফোরাম
বিশিষ্ট আইনজীবী ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ‘সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেয়া বিচার বিভাগের রায়ের বিকৃত ব্যাখ্যা দিয়ে দেশে অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে প্রকারান্তরে বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপের চেষ্টা চলছে। এই প্রবণতা সত্যিই দুঃখজনক।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি রাষ্ট্রে তিনটি বিভাগ থাকে- আইনসভা, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগ। আইনসভা ও নির্বাহী বিভাগের মাঝে রেফারির ভূমিকা পালন করে বিচার বিভাগ। রেফারি না থাকলে দ্বন্দ্ব-সংঘাত কে রোধ করবে? সংবিধানেই বিচার বিভাগকে সেই ক্ষমতা দেয়া আছে।’
শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির বর্ধিত সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে ড. কামাল হোসেন এসব কথা বলেন। প্রায় ৪০টি জেলা থেকে আগত শতাধিক মাঠনেতা এ সভায় অংশ নেন। বর্তমান বাস্তবতায় দলের পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করতেই মূলত বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়। বৈঠকে জোট করে ভোট করার সিদ্ধান্ত হয়।
বর্ধিত সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে ড. কামাল হোসেন বলেন, “বর্তমান সংবিধান বঙ্গবন্ধুর হাতে তৈরি। এ সংবিধান ছুড়ে ফেলার ক্ষমতা তার মেয়েরও নেই। যারা এখন এই সংবিধান নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আমাদের চাইতেও বেশি মায়াকান্না দেখাচ্ছেন তাদের অবস্থা ‘মায়ের চাইতে মাসির দরদ বেশি’র মতন। এরা না জেনে না পড়ে সমালোচনা করছে। আর আমাদের পাগল বলছেন। আমার না হয় বয়স আশি বছর। এ কারণে না হয় পাগলই হলাম। কিন্তু আমার সঙ্গে আরও নয়জন অ্যামিকাস কিউরি (বিশিষ্ট আইনজীবী) এ বিষয়ে আদালতে শুনানিতে অংশ নিয়ে মত দিয়েছেন, সাতজন বিচারক ঐকমত্যের ভিত্তিতে রায় দিয়েছেন- তাহলে কি তারা সবাই পাগল?”
এ ইস্যুতে যারা সমালোচনা করছেন তাদের আরও পড়াশোনা করার আহ্বান জানিয়েছেন ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘দয়া করে একটু পড়–ন। জানার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে আমাদের সহায়তা নিন। চাইলে আমরা কাগজপত্র পাঠিয়ে দেব। পড়ার পর সমালোচনা করুন। বাহাত্তর সালে আমি কি বলেছি, আর এখন কি বলেছি, মিলিয়ে নিন। তখনকার বাস্তবতা আর এখনকার বাস্তবতা এক নয়, আমি সেটাই বলেছি। অন্যরাও একই কথা বলেছেন।’ তিনি বলেন, ‘আসলে তারা পড়বেনই বা কখন? তারা তো অনেক ব্যস্ত, পড়ার সময় নেই। তারা ব্যস্ত নিজেদের নিয়ে। ষোড়ষ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে সংসদে যেভাবে কথা বলা হয়েছে তা দুঃখজনক। এ নিয়ে আলোচনার মধ্য দিয়ে সংসদ সদস্যরা নিজে থেকেই প্রমাণ করেছেন যে, তারা কতটা অযোগ্য। যদিও বর্তমান সংসদের বেশিরভাগ সদস্যই বিনা ভোটের। এই ভুয়া জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে এর বেশি আশা করাও যায় না।’
জানা গেছে, বৈঠকে জোট করে ভোট করার সিদ্ধান্ত হয়। এ সময় মাঠনেতারা বলেন, আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি- এই দুই দলকেই লাল কার্ড দেখিয়ে এদের বাইরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক-প্রগতিশীলদের নিয়ে নয়া জোট গঠন করতে হবে। ফলাফল যাই হোক তা মেনে নিয়ে এ জোট ভোটে যাবে।
দলের নেতাদের উদ্দেশে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘যতটা পারেন আমার নাম উচ্চারণ কম করবেন। আমার নাম উচ্চারণ করাটাও এখন পাপ।’ তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ উদ্বিগ্ন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। নিজের দলের হাতেই নিজ দলের নেতাকর্মী খুন হচ্ছে। প্রতিদিন ধর্ষণের খবর পত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছে। দেশ বন্যায় ডুবছে। পাহাড় ধসে মানুষ মরছে। শিক্ষা ব্যবস্থা লাটে উঠেছে। শিক্ষার নামে চলছে কোচিং ব্যবসা। অথচ সরকার নির্বিকার। তারা ব্যস্ত নিজেদের নিয়ে।’
তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের সময় সরকার বলেছিল, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে তারা এ নির্বাচন করতে বাধ্য হচ্ছে। নির্বাচনের পরপরই সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সব দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আয়োজন করা হবে। সংবাদপত্রে এসব খবর প্রকাশিত হয়েছে। এরপর চার বছর চলে গেল। আলাপ-আলোচনা আর হল না। কবে তারা আলাপ-আলোচনার উদ্যোগ নেবে, ডাক দেবে- আমরা সেই অপেক্ষায় আছি।’
ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘আলোচনায় বসলে আমরা অবশ্যই আমাদের পরামর্শ ও মতামত তুলে ধরব।’ আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কোনো রূপরেখা দেবেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা আলাপ-আলোচনার পর্যায়েই থাকতে চাই। নির্বাচন নিরপেক্ষ আয়োজনে যাদের ওপর দায়িত্ব অর্পিত, তারা যদি নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে কারও কোনো অভিযোগ থাকবে না। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে- সরকার কি চায়।’
সংবাদ সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট খালেকুজ্জামান, জানে আলম, আওম শফিকউল্লাহ, কেন্দ্রীয় নেতা জগলুল হায়দার আফ্রিক, মোশতাক হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত