যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ২৪ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
হাসি-কান্নার কাব্য
ইংরেজির ধাক্কায় ফল বিপর্যয় : শিক্ষা ব্যবস্থার মূল সংকট দক্ষ ও মেধাবী জাতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে, পাস-ফেল নির্ণয় কিংবা খাতা অতিমূল্যায়ন-অবমূল্যায়নে প্রশ্নে নয়। * এক বিষয়েই সারা দেশে ২২ এবং কুমিল্লা বোর্ডে ৩৮ শতাংশ শিক্ষার্থী ফেল * গড় হিসাবে কুমিল্লা বোর্ডের রেজাল্টের বিরূপ প্রভাব * কারণ অনুসন্ধানে বিকালেই জরুরি সভা
এইচএসসির ফল প্রকাশের পর রোববার রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের উল্লাস -যুগান্তর

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার পাসের হারে ইংরেজির ধাক্কা লেগেছে। সারা দেশে ১০ শিক্ষা বোর্ডে শুধু ইংরেজিতেই ফেল করেছে ২২ শতাংশ ছাত্রছাত্রী। এর মধ্যে কুমিল্লা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি। এ বিষয়ে ফেলের হার শতকরা ৩৮ ভাগ। শুধু এ একটি বিষয়ের কারণেই বোর্ডটির (কুমিল্লা) অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী ফেল করেছে। রোববার একযোগে ১০ শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। মোট পাসের হার ৬৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১১ লাখ ৬৩ হাজার ৩৭০ শিক্ষার্থী। পাস করেছে ৮ লাখ ১ হাজার ৭১১ শিক্ষার্থী। গত বছর ১০ বোর্ডে মোট পাস করেছিল ৭৪.৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী। সেই হিসাবে এ বছর পাসের হার কমেছে ৫.৭৯ শতাংশ। এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৭ হাজার ৯৬৯ জন। গত বছর ছিল ৫৮ হাজার ২৭৬ জন। জিপিএ-৫ কম পেয়েছে ২০ হাজার ৩০৭ শিক্ষার্থী।

সাধারণ আট শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসিতে এবার গড় পাসের হার ৬৬.৮৪ ভাগ। গত বছরের চেয়ে এ হার কমেছে শতকরা ৫.৬৩ ভাগ। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৩ হাজার ২৪২ শিক্ষার্থী। আগের বছরের চেয়ে জিপিএ-৫ এর সংখ্যা কমেছে ১৫ হাজার ৭০৮টি। ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ৫ বছরের মধ্যে এবারের পাসের হার সর্বনিম্ন। ফল প্রকাশের পর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেমন শিক্ষার্থীদের উল্লাসে মেতে উঠতে দেখা গেছে, তেমনি কাক্সিক্ষত ফল না পাওয়ায় অনেককেই কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেছে।

শিক্ষাবিদরা মনে করেন, পাস-ফেল নির্ণয় কিংবা খাতা অতিমূল্যায়িত হল না অবমূল্যায়ন হল, সে বিষয়ে বাগাড়ম্বর করাই হয়ে গেছে বর্তমানে শিক্ষা ব্যবস্থার লক্ষ্য। কিন্তু আমাদের মূল সংকট হচ্ছে দক্ষ ও মেধাবী জাতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে। জাতীয়ভাবে আমরা এ সংকট আজও উত্তরণ ঘটাতে পারিনি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সে ব্যবস্থা নিতে পারেনি। মেধাবী জাতি গঠনে দরকার শিক্ষা পদ্ধতির প্রয়োজনীয় পরিবর্তন। আমাদেরকে ওই জায়গায় হাত দিতে হবে। সেভাবে গড়ে তুলতে হবে শিক্ষা ব্যবস্থা।

বরেণ্য শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা বর্তমানে পরীক্ষার্থী তৈরি করছি, শিক্ষার্থী নয়। শিক্ষামন্ত্রী বলছেন যে, একসময়ে খাতা অতি বা অবমূল্যায়িত হতো। কিন্তু যখন এ নিয়ে কথা উঠেছিল, তখন তিনি তা স্বীকার করেনি।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে পরীক্ষা কত সুন্দরভাবে নেয়া গেল, মান কিভাবে বণ্টন করা গেল আর জিপিএ-৫ কত পার্সেন্ট পেল। একসময়ে তো এটা বড়াই করে বলা হতো। অথচ এখন বলা হচ্ছে আমরা মূল্যায়নের একটা সঠিক পদ্ধতি বের করেছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা শিক্ষা নিয়ে কখনই গভীরভাবে ভাবিনি। শিক্ষায় মন্ত্রণালয়-সর্বস্ব নিয়ম-কানুন চালু আছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) অনিয়ম-দুর্নীতি, সিন্ডিকেট বাণিজ্য, নোট-গাইড-কোচিং বাণিজ্য ইত্যাদি বিস্তার লাভ করেছে, সেখানে আমাদের শিক্ষার্থীরা কোনোদিন প্রকৃত শিক্ষাটা পাবে না। শিক্ষায় মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে। একবার পরিবর্তন আনলে তা ৫-৭ বছর রাখতে হবে। শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর গিনিপিগ বানানো যাবে না।’

এ প্রসঙ্গে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহাবুবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, এবার খারাপ ফলের পেছনে ইংরেজি বড় ভূমিকা রেখেছে। ঢাকা বোর্ডে ইংরেজিতে পাসের হার গত বছরের চেয়ে ১০ শতাংশ কম। তবে আরও কয়েকটি কারণ আছে। গড়পড়তা নম্বর দেয়ার ব্যাপারে আমরা পরীক্ষকদের সতর্ক করেছিলাম। প্রধান পরীক্ষকরা ১২ শতাংশ খাতা দেখেন কিনা তা ভালোভাবে মনিটর করা হয়। যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল আলিম এবং কুমিল্লা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল খালেকও পরীক্ষার ফল বিপর্যয়ের জন্য ইংরেজিকে দায়ী করেছেন।

এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফল খারাপের নেপথ্যে আরও দুটি বড় কারণ চিহ্নিত করেছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, তৃতীয় কারণটি হচ্ছে, কড়াকড়ির জন্য কমেছে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা এবং পরীক্ষার হলে নকল প্রবণতা। গত বছর পর্যন্ত খোদ শিক্ষকদের বিরুদ্ধেই পরীক্ষার হলে নকলে সহায়তা বা নকল সরবরাহের অভিযোগ ছিল। অনেকে পরীক্ষার আগে প্রশ্ন ফাঁস করে দিতেন। এবার এর ব্যাপকতা কমেছে। চতুর্থ কারণটি হচ্ছে, পরীক্ষার খাতা দেখায় কড়াকড়ি। আগে গড়ে নম্বর দেয়ার অভিযোগ ছিল ব্যাপক। উত্তরপত্র মূল্যায়নে জবাবদিহিতা ছিল না। এবার সেই জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। প্রধান পরীক্ষকদের জন্য ১২ শতাংশ খাতা মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে উদারভাবে খাতা দেখা বা গড়পড়তা নম্বর দেয়ার প্রবণতা কিছুটা কমিয়েছে।

তবে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ফল খারাপের জন্য চতুর্থ কারণটিকেই বড় করে দেখাচ্ছেন। সকালে প্রধানমন্ত্রীর হাতে ফলাফলের সার-সংক্ষেপ তুলে দেয়ার পর তাৎক্ষণিক ব্রিফিংয়ে সংবাদ মাধ্যমে এ তথ্য জানান। পরে দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। সেখানেও তিনি একই কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা অভিজ্ঞতায় দেখেছি, অতীতে ঠিকমতো খাতা মূল্যায়ন হতো না। উত্তরপত্র অবমূল্যায়ন বা অতিমূল্যায়ন হতো। এমনকি ওজন করে বা অনুমান করে নম্বর দেয়া হয় বলে কেউ কেউ অভিযোগ করতেন। সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে ৩ বছর ধরে পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা হয়েছে। এরপর নতুন পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়েছে। এবার ১২ শতাংশ খাতা প্রধান পরীক্ষকের দেখা বাধ্যতামূলক ছিল। উত্তরপত্র মূল্যায়নে মডেল উত্তর দেয়া হয়। এসব কারণে ফল কিছুটা খারাপ হয়েছে।’

তবে শিক্ষামন্ত্রীর এ বক্তব্যর সঙ্গে একমত নন পরীক্ষা-সংশ্লিষ্টরা। নাম প্রকাশ না করে একাধিক বোর্ডের চেয়ারম্যান যুগান্তরকে বলেন- যদি তাই হয়, তবে সিলেট এবং বরিশাল বোর্ডের ফল গত বছরের চেয়ে ভালো হল কিভাবে? এ দুই বোর্ডের মধ্যে শুধু সিলেটেই প্রায় সাড়ে ৩ শতাংশ বেশি পাস করেছে। যদি খাতা দেখায় নতুন পদ্ধতি বা মডেল উত্তর প্রভাব রাখত, তাহলে এই দুটি বোর্ডে ফল আগের চেয়ে ভালো হতো না। চেয়ারম্যানরা আরও বলেন, বরং নকল প্রবণতা হ্রাস এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে পরীক্ষা নেয়ার প্রভাব পড়েছে। ইংরেজিতে বেশি ফেল এবং কুমিল্লা বোর্ডের কম পাসের হারও ফল বিপর্যয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।

গত বছরের চেয়ে পাসের হার সাড়ে ৩ শতাংশ বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এএসএম গোলাম কিবরিয়া তাপাদার যুগান্তরকে বলেন, ‘দুটি কারণে আমার বোর্ডে ফল আগের চেয়ে ভালো হয়েছে।’ তিনি বলেন, ইংরেজিসহ কঠিন বিষয়ে বেশি যতœ নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাধারণত এসব বিষয়ে শিক্ষার্থী বেশি ফেল করে। এ ছাড়া চার জেলায় চারটি সচেতনতামূলক সেমিনার করা হয়েছে। এটাও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

বিভিন্ন বোর্ডের পাসের হার ও জিপিএ-৫ : ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৬৯.৭৪ শতাংশ, জিপিএ-৫ ১৮ হাজার ৯৩০টি। রাজশাহীতে পাসের হার ৭১.৩০ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ২৯৪ জন। কুমিল্লায় পাসের হার ৪৯.৫২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৭৮ জন। যশোরে পাসের হার ৭০.০২ শতাংশ, ২ হাজার ৪৪৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। চট্টগ্রামে পাসের হার ৬১.০৯ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৩৯১ জন। বরিশালে পাসের হার ৭০.২৮ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮১৫ জন। সিলেটে পাসের হার ৭২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭০০ জন। দিনাজপুরে পাসের হার ৬৫.৪৪ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৯৮৭ জন। মাদ্রাসা বোর্ডে পাসের হার ৭৭.০২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৮১৫ জন। কারিগরি বোর্ডে পাসের হার ৮১.৩৩ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৬৬৯ জন। এ ছাড়া ঢাকা বোর্ডের অধীনে ডিপ্লোমা ইন বিজনেস স্টাডিজ পরীক্ষা নেয়া হয়। এতে পাসের হার ৭১.৫৮ শতাংশ, আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৪৩ জন।

জরুরি সভা : পরীক্ষার ফল বিপর্যয়ের কারণে রোববার বিকালেই বিভিন্ন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকদের নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়। ঢাকা বোর্ডে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের আহ্বায়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহাবুবুর রহমান। সূত্র জানায়, বৈঠক থেকে পরীক্ষার ফল বিশেষ করে ইংরেজির ফল এত খারাপ কেন হল- এর কারণ অনুসন্ধানের নির্দেশ দেয়া হয়। বাংলাদেশ পরীক্ষা উন্নয়ন ইউনিটকে (বেডু) খারাপ ফল অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়া হবে বলে জানা গেছে।

ইংরেজি-ঝড়ে লণ্ডভণ্ড : সাতটি বিষয়ের পাসের হার পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বাংলায় সারা দেশে ৯৪ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী পাস করেছে। আইসিটিতে পাস করেছে প্রায় ৯১ শতাংশ শিক্ষার্থী। রসায়ন এবং পৌরনীতিতে পাস করেছে যথাক্রমে ৯৩.৬১ এবং ৯৪.৪০ শতাংশ। কিন্তু পদার্থ এবং হিসাববিজ্ঞানে পাসের হার ৯০ শতাংশের নিচে নেমেছে। পদার্থবিজ্ঞানে ৮৮.৮৮ শতাংশ এবং হিসাববিজ্ঞানে ৮৭.৪৯ শতাংশ পাস করেছে। কিন্তু বোর্ডগুলো লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে ইংরেজি-ঝড়ে। এ বিষয়ে শুধু কুমিল্লাই নয় অন্যান্য বোর্ডও খারাপ করেছে। ইংরেজিতে ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৭৬.৬৬ শতাংশ। রাজশাহীতে ৭৪.৭১, যশোরে ৭২.৯৫, চট্টগ্রামে ৭৩.১০, বরিশালে ৭২.৪১, সিলেটে ৮২.৩৩ ও দিনাজপুরে ৭০.৩০ শতাংশ। এ ছাড়া মাদ্রাসা বোর্ডে ৯০.৮৫ শতাংশ পাস করেছে।

দেখা গেছে, ইংরেজিতে যেসব বোর্ডের পাসের হার ভালো, সেগুলো মোট পাসের হারও এগিয়ে। যেমন- ৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে সিলেটে পাসের হার সবচেয়ে বেশি ৭২ শতাংশ। এই বোর্ডে ইংরেজিতে পাসের হারও বেশি। তবে ইংরেজিতে সবচেয়ে ভালো করেছে মাদ্রাসা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা। ওই বোর্ডের সার্বিক পাসের হারও ৯ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে বেশি।

৫ বছরে সর্বনিম্ন ফল : গত ৫ বছরের মধ্যে এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সবচেয়ে খারাপ ফল হয়েছে। গত বছর ২০১৬ সালে পাসের হার ছিল ৭৪ দশমিক ৭০ শতাংশ। ২০১৫ সালে পাসের হার ছিল ৬৯ দশমিক ৬০ শতাংশ। ২০১৪ সালে পাসের হার ছিল ৭৮. ৩৩ এবং ২০১৩ সালে ছিল ৭৪.৩০ শতাংশ। অপরদিকে রোববার প্রকাশিত ফলে দেখা গেছে, এইচএসসি, আলিম ও এইচএসসি (বিএম) পরীক্ষায় মোট পাসের হার ৬৮ দশমিক ৯১ শতাংশ।

এমসিকিউতে ৩০ নম্বর : গত কয়েক বছর ধরে পরীক্ষার আগে এমসিকিউ প্রশ্ন ফাঁস করে দেয়া বা উত্তর বলে দেয়ার একটা রেওয়াজ তৈরি হয়। এটা বন্ধে এমসিকিউর পূর্ণ নম্বর ৪০ থেকে ৩০ নম্বর করা হয়। পাশাপাশি এই প্রশ্ন ফাঁস রোধে বোর্ড চেয়ারম্যান তৎপর ছিলেন। এর একটি ধাক্কাও লেগেছে ফলে। কেননা, এবার অনেকেই গণহারে এই প্রশ্ন পেয়ে উত্তর লিখতে পারেনি। আবার ৩০ নম্বর করায় জিপিএ-৫ পাওয়ার হারও কমেছে। কেননা, ৮০ না পেলে জিপিএ-৫ হয় না। এমসিকিউ ৩০ করায় সৃজনশীলে লিখে ৫০ ওঠানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

চার সূচকই নিম্নগামী : ভালো ফলের সূচক হিসাবে চারটি দিক ধরা হয়। এগুলো হল : পাসের হার, মোট জিপিএ-৫-প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা, শতভাগ ও শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা। এবার সব কটিই নিম্নমুখী। এ বছর ১০ বোর্ডে মোট পাসের হার গত বছরের চেয়ে কম। কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা। অপরদিকে গত বছর শতভাগ পাস করা কলেজ ও মাদ্রাসা ছিল ৮৪৮টি, এবার কমে দাঁড়িয়েছে ৫৩২টি। শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানও বেড়েছে। গত বছর ছিল ২৫টি, এবার বেড়ে হয়েছে ৭২টি।

ফল পুনর্নিরীক্ষা : মোবাইল অপারেটর টেলিটকের মাধ্যমে আজ থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের ফল পুনর্নিরীক্ষার আবেদন করা যাবে। ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে জঝঈ লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্ব^র লিখে স্পেস দিয়ে বিষয় কোড লিখে ১৬২২২ নম্ব^রে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফি বাবদ কত টাকা কেটে নেয়া হবে তা জানিয়ে একটি পিন নম্ব^র দেয়া হবে। আবেদনে সম্মত থাকলে জঝঈ লিখে স্পেস দিয়ে ণঊঝ লিখে স্পেস দিয়ে পিন নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে যোগাযোগের জন্য একটি মোবাইল নম্ব^র লিখে ১৬২২২ নম্ব^রে এসএমএস পাঠাতে হবে। প্রতিটি বিষয় ও প্রতি পত্রের জন্য দেড়শ’ টাকা হারে চার্জ কাটা হবে। যেসব বিষয়ের দুটি পত্র (প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র) রয়েছে ওইসব বিষয়ের ফল পুনর্নিরীক্ষার আবেদন করলে দুটি পত্রের জন্য মোট ৩০০ টাকা ফি কাটা হবে। একই এসএমএসে একাধিক বিষয়ের আবেদন করা যাবে। এ ক্ষেত্রে বিষয় কোড পর্যায়ক্রমে ‘কমা’ দিয়ে লিখতে হবে।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত